কল্যাণপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার : চাঁদপুর সদর উপজেলা কল্যানপুরে মা ছেলে ও স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করে আটকে রেখে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন রনি পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে।

শারীরিক নির্যাতনের শিকার শহরমালি দাসাদী গ্রামের বাসিন্দা মফিজ গাজী আহত হয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেয়।
এই ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন রনি পাটোয়ারীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়া গাজী বাড়ির মোকলেস গাজীর ছেলে মফিজ গাজী কয়েক বছর পূর্বে কল্যানপুর

ইউনিয়নের দাসদী গ্রামে জায়গা নিয়ে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। তার বড় ভাই সিএনজি চালক হান্নান গাজী তার আত্মীয় চাঁদপুর শহরের কুড়ালিয়ার চুমকি বেগমের সাথে টাকা-পয়সার লেনদেন ছিল। ভাই হান্নান গাজী দীর্ঘদিন যাবত ঢাকায় অবস্থান করে।

চুমকি বেগম চেয়ারম্যান রনি পাটোয়ারী শরণাপন্ন হয়ে তাকে টাকা তুলে দেওয়ার জন্য জানায়। বুধবার সকাল ৯ টায় রনি পাটোয়ারী হান্নান গাজীর ছোট ভাই মফিজ গাজীকে ফোন করে তার বাড়িতে আসতে বলে। চেয়ারম্যানের কথা মত মফিজ তার মা রুশিদা বেগম ও স্ত্রী তিন্নি বেগম সহ তিনজন আসার পরেই ভাইকে না পেয়ে চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা মফিজকে ভিতরের রুমে নিয়ে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে তিনটি স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিতে চায়। স্বাক্ষর দিতে অপারগতা স্বীকার করলে চেয়ারম্যান রনি পাটোয়ারী মোটা কাঠের রুল দিয়ে মফিজ গাজী কে বেদম মারধর করে। এসময় প্রতিবাদ করলে মা ও স্ত্রী কেউ লাঞ্ছিত করে চেয়ারম্যান রনি পাটোয়ারী। মারের আঘাত সইতে না পেরে অবশেষে সে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মফিজ গাজীকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এই ঘটনায় আহত মফিজ গাজী স্টাম্প উদ্ধার করার জন্য ও নির্যাতনের ঘটনায় চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন রনি পাটোয়ারীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

আহত মফিজ গাজী জানায়,বড় ভাইয়ের সাথে লেনদেনের বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি মাকে নিয়ে আলাদাভাবে থাকছি। রনি পাটোয়ারী খবর দিয়ে তার বাসায় নিয়ে সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত আটকে রেখে স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য বেদম মারধর করে। এছাড়া ছেলের সামনে মা ও স্ত্রীকে শারিরিক লাঞ্চিত করেছে।

চেয়ারম্যানের সহকর্মী জিএম সফু গাজী ও কাউছার মোল্লা এবং চেয়ারম্যান রনি পাটোয়ারী তিনজন মিলেই নির্যাতন করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রনি পাটোয়ারী জানান, টাকা লেনদেনের বিষয়ে দুই পক্ষকে সাথে নিয়ে সালিশি বৈঠক করেছি। যার কাছে টাকা পাবে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ভাইকে হাজির করার জন্য তার কাছ থেকে অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। আমার সাথে বেয়াদবি করার কারণে ইউনিয়ন যুবলীগ নেতারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চড় থাপ্পড় মেরেছে।

একই রকম খবর

Leave a Comment