পরিবহন ধর্মঘটে চাঁদপুরে যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ

এমএম কামাল : সড়ক আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে সারা দেশের ন্যায় চাঁদপুরেও ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে চরম দুর্ভোগে পোহাতে হয়েয়ে যাত্রী সাধারনের।

চাঁদপুরে স্মরণ অতীত কালের স্বতস্পূর্ত ধর্মঘট পালন হয়েছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। রোববার সকাল ৬টা থেকে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যান ও লেগুনাসহ কোন ভারি যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।

এদিকে হঠাৎ ধর্মঘটে আবাল, বৃদ্ধা বনিতাসহ সকল পেশাজীবি যাত্রী সাধারনকে পরতে হয়েছে চরম দূর্ভোগে। বেশি সমস্যায় পরতে হয়েছে চাকুরিজীবিদের। যানবাহন না থাকায় অনেকেই পায়ে হেটে কর্মস্থলে গিয়েছে।

ধর্মঘটের কারনে শহরের বাসষ্ট্যান্ড, পুরান বাজার-নতুন বাজার সেতু, ষোলঘর, ওয়ারল্যাস মোড়, কালিবাড়ি, সিএনজি স্ট্যান্ড, বিপনীবাগ, মিশন রোড, চিত্রলেখা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন না থাকায় যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

জেলার অভ্যন্তরীণ রুটেও কোন বাস-ট্রাক চলাচল করতে দেখা যায়নি। এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। তবে লঞ্চ চলাচল ছিলো স্বাভাবিক।

এদিকে সকালে চাঁদপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার সব ধরনের বাস বন্ধ রাখা হয়েছে। খোলা হয়নি কোনো বাস কাউন্টার। বাস না পেয়ে অনেক যাত্রী বাড়ি ফিরে গেছেন।

মহাসড়ক ছিলো রিক্সা ও ভ্যানের রাজত্ব। ১০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা। গন্তব্যে পৌঁছাতে তাতেও কোন আপত্তি ছিলো না যাত্রীদের।

এদিকে সকাল ৮টা থেকে শহরের বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় জেলা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়ন, মটরযান চালক লীগসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনকে রাস্তায় আন্দোলন করতে দেখা গেছে। এসময় তারা রিক্সা, মোটরসাইকেল ও ভ্যান ছাড়া কোন যানবাহন চলাচল করতে দেয়নি।
এ ব্যপারে জেলা বাস মালিক সমিতিরসহ সভাপতি শাহির পাটওয়ারী জানান, শ্রমিকরা দাবি আদায়ে কর্মবিরতি করেছে। তারা গাড়ি না চালালে আমরা মালিকরা কি করবো।

জেলা মটর চালক লীগের সভাপতি আনোয়ার গাজী জানায়, শ্রমিকের ৪৮ ঘন্টার আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়। এ আন্দোলন চালকের নিরাপত্তা ও অধিকারের আন্দোলন। চালকের যদি ফাঁসি হয় তাহলে সড়কে গাড়ি চালাবেকে। চালক কেন জামিন পাবে না। এ আইন বাতিল করতে হবে।

প্রসঙ্গত সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে শনিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে পাস হয় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮। এতে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের চালক জামিন পাবেন না বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে চালক অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হলে ৩০২ ধারায় ফাঁসির বিধান রাখা হয়।

একই রকম খবর

Leave a Comment