চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে দ্বিতীয় দিনে উচ্ছেদ অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের চাঁদপুর স্টেশন হতে মৈশাদী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকার রেল-লাইনের দুই পাশে দ্বিতীয় দিনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শুরু হয়ে বিকাল পর্যন্ত চলে এ অভিযান।

অভিযানে ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্রগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি কর্মকতার লাকসাম কাঁচারির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত কানোনগো মো: আবু সাঈদ।

এর আগে শনিবার চাঁদপুর স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রেলওয়ের এস্টেট বিভাগ।

রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের ছায়াবানী এলাকা থেকে শুরু করে মৈশাদী রেলওয়ে স্টেশন এলাকা পর্যন্ত কমপক্ষে ৩ শতাধিক ছোট-বড় স্থাপনাসহ ৫শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ কালে শহরের বকুলতলা ও রেলওয়ে কোর্ট স্টেশন এলাকায় অদৃশ্য কারনে উচ্ছে করা হয়নি বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান।

অভিযানকালে রেলওয়ের কাননগো আবু সাঈদের সাথে সমঝোতার কারনে অনেক অবৈধস্থাপনা তালিকায় থাকার পর রক্ষা পেয়েছে বলেও অনেকের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঁদপুরের সচেতন মহলের দাবী কোর্টস্টেশন এলাকার রেল-লাইনের দুই পাশের শত-শত অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বকুলতলা এলাকার রেল-লাইনের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উচেছদ করা সময়ের দাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ দুটি স্থানের অবৈধ দোকান পাটের কারনে প্রায় সময় এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। সচেতন মহলের মতে এসব স্থানে বিগত দিনে ট্রেনে কাটা পড়ে ২৬ জন ট্রেন যাত্রী তাদের প্রান হারিয়েছেন। সে গুরুত্বপূর্ন স্থানের স্থাপনা অতিজরুরি ভাবে উচ্ছেদ একান্ত প্রয়োজন বলে চাঁদপুর-লাকসাম রেল-পথে যাতায়াতকারী ভুক্তভুগি যাত্রীদের অভিমত।

তারা জানান, প্রকৃত স্থানে অভিযান না করে সরকারের অর্থ ব্যয় করে যারা নিজেরা লাভবান হচ্ছে, তাদের বিয়ষটি সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষ দেখার একান্ত প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

রেল বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, রেলওয়ের চট্রগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকতা কিসিঞ্জার চাকমার নির্দেশে চাঁদপুর-লাকসাম রেল-পথের রেল-লাইনের দুই পাশে শত-শত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য চট্রগ্রামে বিভাগীয় উচ্চ পর্যায়ে এক সিদ্বান্ত গৃহিত হয়। সে মোতাবেক শনি-ও রোববার ২ দিন (২২-২৩ সেপ্টোম্বর) চাঁদপুর থেকে মৈশাদী পর্যন্ত রেল-লাইনের ২ পাশে যে সব শত-শত অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য চট্রগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২ দিন অভিযান করে এ সকল অবৈধ স্থাপনা উচেছদ করার জন্য একটি প্রতিনিধি দল চাঁদপুরে আসে।
তারা শনিবার ও রোববার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অভিযান করে কমপক্ষে ৫ শতাধিক বানিজ্যিক ও আবাসিক স্থাপনা ইচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছে। এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন, চট্রগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার পক্ষে লাকসামের ট্রাফিক ইন্সিপেক্টর (টিআই) আবু তাহের ও কাননগো মো. আবু সাঈদ।

অভিযানে সহযোগিতায় ছিলেন, এসএসএই(পথ) লিয়াকত আলী মজুমদার, স্টেশন মাস্টার জাফর আলম, সহকারী স্টেশন মাস্টার শোহেব শিকদার, এসএই (কার্য) চাঁদপুর আবুল কালাম আজাদ।

আইন শৃংখলার দায়িত্বে ছিলেন রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সারোয়ার আলম, নিরাপত্তা ইনিসপেক্টর মো. আমিনুল ইসলাম, মো. খোরশেদ আলমসহ রেলওয়ে পুলিশ বাহিনী সদস্য ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

একই রকম খবর

Leave a Comment