চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদী মাদ্রাসা রোডে রাস্তা উপর নির্মাণ সামগ্রী

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদী মাদ্রাসা রোডে পৌরসভার রাস্তা দখল করে যত্রতত্র ভাবে নির্মান সামগ্রী ফেলে রাখায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছে, এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বর্তমান করোনা কালীন সময়ে সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকাতেই স্বাস্থবিধি মেনে চলে, দুরত্ব বজায় রেখে মানুষ চলাচল করছে। এরই মাঝে কিছু কিছু লোক সরকারি বিধি নিষেধ না মেনে এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে তাদের মনমতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

শহরের মাদ্রাসা রোডে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক ও জনপদের অফিসের কাছ থেকে শুরু করে স্টেডিয়াম রোডের আবুলের দোকানের মুখ পর্যন্ত এ এলাকাটির বিস্তার।

এখানে সড়ক ও জনপদের কাছ থেকে পৌরসভার কবরস্থানের লাগোয়া রাস্তার পাশে বেশ কয়েকটি বিল্ডিংয়ের নির্মান কাজ চলমান। তারা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে দির্ঘদিন ধরে তাদের কাজ বন্ধ না রেখে চালিয়ে যাচ্ছে। যার কারনে বাড়ির নির্মান সামগ্রী পাশেই রাস্তার উপর ফেলে রেখে নিজেদের ইচ্ছে মতো আনা নেওয়া করছে।

পথের মধ্যে এর নির্মান সামগ্রী ফেলে রাখার কারনে প্রায় সময়ই পথচারি ও বাড়ির মালিকদের সাথে বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীও তাদের এ নির্মান সামগ্রী রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা একাধিকবার বললেও বাড়ির মালিকরা কর্ণপাত করেনি।

এ নির্মান সামগ্রী রাস্তার উপরে ফেলে রাখায় পৌরসভার পয়নিষ্কাশনের ড্রেনটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কারন রাস্তার উপর পড়ে থাকা বালু, কনা, সুড়কি বৃষ্টির সময় গলে পাইপে গিয়ে জমাট বেঁধে যায়। যার করনে সামান্য বৃষ্টি হলে এলাকার চলাচলের সড়কটিতে হাটু পর্যন্ত পানি আটকে থাকে, যা সরতে অনেক সময় লাগে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানায়, এ নির্মান সামগ্রী রাখার কারনে আমাদের চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাটু পর্যন্ত পানি জমে থাকে। পৌরসভায় গিয়ে বিষয়টি জানানোর পর তারা কয়েকবার এসে রাস্তার পানিনিষ্কাশনের ড্রেনটি পরিষ্কার করে দেয়। কিন্তু পৌরকর্তৃপক্ষ জানায়, আমরা পরিষ্কার করে লাব কি, যতদিন পর্যন্ত রাস্তার উপর থেকে এ নির্মান সামগ্রী না সরানো হবে ততোদিন পর্যন্ত এ অবস্থাই হবে।

এ বিষয়ে পৌর কৃর্তপক্ষ একটি ঘোষণাও দিয়ে ছিলেন যে, পৌরসভার রাস্তার মধ্যে যত্রতত্র নির্মান সামগ্রগী ফেলে রাখলে তারা তা নিয়ে যাবেন। তখন কেউ ওই নির্মান সামগ্রীর দাবী করতে পারবেননা। এই কঠোর ঘোষণার পরেও বাড়ির নির্মানকারী মালিকরা এ আদেশ না মেনে তাদের মালামাল রাস্তার উপর রেখেই বাড়ির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরো জানা যায়, ওই এলাকায় কয়েকটি পুরাতন ভাঙ্গারী ও পুরাতন নির্মান সামগ্রী ক্রয়ের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারাও বিভিন্ন জায়গা থেকে পুরাতন বিল্ডিং এবং পুরাতন টিনের ঘর কিনে তা ভেঙ্গে এ রাস্তার পাশেই এনে রাখেন। এতে করেও তাদের মালামাল প্রায় সময়ই রাস্তার উপর এসে পড়ে থাকতেও দেখা যায়।

তাদেরকেও এলাকাবাসী এগুলো রাস্তা থেকে সরানোর কথা বললে ওই ব্যাবসায়ীরা উল্টো এলাকাবাসীর উপর ক্ষিপ্ত হয়। তাই এলাকাবাসী ও পথচারীদের দাবী পৌর কর্তৃপক্ষ অচিরেই সরোজমিনে গিয়ে তদন্ত করে বিষয়টির যেন সু-ব্যবস্থা করেন।

একই রকম খবর