আর কত আবেদন করলে চাকরি জুটবে চাঁদপুরের প্রতিবন্ধী মিন্টুর

স্টাফ রিপোর্টার : আমি সোনার হরিণ ধরতে গিয়ে অনেক খেয়েছি ফান্দি, শেষে জানলাম মানুষ নিজেই ভাগ্যোর কাছে বন্দি। কালজয়ী এ জনপ্রিয় গানের কথা মতই চাঁদপুরের প্রতিবন্ধী মিন্টু একটা চাকুরির জন্য অনেক ফন্দিতে পড়ে ভাগ্যোর জালে বন্দি হয়ে প্রতিবন্ধী কোঠায় একাধিকবার ইন্টারভিউ দিয়েও আজও তার কপালে জোটেনি চাকরির নামে সোনার হরিণ।

চাকরি পাওয়া তো দুরের কথা বরং প্রতিবন্ধী কোঠায় চাকরি পাবার আশায় বিভিন্ন ফন্দিতে পড়ে নিজের স্বয় সম্বল খুইয়ে তাতছাড়া করেছেন লক্ষাধিক টাকা। তবুও আশার হাল ছাড়েনি, প্রতিবন্ধী মিন্টু। বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী কোঠায় একটা চাকরির জন্য এখনো সে আশায় বুক বেঁধে আছে। অথবা পরিবার নিয়ে বেচেঁ থাকার জন্যে স্থায়ী ভাবে ফুতপাতে হলেও ছোট্ট একটি দোকানের আকুতি তার।

শারিরিক প্রতিবন্ধী মো. মিজানুর রহমান মিন্টু (৩২) চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর তরপুরচন্ডী গ্রামের নান্নু বন্দুকসীর ছেলে। ৫ বছার বয়সে যখন বন্ধুদের নিয়ে দূরন্তপনায় ছুটে চলার কথা, ঠিক তখনই মিন্টু টাইপয়েড জ¦রে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে মিন্টুর বাম পা বিকলঙ্গ হয়ে যায়। হারিয়ে ফেলে তার চলার শক্তি। কিন্তু থেমে থাকেনি তার পড়া লেখা। মা জোসনা বেগমের প্রচেষ্টায় কোনক্রমে স্কুলের অষ্টম শ্রেণির গন্ডি পেরোয় সে। কিন্তু আর্থিক দৈন্যতার কারণে তার পড়া লেখা বেশী দুর এগুতে পারেনি। ফলে থেম যায় তার স্কুল জীবন। কিন্তু থেমে থাকেনি তার সংসার জীবন। প্রায় ৮বছর পূর্বে বিবাহর বন্ধনে আবদ্ধ হয়। পরে তার ঘরে হাসান বন্দুকসী নামে এক পুত্র সন্তান ও হালিমা আক্তার লিপি নামে এক কন্যা সন্তানের বাবা হয়ে জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তার পঙ্গুত্তের কারণে হিম-শিম খাচ্ছে পরিবার। এরই মাঝে গত প্রায় ৭/৮ বছর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। নিয়তির নির্মম পরিহাসে মিন্টু পঙ্গুত্বভোগ করে জীবন যাপণ করলেও অন্যান্য প্রতিবন্ধীর মতো ভিক্ষাবৃত্তি না করে তার মনের ইচ্ছঅ শক্তি দিয়ে চাকরির মাধ্যমে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে চান।

তাইত চাকরির নামে সোনার হরিন সানিধ্য না পেয়ে ১৯৯৮ সাল থেকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সামনে তার মামা আব্দুল কাজি টেলুর চায়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে আসছেন। সেখান থেকে মাষ শেষে মাইনে পান তা দিয়েই স্ত্রী, সন্তান নিয়ে কোন রকম দিন পার করছেন।

এ প্রতিবন্ধী মিন্টু জানান, গত ৮/৯ বছর ধরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিবন্ধী কোঠায় চাকরির জন্য অন্তত ২০/৩০টি আবেদন করলেও জোটেনি ছোট্ট একটা চাকুরী। এমনকি বিভন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরির ইন্টারভিউ কার্ড নিয়ে সংসদ ভবন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ে গিয়ে ডা. দীপু মনির প্রতিনিধি সোহেল ও হুমায়ুন কবির সুমনের কাছে তা জামা দিয়ে আসেন। তবুও তার প্রতি সু-দৃষ্টি পড়েনি কারো।

মিন্টু আরো জানান, গত বছর গুলোতে সে একটা চাকরির জন্য ২০১১ সালের ২৯ মার্চ চাঁদপুর পৌর সভা, ২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ, ২০১৪ সালের ২৫ মে ঢাকা অধিদপ্তর, ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ও ২০১৫ সালের ৫ ডিসেম্বর, ১৯ নভেম্বর এবং ২০১১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম রেলওয়ে বিভিন্ন পদে চাকরির ইন্টারভিউ দেন।

এছাড়া ঢাকা বিমান বন্দর সদর, সুপ্রিম কোর্ট, চাঁদপুর সিভিল সার্জন, পরিবার পরিকল্পনা, চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার ইন্টারভিউ দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও কোনো তার ভাগ্যর পরিবর্তন হয়নি। অথচ তার এ আবেদন করতে গিয়ে অনেক টাকা ও শ্রম ব্যয় হয়েছে।

র্বশেষ তিনি ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর সে সমাজ সেবা মন্ত্রণালয়ের মালী পদে এবং চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যলয়ে মালীর আবেদন করেন।
কিন্তু ভাগ্যর পরিক্রমায় তার স্থগীত হয়ে যায়। তিনি একটি ছোট্ট চাকুরি অথবা সরকারি স্থাপনায় একটি দোকান নির্মাণ করার জন্য অনুমতি দিলে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। সে জন্য মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

একই রকম খবর

Leave a Comment