চাঁদপুর জেলা কারাগারের সরকারি চাল চুরি করে খোলাবাজারে বিক্রি !

স্টাফ রির্পোটার : চাঁদপুর জেলা কারাগারের বরাদ্দকৃত সরকারি চাল চুরি করে ঠিকাদার ভরত ঘোষের মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিমাসে জেলা কারাগারে ১৯ টন চাল ও ৪ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দকৃত চালের মধ্যে ৪ থেকে ৫ টন চাল ঠিকাদার ভরতঘোষ সিএসডি গোডাউন থেকে নেওয়ার পথে দালালের মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রি করছে। বৃহস্পতিবার জেলা কারাগারের বরাদ্দকৃত মাল সিএসডি গোডাউন থেকে ঢাকা মেট্রো ট ১১-৫৬৬৪ নাম্বারে একটি ট্রাকে ১৬ টন ৩০০ কেজি চাল ও ৪ টন গম এবং একটি ছোট পিকআপ ১৫-৭২৩২ নাম্বারে গাড়িতে ২ টন ৮০০ কেজি চাল লোড করে কারাগারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

কিন্তু ছোট পিকআপবোঝাই ২ টন ৮০০ কেজি চাল জেলা কারাগারে না নিয়ে সেগুলো নতুন বাজারে একটি দোকানে বিক্রি করে দেয় সেখানে নামিয়ে ফেলে। জেলা কারাগারের সরকারি চাল দোকানে নামানোর সময় সাংবাদিকরা সেই ভিডিও ধারণ করেন।

পরবর্তীতে জেলা কারাগারে গিয়ে দেখা যায় ১১-৫৬৬৪ নাম্বারে একটি ট্রাকে ১৬ টন ৩০০ কেজি চাল ও ৪ টন গম নেওয়া হলেও বাকি মাল আসেনি।

ঘটনাটি তাৎক্ষণিক চাঁদপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিস ও জেল সুপারকে অবহিত করা হলে তারা গুরুত্বসহকারে বিষয়টি দেখবে বলে জানান।

তবে দীর্ঘদিন যাবত জেলা কারাগারের ম্যানেজার বিকাশ ও খাদ্য সরবরাহ কারী ঠিকাদার ভরত ঘোষ চাল চুরি করে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

চাল চুরির ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ঠিকাদার ভারত ঘোষ দুই ঘন্টা পর নতুন বাজারে সেই দোকান থেকে পুনরায় বিক্রি করা চালগুলো গাড়িতে উঠিয়ে জেলা কারাগারে নিয়ে আসে।

এ সময় ঠিকাদার ভারত ঘোষের কাছে চাল বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন ও ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। জেলা কারাগারের দুর্নীতিবাজ ম্যানেজার বিকাশ গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন ভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে সংবাদ প্রচার না করার জন্য অনুরোধ করেন।

তবে দীর্ঘদিন যাবৎ চাঁদপুর জেলা কারাগারে সরকারি বরাদ্দকৃত চাল ও গম চুরি করে বিক্রি করে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। খুব দ্রুত এসকল ঠিকাদার ও জেলা কারাগারের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানান সংশ্লিষ্টরা।

একই রকম খবর