চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের ভিডিও কনফারেন্স

গাজী মোঃ ইমাম হাসান : পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ কবির বিন আনোয়ার বলেছেন দেশে কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।আমারা দেশের পানি সম্পদ রক্ষা করার জন্য আমাদের কাজগুলো নিয়ম মেনেই করবো।আমরা আইনের লোক,আইনের বিধি মোতাবেকই হবে আমাদের কাজ।যদি কেউ এই নিয়মের বাইরে কোন কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৭ নভেম্বর সকাল ১০ টায় দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে বাংলাদেশ পানি সম্পদ রক্ষা ব্যবস্থাপনা কমিটির ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।পানি সম্পদ রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে টেকশই উন্নয়ন করার উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ কবির বিন আনোয়ার।

ভিডিও কনফারেন্সের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন আমরা নদী,খাল ও ক্যানেলের সমস্ত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করবো।নদীর প্রকৃত গতিপথ ও আসল অবস্থা ফিরিয়ে দিতে বা উদ্ধার করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।নদীর পাড়কে অবৈধ দখলমুক্ত করতে ভারি যন্ত্রপাতি সরবরাসহ নগদ অর্থের যোগান দেওয়া হবে।নদী যেন মৎস্য ও প্রানী সম্পদের নিরাপদ আবাসন হয়, আমরা সেই দিকেই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবো।এই উচ্ছেদ অভিযান নদী রক্ষা করার একটা চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে নিয়মিত পরিচালিত হবে।আগামী ২৩ তারিখ থেকে একযোগে নদীর অবৈধ দখলদারিত্ব উদ্ধার করার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সচিব কবির বিন আনোয়ার আরোও বলেন বর্তমান সরকার উন্নয়ন কাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন মেঘা প্রকল্প গ্রহন ও বাস্তববায়নে কাজ করছে।আমরা উন্নয়ন কাজে কোন অনিয়ম দেখতে চাই না।তবে আমরা জানি সরকার ও প্রশাসনে গুটি কয়েক লুটেরা ও দূর্নীতি বাজরা খাপটি মেড়ে বসে আছে।তাদের বিরুদ্ধে যথাযত ব্যবস্থা নেওয়ার হবে।আবার একটি মহল রয়েছে যারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দূর্নীতির মাধ্যমে কালো টাকার পাহাড় গড়েছেন।তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন আমার চাকুরী জীবনের অবিজ্ঞতা দেখেছি অনেক কর্মকর্তারা টাকার বিনিময়ে সরকারী সম্পত্তি ব্যাক্তির নামে খাজির করে দিয়েছে।

বর্তমান যুগে সারা বিশ্বের জন্য প্লাস্টিক আর পলিথিন এক বিশাল হুমকির নাম।এই কারনে প্রতিনিয়ত পরিবেশ দুষন আর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বর্তমান সরকার পরিবেশকে এই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পলিথিন ও প্লাস্টিকের বিকল্প পরিবেশ বান্ধব বস্তু তৈরির কথা চিন্তা করছে।

তিনি আরোও বলেন নদী রক্ষার এই অভিযান সঠিক ভাবে পরিচালনা করার জন্য সরকারের উচ্চ মহলের একটি মনিটরিং সেল খোলা হবে।দেশের ৬০ টি জেলাকে ৩ ভাগে বিভক্ত করে পর্যায় ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।এই দেশের সংবিধান জাতীর পিতার হাতের লেখা সংবিধান যা সারা বিশ্বের মধ্যে একটি স্পীরিটাস সংবিধান।এই অান্দোলন দেশকে রক্ষার আন্দোলন, মাকে রক্ষার আন্দোলন।

নদী ভাঙ্গন রোধে নদীর পাড়ে ও উদ্ধার হওয়া স্থানে গাছ লাগানো হবে।যদি কেউ অবৈধ ভাবে এই গাছ কর্তন করে তার সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে, এবং তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

তিনি আরোও বলেন পর্যায় ক্রমে নিরাপদ ও সুপীয় পানি সরবরাহ করার জন্য রেইন ও সারফেস ওয়াটার ধরে রাখার জন্য পরিত্যক্ত স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে।

ভিডিও কনফারেন্স শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভাপতির বক্তব্যে রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান।এসময় উপস্থিত ছিলো স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক ও এডিসি মোহাম্মদ উপসচিব মোহাম্মদ শওকত ওসমান,এডিসি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান(রাজস্ব), এডিসি সাবিক এস এম জাকারিয়া, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা অমীত চক্রবর্তী, আবিদা সুলতানা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক আবু বায়হান,সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক রজত শুভ্র সরকার,যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ সামসুদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারা।

একই রকম খবর