চাঁদপুরে মেঘনায় ৫৫ ইলিশ শিকারীর জেল-জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার : ইলিশ প্রজনন রক্ষায় অভয়াশ্রম এলাকা গত ২৪ ঘন্টায় চাঁদপুরের মেঘনা নদীর মতলব উত্তর থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত টাস্কফোর্সের অভিযানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের দায়ে আটক ৫৫ জেলের মধ্যে ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা ও ভ্রাম্যমান আদালতে কারাদন্ড হয়েছে। বাকী ১৫ জনকে পৃথক অংকে মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসি বেগম, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান মাহমুদ ডালিম, উজ্জ্বল হোসেন ও অলিদুজ্জামান।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, চাঁদপুর সদর উপজেলা টাস্কফোর্সের অভিযানে আটক ১৬ জেলের মধ্যে ৯ জনকে ১ বছর ও ৭জনকে ১ মাস করে কারাদন্ড দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অলিদুজ্জামান। অপর অভিযানে আটক ২ জনকে ২ হাজার ৫শ’ টাকা করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জল হোসেন এবং আরো আটক আট জেলের মধ্যে ৩ জনকে ১মাস করে কারাদন্ড এবং ৫ জনকে ২ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান মাহমুদ ডালিম।

এছাড়াও চাঁদপুর সদর নৌ থানা ও আলু বাজার পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে আটক ২১ জেলের বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে।
হাইমচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, আজ ভোর ৪টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত উপজেলার আখনের হাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৮ জেলেকে আটক করা হয়। দুপুর ১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ৮ জেলেকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সময় অভিযানে এসব জেলেসহ নদী থেকে দেড় লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল ১ লাখ মিটার নিষিদ্ধ সুতার জাল, ৭০ কেজি ইলিশ ও ১টি ইলিশ ধরার বড় নৌকা জব্দ করা হয়।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী জানান, গত ২৪ ঘন্টায় অভয়াশ্রম এলাকায় ১৬টি অভিযান করা হয়। এর মধ্যে ৪টি ভ্রাম্যমান আদালতে ১৯ জনের কারাদন্ড জেলেদেরকে ২১ জনের জেল ও ১৫ জনের জরিমানা করা হয়। জব্দ হয়েছে ২৬৮ কেজি ইলিশ ও ১২ লাখ মিটার কারেন্ট ও সুতার জাল। এসব ঘটনায় চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলায় মামলা হয়েছে ৬টি।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, জেলা টাস্কফোর্সের নিয়মিত অভিযান ছাড়াও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পেশাল টিম প্রতিদিন নিয়মিত অভিযান করছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণে নিষিদ্ধ কারেন্টজাল জব্দ হচ্ছে। টাস্কফোর্সের অভিযানে এ পর্যন্ত আটক হয়েছে ১০৮জন জেলে। কিন্তু জেলেরা প্রশাসনের অভিযানের টের পেয়ে পালিয়ে যাচ্ছে জেলেরা। তবে জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় ৪ নভেম্বর পর্যন্ত আমাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

একই রকম খবর