ঝুলে আছে চাঁদপুর জেলা ভিক্ষুকমুক্তকরণ প্রকল্প !

আহম্মদ উল্যাহ : চাঁদপুর জেলায় ভিক্ষুকমুক্তকরণের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করেন জনপ্রশাসন পদকপ্রাপ্ত চাঁদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক (যুগ্ম-সচিব ) মো. আব্দুস সবুর মন্ডল। এ ইনোভেশন প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে জেলা ভিক্ষুক মুক্তকরণ, ভিক্ষুকদের পুনবাসণ ও কর্মসংস্থান কর্মসূচী ।

আর এ উদ্যোগকে সফল করতে চাঁদপুর জেলা ও উপজেলার সরকারি-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১দিনের বেতন জমা দিয়েছেন। উক্ত ফান্ডে এ পর্যন্ত জমা পড়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮শ’৫২ টাকা। জনতা ব্যাংক চাঁদপুর এর সঞ্চয়ী হিসাব নং ০১০০০৯৪৯৬৪১০০ । একটি সুষ্ঠু নীতিমালার মাধ্যমে উক্ত টাকা ভিক্ষুকদের জন্য ব্যয় করার সিদ্বান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন । যা কারণে ঝুঁলে আছে জেলায় ভিক্ষুকমুক্ত এ গুরুত্বপুর্ন প্রকল্পটি ।

সেই সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সুপারিশের ভিত্তিতে চাঁদপুর জেলায় মোট ২হাজার ৫শ’ ৮৬ জন ভিক্ষুককের তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এরই মধ্যে পুনর্বাসিত করা হয়েছে, ৪শ’ ২৫ জন। স্থানীয় উপজেলা নিবাহী অফিসারগণ বিভিন্ন ভাতা ও অনুমাদের মাধ্যমে তাদেরতে পুর্নবাসিত করা হয়েছে । তবে ভিক্ষুকফান্ড থেকে কোন টাকা এ পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়নি ।
এদিকে উপজেলা ভিক্তিক সনাক্তকৃত ভিক্ষুকের চুড়ান্ত সংখ্যা এবং উপজেলা ভিক্তির অর্থের বিবরণ হলো :

চাঁদপুর সদর উপজেলায় মোট ভিক্ষুকের সংখ্যা হলো ৪শ’ ২জন। অর্থের বিরণর হলো ৮ লাখ ৯২ হাজার ৬শ’ ৪২ টাকা।

ফরিদগঞ্জ উপজেলায় মোট ভিক্ষুকের সংখ্যা হলো ৩শ’ ২৪জন। অর্থের বিরণর হলো ১৯ লাখ ২৭ হাজার ২শ’ ৩৩ টাকা।

হাজীগঞ্জ উপজেলায় মোট ভিক্ষুকের সংখ্যা হলো ৩শ’ ৯২ জন। অর্থের বিরণর হলো ১০ লাখ ২৮ হাজার ৭শ’ ১৩ টাকা।

কচুয়া উপজেলায় মোট ভিক্ষুকের সংখ্যা হলো ৩শ’ ৮৫জন। অর্থের বিরণর হলো ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৯শ’ ৭ টাকা।

মতলব উত্তর উপজেলায় মোট ভিক্ষুকের সংখ্যা হলো ৩শ’ ১০জন। অর্থের বিরণর হলো ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৭শ’ ১১ টাকা।

মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মোট ভিক্ষুকের সংখ্যা হলো ২শ’ ১৮জন। অর্থের বিরণর হলো ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৩শ’ ৭৮ টাকা।

শাহরাস্তি উপজেলায় মোট ভিক্ষুকের সংখ্যা হলো ৩শ’ ৫১জন। অর্থের বিরণর হলো ১ লাখ ৯৭হাজার ৩শ’ ৬৬ টাকা।

হাইমচর উপজেলায় মোট ভিক্ষুকের সংখ্যা হলো ২শ’ ৪জন। অর্থের বিরণর হলো ২ লাখ ৩০ হাজার ৪শ’ ৯৯ টাকা।

সর্বমোট ভিক্ষুকের সংখ্যা হলো ২হাজার ৫শ’ ৮৬জন এবং বরাদ্দকৃত অর্থ হলো ৭২ লাখ ১ হাজার ৮১ টাকা।

এবিষয়ে চাঁদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক (যুগ্ম-সচিব) মো. আব্দুস সবুর মন্ডল, একটি সুষ্ঠু নীতিমালার মধ্যে দিয়ে জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পুরো টাকা ব্যাংকে ডিপোজিট কিংবা সঞ্চয় পত্র ডিপোজিট করা যায়। সে টাকা থেকে লভ্যাংশ টাকা দিয়ে পর্যায়ক্রমে জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করা যাবে। এতে সরকারও সহযোগিতা করবে। সেই সাথে পুরো টাকা ডিপোজিট থাকবে।

জানা গেছে, জেলা ভিক্ষুকমুক্তকরণে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন দপ্তরে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিষয়টি অনুমোদন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সাঁড়া পড়ে। জেলার সুধীজন, ধর্নাঢ্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিগণ স্বাগত জানান।

এদিকে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ এরই মধ্যে জনপ্রতিনিধি ও ধর্নাঢ্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সদরকে ভিক্ষুকমুক্তকরণের কাজ পুরোদমে চালচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের ভিক্ষুক্ত ফান্ড থেকে কোন সহযোগিতা না নিয়েই সদর উপজেলা এ কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভুমিকা পালন করছে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ধর্নাঢ্য বক্তিগণ। আগামী ২/১এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন নিজস্ব প্রচেষ্টায় সদর উপজেলাকে ভিক্ষুক্ত করবেন বলে জানান সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কানিজ ফাতেমা পিএএ।

জানা গেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সহযোগিতায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা ভিক্ষুকমুক্তকরণের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

চাঁদপুর জেলা ও উপজেলার সরকারি-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জেলাকে ভিক্ষুকমুক্তকরণের কাজের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। জেলার সরকারি -বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১দিনের বেতন এ ফান্ডে জমা দেন। এর মধ্যে চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছ থেকে ১দিনের বেতন জমা হয় সর্বোচ্চ। অত্যন্ত সচ্ছ প্রক্রিয়ায় জেলা ভিক্ষুকমুক্ত এ ফান্ড গঠন করা হয়।

জেলা প্রশাসন জনতা ব্যাংকে এ নিয়ে একটি হিসাব খোলা হয়। এ ফান্ডে জেলা প্রশাসন সরাসরি নগদ কোন টাকা গ্রহণ করেননি। জেলা প্রশাসন জনতা ব্যাংক ভিক্ষুকমুক্ত ফান্ডে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের উদ্যোগই ১দিনের বেতনের টাকা জমা দেন।

চাঁদপুরের জনতা ব্যাংক সংশ্লিষ্ট শাখা সূত্রে মঙ্গলবার (২৭ ফেরুয়ারি) পর্যন্ত জেলা ভিক্ষুকমুক্ত ফান্ডে জমা পড়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৭হাজার ১শ’ টাকা।

এ ব্যাপারে গতকাল রবিবার চাঁদপুরের জনবান্ধব অফিসার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ) মোহাম্মদ শওকত ওসমান জানান জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করণে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে । আশা করি চাঁদপুর জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করা সম্ভব হবে। তিনি আরো জানান,দুটি এনজিওকে দিয়ে এ কাজটি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিলো । কিন্তু তা আর এগোয়নি । এ ছাড়াও তৎকালীন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার মহোদয় এক সভায় বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মতামত দেন । আগামীতে সভার করে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সুপারিশের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে । এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন উক্ত ফান্ড থেকে একটি টাকাও খরচ হয়নি । এ পর্যন্ত উক্ত ফান্ডে জমা পড়েছে উক্ত ফান্ডে এ পর্যন্ত জমা পড়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮শ’৫২ টাকা।

একই রকম খবর

Leave a Comment