মামলা-হামলার আতঙ্কে চাঁদপুরে নির্বাচনী প্রচারণায় নেই বিএনপি !

চাঁদপুর খবর রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র বাকি ৭ দিন। প্রচারণা চালাতে পারবেন আর মাত্র ৬ দিন। শেষ মূহুর্তের প্রচারণায় সব দলের প্রার্থীদের যেখানে সরব থাকার কথা। চাঁদপুরের ৫ টি আসনে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।

এখানে জয় বাংলা, জিতবে এবার নৌকা। শেখ হাসিনার সালাম নিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন। নৌকা, নৌকা মিছিল শ্লোগান আর গান বাজনার প্রচারণায় মুখোর আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা কর্মী ও সমর্থক। এলাকা ভিত্তিক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণও করছেন তারা।

এ ছাড়া নৌকার প্রার্থীরা স্ব স্ব এলাকায় প্রতিদিনের নির্ধারিত নির্বাচনি উঠোন বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগ করে নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সোজা সাপটা কথা নির্বাচনি মাঠে পুরোটাই আওয়ামী লীগের দখলে।

এদিকে তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে ভোট চেয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন চরমোনাই পীর সাহেবের হাতপাখা, বাসদের মই ও জাকের পার্টির গোলাপ ফুল মার্কার প্রার্থী এবং তাদের দলের কর্মি ও সমর্থকরা।

কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা ক্রমশ কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন। প্রচার- প্রচারনায় নেই নেতা কর্মীরা। তারা নির্বাচনি মাঠের অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরব থাকতে দেখা যাচ্ছে।

কারন হিসেবে জানা যায়, মামলা, হামলা ও গ্রেফতার হবার ভয়। রাতে ঘরে ঘুমাতে পারছে না, পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তবে ব্যতিক্রম চাঁদপুর -৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক । প্রতিকূলতার মধ্যেও সমানতালে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি । তিনি অভিযোগ করেছে ,যদিও তার নির্বাচনী প্রচারনাকালে একাধিক স্থানে প্রতিপক্ষরা হামলা চালিয়েছে। উল্টো বিএনপি নেতা কর্মিদের নামে মামলা দিচ্ছে পুলিশ। । এদিকে গত কয়েকদিন পূর্বে পুরাণবাজারের হামলা ও সংঘর্ষ ও পুলিশ আহত হবার ঘটনায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে বিএনপির প্রায় দেড়’শ জনের নামে মামলা করা হয়।

ফরিদগঞ্জে এমএ হান্নানের নির্বাচনি শো ডাউন হামলা করে পÐ করা হয়েছে। পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় শত শত নেতা কর্মির নামে মামলা হয়।

কচুয়ার ধানের শীষের প্রার্থী মোশারফ হোসেনের নির্বাচনি প্রচারণায়ও হামলা গাড়ি ভাংচুর হয়েছে। মতলবে বিএনপির প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিনকে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে গেলেই হামলার শিকার হচ্ছেন দলের নেতা কর্মি ও তার সমর্থকরা।

হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিঃ মমিনুল হক নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। সেখানেও পুলিশের গ্রেফতার আতংক রয়েছে।

ধানের শীষের প্রার্থীদের অভিযোগ, নির্বাচনকে সামনে রেখে অসংখ্য নেতাকর্মিদের পুলিশ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করেছে। অন্যদেরও ধরার জন্য পুলিশ তৎপর। এ কারনে নেতা কর্মিদের মাঝে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকার একতরফা নির্বাচনের পথে হাঁটছেন। বিএনপির আশা জনগণ ভোট দিতে পারলে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন নিরব ভোট বিপ্লব হবে।
এদিকে চাঁদপুরের ৫টি আসনের আওয়ামী লীগ, বিএনপির প্রার্থীরা কেন্দ্র ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু বিএনপি প্রার্থীদের কেন্দ্র ও সমন্বয় কমিটির সদস্যদেরকে গণহারে গ্রেফতার করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি প্রার্থীরা। গত দু’দিনে চাঁদপুরের বিএনপির নেতা সাংবাদিক মুনির চৌধুরী ও সদর উপজেলার ল²ীপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ বেপারীকে আটকের পর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে।

জানাযায়, চাঁদপুর সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের বিএনপি-জামাত নেতা কর্মীদের লিস্ট করে গ্রেফতারের আতঙ্ক করা হচ্ছে। রাতে তাদের বাড়ি-ঘরে অভিযান করছে পুলিশ। ওনেকেই ঢাকা হাইকোর্ট থেকে জামিন আনার পরেও তাদেরকে খুঁজছে পুলিশ। তাই গ্রেফতার ও হামলা থেকে রক্ষা পেতে এবং ভোটের দিন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবে নেতা-কর্মীরা যেন বাড়ি-ঘরে থাকতে পারে সে জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন বিএনপি প্রার্থী ও নেতা কর্মীরা।

চাঁদপুরের ৫টি আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা হলেন :
চাঁদপুর-১ (কচুয়া) : আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ড. মহীউদ্দীন খান আলমীগর, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেন।
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ): আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিন।
চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর): আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডাঃ দীপু মনি ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ): আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাংবাদিক মুহম্মদ সফিকুর রহমান ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এম.এ.হান্নান। তবে এম.এ.হান্নান এর প্রার্থীতা স্থগীত করেছে হাইকোর্ট। তবে আগামি সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) জানা যাবে তাঁর প্রার্থীতা থাকবে কী থাকবেনা।
চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জ): আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।

একই রকম খবর

Leave a Comment