ধর্ষণ ঘটনায় অবশেষে চাঁদপুর মডেল থানায় এজহার দায়ের!

স্টাফ রিপোটার : চাঁদপুর নারী ও শিশু ট্রাইবুনাল আদালতে দায়ের করা ধর্ষণ মামলার কাগজ উধাও হয়ে যাওয়ায় পর মডেল থানা থেকে উদ্ধার হওয়ার পর অবশেষে মামলা রুজু করা হয়েছে।

কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা নং ৬ তারিখ, তারিখ, ৫/৭/২০২০। মামলাটির চাঁদপুর মডেল থানার ইন্সপেক্টর আব্দুর রব তদন্ত করবেন। গতকাল শনিবার দৈনিক চাঁদপুর খবরে চাঁদপুরে ধর্ষণ মামলার কাগজ উধাও শীষক সংবাদ প্রকাশিত হলে পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকষন হয় ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাঁদপুর সদর সার্কেল জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর নিদেশে ওসি নাসিম উদ্দিন ঘটনাটি জানার পরপরই নিজের উদ্যোগে এজহারের নিদেশ দেন ।

জানা গেছে,চাঁদপুর সদর উপজেলা রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের লক্ষীরচর এলাকায় কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা ইব্রাহিম মোল্লা গত ১১ ই মার্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

মামলার দরখাস্ত নাম ৭৬, স্মারক নং ৭৭১। নারী ও শিশু ট্রাইবুনাল আদালতের বিচারক মামলাটি অ্যাফেয়ার করার জন্য চাঁদপুর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন।

কিন্তু মামলার কাগজ আদালতের মুন্সি মাহফুজ গত ১৬ ই মার্চ থানার কনস্টেবল ব্যাছ নং ১০১২ বিল্লাল এর মাধ্যমে চাঁদপুর মডেল থানার মুন্সি শিব্বির এর কাছে পাঠান। তারপর থেকেই কিশোরী ধর্ষণ মামলার কাগজ থানা থেকে উধাও হয়ে যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাঁদপুর সদর সার্কেল জাহেদ পারভেজ চৌধুরীকে অবহিত করার পর সাথে সাথে উধাও হওয়া ধর্ষণ মামলার কাগজ অবশেষে চাঁদপুর মডেল থানায় পাওয়া গেছে।

তবে দুঃখজনক বিষয় আদালতের নির্দেশে চার মাসেও মামলাটি মডেল থানায় নথিভূক্ত করা হয়নি।

এখানে ধর্ষণ মামলার ঘটনার ৩ মাস অর্থাৎ ৯০ দিনের মধ্যেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক চার্জশিট আদালতে প্রেরণ করার কথা থাকলেও ৪ মাসেও মামলাটি আলোর মুখ না দেখায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে মামলার বাদি ইব্রাহিম মোল্লা জানান, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড লক্ষীর চরের লুতু বেপারীর ছেলে জয়নাল বেপারী (২০) তার মেয়েকে জোরপূর্বক বেশ কয়েকবার পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

এই ঘটনা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বার সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানালে ধর্ষণকারীকে বাঁচাতে এলাকায় সালিশি বৈঠক হয়। অবশেষে সমস্যা সমাধান না হওয়ার কারণে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে ধর্ষণের বিচারের দাবিতে মামলাটি দায়ের করা হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষরা মামলার কাগজ টাকার বিনিময় উধাও করে ফেলায় চার মাসেও ধর্ষণ মামলার বিচার কাজ শুরু হয়নি।

এর সাথে যারা জড়িত রয়েছে আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।এদিকে একটি সূত্র জানায়, চাঁদপুর মডেল থানার মামলার কাগজটি আসার পর প্রতিপক্ষরা থানার মুন্সি কে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে মামলার কাগজটি গায়েব করে ফেলে। অবশেষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাঁদপুর সদর সার্কেল জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর এর হস্তক্ষেপে গায়েব হওয়া মামলার কাগজ উদ্ধার করা সম্ভব হয় ও থানায় মামলাটি এজহার করা হয়।

একই রকম খবর