চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার চুড়ান্ত প্রস্তুতি সভা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী ঃ এসো মিলি মুক্তির মোহনায় স্লোগানকে নিয়ে এ বছরও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত চাঁদপুর হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২৮ তম মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এ বছর এ মেলার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শত বার্ষিকী উদ্যাপন করা হবে। সেই লক্ষ্যে  ৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় মাসব্যাপী চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার চুড়ান্ত প্রস্তুতি সভা বিজয় মেলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজয় মেলার চেয়ারম্যান অ্যাড. বদিউজ্জামান কিরনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব হারুন আল রশীদের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার উপদেষ্টা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। এ সময় তিনি বলেন, বিজয় মেলায় কেউ ধমক দিয়ে কিছু করতে পারবে না। এই মেলা কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়।

এটি স্বাধীনতার সম্পদ। সাংবাদিকরা তাদের লেখনীতে বিজয় মেলাকে তুলে ধরেছে। আমরা চাই দেশের সকল প্রান্তে চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার নাম ছড়িয়ে পড়–ক। স্মৃতিচারণে এ বছর আমরা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী সহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের এনে স্মৃতিচারণ করাতে। এ বিসয়ে আমরা বিভিন্ন জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলছি। ইতিমধ্যে কয়েকজনের সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। বিজয় মেলার আয়োজক কমিটি এ বছর চিন্তার উন্মেষ ঘটেছে। আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, রান্না করতে গেলে দু’টি হাড়িতে আঘাত লাগে। তেমনি আমাদের মধ্যে দ্বিধা বিবেদ ভুলে গিয়ে বিজয় মেলায় আমরা একত্রে কাজ করব। বিজয় মেলার সংবাদ প্রকাশে মিডিয়ার ভূমিকা আরও বেশি থাকতে হবে। বিগত বছরগুলোর মতো এ বছরও বিজয় মেলার বিভিন্ন কর্মকা- তথ্য প্রযুক্তির যুগে লাইভ করা যায় তাহলে বিশ্ববাসী চাঁদপুরের বিজয় মেলা সম্পর্কে জানতে পারবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শত কণ্ঠের জাতীয় সংগীতে শিল্পীরা যদি সাদা পোশাক পরে এর সাথে লাল সবুজের উত্তোলীয় পরলে জাতীয় সংগীতের মাধুর্য্য আরও বৃদ্ধি পাবে।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, এ বছর মাস ব্যাপী বিজয় মেলায় অর্ধ শতাধিক সাংস্কৃতিক ও নাট্য সংগঠন তাদের অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শত কন্ঠে জাতীয় সংগীতের মহরা চলছে। বিজয় মেলাকে ঘিরে প্রকাশনার কাজ ইতিমধ্যে প্রয় ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা গোল টেবিল বৈঠকে প্রকাশ করবে। প্রত্যেকটি সাংষ্কৃতিক সংগঠন তাদের অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে দেশের গান দিয়ে শুরু করতে হবে। দুইয়ের অধিক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান পরিবেশন করতে হবে। আমরা অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি বিজয় মেলার স্মৃতি সংরক্ষন স্টলে সংযোজন করেছি।

অনেক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছে ছবি চেয়েও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। যদি কারও ছবি বাদ গিয়ে থাকে তাহলে আমাদের কাছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। মাঠ ও মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে বিজয় মেলার নিরাপত্তার স্বার্থে মেলা অঙ্গনে ১৬টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে ৫০ জনের বলান্টিয়ার টিম গঠন করা হয়েছে।প্রজন্মকে মহান স্বাধীনতার যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও জাতির পিতা সম্পর্কে জানাতে হবে।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, স্টিয়ারিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহসিন পাঠান, মেলার ভাইস চেয়ারম্যান অজিত সাহা, তাফাজ্জল হোসেন পাটওয়ারী এসডু, উপদেষ্টা ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদার, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদ পাটওয়ারী, মাঠ ও মঞ্চ কমিটির আহ্বায়ক ইয়াহিয়া কিরন, সাংষ্কৃতিক পরিষদের আহ্বায়ক তপন সরকার, সাহিত্য পরিষদের আহ্বায়ক ডাঃ পীযুষ কান্তি বড়–য়া, নাট্য পরিষদের আহ্বায়খ গোবিন্দ মন্ডল, প্রচার পরিষদের সদস্য সচিব শেখ আল মামুন, মিডিয়া পরিষদের সদস্য সচিব কে.এম মাসুদ প্রমুখ।

একই রকম খবর