চাঁদপুর-লাকসাম রেলওয়ের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শণ

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশ রেলওয়ের চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের উন্নয়ন, স্টেশন ভবন গুলো রি-মডেলিং ও রেলওয়ের ব্রীজ, ট্রেন ও ইঞ্জিনসহ রেলের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শণ করেন জিআইবিআর মো. নাছির উদ্দিনসহ উর্ধ্বতণ কর্মকর্তরা।

পরিদর্শন কালে (জিআইবিআর) গর্ভমেন্ট ইন্সিপেকশন অব বাংলাদেশ রেলওয়ের ইন্সিপেক্টর মো. নাছির উদ্দিন পরিদর্শন কালে বলেন, আপনাদের যে কোন সমস্যা আমার কাছে লিখে দিতে পারেন অথবা লিখে পাঠাবেন আমি সুপারিশ করে সরকারের কাছে পাঠাবো। আশা রাখি আমার সুপারিশে যে কোন সমস্যা সমাধান করবে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আমি গর্ভমেন্টের একজন প্রতিনিধি হিসেবে রেলপথ, ব্রীজ, স্টেশন ভবন, ট্রেন ও ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন সমস্যা পরিদর্শন কালে পাওয়া বিষয় তুলে ধরে রিপোর্ট দিব। আমার দপ্তর থেকে প্রতি বছর ১২টি স্টেশন এলাকা পরিদর্শন করার নিয়ম রয়েছে। তার ধারা বাহিকতায় আজকের চাঁদপুরে এই পরিদর্শন।

বিভিন্ন ব্যাক্তি তার কাছে বিভিন্ন সমস্যার কথা বলার পর তিনি বলেন, স্টেশন ভবন বড় করার ক্ষমতা আমার নাই। আমি শুধু ইন্সিপেকশন করতে এসেছি। আপনারা ট্রেনে ভ্রমণ কালে যাত্রী যেন টিকেট করে সে জন্য জনগনকে সচেতন করবেন। তা’হলে রেলওয়ের আয় বাড়বে রেলের উন্নয়ন অতিসহজে হবে।

বৃহস্পতিবার তিনি চাঁদপুর-লাকসাম স্টেশন এলাকা ও রেলওয়ের এ ২টি সেকশন পরিদর্শনে আসেন। লাকসাম থেকে ইন্সিপেকশান শুরু করে বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর এসে পৌঁছেন। পথি মধ্যে হাজিগঞ্জ স্টেশনে নেমে স্টেশন ভবন পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া এ পথের বিভিন্ন স্থানের মটর ট্রলি থামিয়ে-থামিয়ে রেলপথের লাইন পরিদর্শন করেন। এ সময় বিভিন্ন সমস্যা লিপিবদ্ধ করেন। চাঁদপুর এসে স্টেশন ভবন, যাত্রীবাহী চাঁদপুর-চট্টগ্রামের মধ্যে চলাচলকারী সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে উছে ইঞ্জিন পরিদর্শন করে সমস্যা গুলো লিপিবদ্ধ করেন। ট্্েরনের ভিতরে উঠে যাত্রীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজ খবর নেন।

যাত্রীরা ট্রেনেররভিতরে ফ্যান নেই, বসার সিট খারাপ বলে অভিযোগ জানান। এসময় তিনি ফ্যান না থাকা সকল সমস্যা, যাত্রীদের দূর্ভোগের কথা লিপিবদ্ধ করে। সেই সময় তিনি ট্রেনের নীচে চাক্কার সাথের যন্ত্রাংশ পরিদর্শন করে তা’ লিপি বদ্ধ করেন।

পরে তিনি চাঁদপুর স্টেশন মাস্টারের কার্যালয়ে স্টাফদের হাজিরা খাতা ও জরুরী যাত্রী চিকিৎসার জন্য ফাস্ট এইড বক্স এর ঔষধেদের মেয়াদ কাল ঠিক আছে কিনা তা’ স্বচোঁখে দেখেন। এ সময় স্টেশন মাস্টার জাফর আলম সব কিছু খুলে দেখান। পরে পুরো স্টেশন এলাকা পরিদর্শন শেষে চাঁদপুর থেকে বিকেলে ঢাকার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর ত্যাগ করেন।
চাঁদপুর আগমণে পর জিআইবিআরকে রেলওয়ে শ্রমিক লীগের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচছা জানান এবং চাঁদপুরস্থ স্টাফদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া তুলে ধরে একটি স্বরক লিপি জিআইবিআর এর হাতে তুলে দেন রেলওয়ে শ্রমিকলীগ সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান টিটিই।

স্মারকলিপিতে চাঁদপুরস্থ রেল শ্রমিক-কর্মচারীদের বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজনে গভীর নলকূপ স্থাপন, পুনরায় রেল হাসপাতাল চালু, চাঁদপুর (বড়) স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশন ভবন স¤প্রসারণ, চাঁদপুর থেকে আরো দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু, বায়তুল আমিন রেলওয়ে জামে মসজিদের নিচতলায় অবৈধভাবে নির্মিত দোকানঘর ভেঙ্গে দিয়ে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের দু’পাশে সকল অবৈধ দখলদার উচ্ছেদসহ মোট ১৫টি দাবি পূরণের কথা জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়।

এ সময় তার সাথে ডিআরএম মো: জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভাগীয় বানিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) মো. মিজানুর রহমান, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফিরোজ ইফতেখার, বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন) মো. রফিকুল ইসলাম, ডিএসটি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় নিরাপত্তা কমাডেন্ট মো: আশবাবুল ইসলাম, ডিইও কিসিঞ্জার চাকমা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী কুমিল্লা (এইএন) আব্রার হোসেন, কুমিল্লা-চাঁদপুরে দায়িত্বরত কর্মকর্তা এস.এস.এ.ই (পথ) মো:লিয়াকত আলী মজুমদার, টিআই মো: আবু তাহের, চট্টগ্রাম বিভাগীয় আরো বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ছিলেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার মো: জাফর আলম,সহকারী স্টেশন মাস্টার সোয়াইবুল শিকদার,শিমুল মজুমদার, রেলওয়ে ওসি সারওয়ার আলম, নিরাপত্তা ইনচার্জ আমিনুল হক ও খোরশেদ আলম,হেড বুকিং আব্দুস সালাম সরকার প্রমুখ।

একই রকম খবর

Leave a Comment