মা ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

আহম্মদ উল্যাহ : চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মা ইলিশ রক্ষায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতি সভা মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান।

তিনি বলেন, সরকার আগামী ৭ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনব্যাপী মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচির সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এ সময় যাতে নদীতে নেমে অসাধু জেলেরা মা ইলিশ ধরতে না পারে সেজন্যে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিছু অসাধু মৌসুমী মৎস্য ব্যবসায়ী আড়তদার চরাঞ্চলের বিভিন্ন খালে অস্থায়ীভাবে আড়ত তৈরি করে জেলেদের দিয়ে মা ইলিশ ধরায়। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং চরাঞ্চলের অস্থায়ী আড়তগুলো উচ্ছেদ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে এখন থেকেই জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে। নদীর পাড়ের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সভা করা হবে। কোনোভাবেই মা ইলিশ ধরতে দেয়া হবে না। অভিযান চলাকালে চাঁদপুরের বরফকলগুলো বন্ধ থাকবে। বাইরে থেকে যাতে বরফ না আসে সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি করা হবে। মূলতঃ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে মা ইলিশ নিধন করা হয়। তাই এখন থেকে কারেন্ট জাল বিরোধী অভিযান জোরদার করা হবে। ইলিশকে কেন্দ্র করে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’ হিসেবে জেলা ব্র্যান্ডিং হয়েছে। আমাদেরকে এ সম্মান ধরে রাখতে হবে।

এসময় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব নাছির উদ্দিন আহমেদ। তিনি তাঁর বক্তব্য বলেন, ইলিশ হলো আমাদের জাতীয় সম্পাদ, এ সম্পদকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে মৎস্য সম্পদ এর লক্ষমাত্রা ছিলো ২৩ লাখ মে.টন। বর্তমানে মৎস্য সম্পদ উৎপাদন এর লক্ষমাত্রা ৪৭লাখ মে.টন, এর মধ্য ইলিশ মাছ হলো ৫ লাখ মে.টন। ইলিশ মাছের মত অন্যকোনো মাছ এ রকম স্বাদ পাওয়া যায় না। এ জন্যই জাতীয় সম্পদ ইলিশকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।

আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদাক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরার জন্যে টোকেন বিক্রি হয়। আপনারা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। আমরা যারা দলীয় অথবা জনপ্রতিনিধি আছি এ বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে কাউকে ছাড়া দেয়া হবে ন।

সভার শুরুতে গত সভার প্রতিবেদন তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শওকত ওসমান।

এসময় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ জামাল হোসেন, চাঁদপুর জেলা পুলিশের প্রতিনিধি অতরিক্তি পুলশি সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধূরী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী, চাঁদপুর মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক দেওয়ান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, হাইমচর উপজেলা চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী ,চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জীবন ,চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফিউদ্দিন, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম সাইফুল হক , চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বাপন মাহমুদ, রাজরাজেস্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হযরত আলী, চেয়ারম্যান শাখওয়াত হোসেন রনি পাটওয়ারী, চেয়ারম্যান মামুন, মৈশাদী ইউনিয়নের প্রতিনিধি ইউপি সচিব আবু বক্কর মানিক, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের সচিব এমএ কুদ্দুস রোকন আখন্দ প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। সভায় বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

একই রকম খবর

Leave a Comment