নিয়ন্ত্রণহীন চাঁদপুরের ইলিশ বাজার

স্টাফ রিপোর্টার : এখন ইলিশ মৌসুম। প্রতিদিন এই আড়তে কমপেক্ষ ১০ হাজার মণ ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হয়। পাইকারীর পাশাপাশি খুচরা ক্রেতার সংখ্যাও কম হবে না।

গত কয়েকদিন চাঁদপুরের বড় স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই ট্রলারে এবং ট্রাকে আশা ইলিশ আড়তে নামছে। হাকডাক দিয়ে মুহুর্তেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। তারপর পাইকার থেকে খুচরা ইলিশ ক্রয় করছে সাধারণ ক্রেতা। কিন্তু একেক আড়তে একেক ধরণের দাম। কোনটা সাগরের ইলিশ কোনটা স্থানীয় জেলেদের ইলিশ চেনা খুবই কঠিন। বিক্রেতা তার অভিজ্ঞতা দিয়ে ক্রেতাকে বুঝিয়ে বিক্রি করছেন ইলিশ। মূল্য দিয়ে সঠিক ইলিশ না পাওয়া অনেকটা প্রতারণা বলে মনে করেন অনেক ক্রেতা।

ইলিশ মৌসুম হওয়ার কারণে শহরের বিভিন্ন মোড়ে ও পাড়া মহল্লায় ইলিশ বিক্রি করতে দেখা যায়। ব্যস্ততার কারণে অনেক মানুষ বাজারে কিংবা আড়তে গিয়ে ইলিশ ক্রয় করতে পারেন না। এই সুযোগটা নেয় ফেরি করা ইলিশ বিক্রেতারা। দক্ষিণাঞ্চল থেকে আমদানি ইলিশ ঘাটে নামলেই ভাগ হয়ে যায়। একদম ফ্রেস ইলিশ, মোটামোটি মানের এক ভাগ এবং পচা ইলিশগুলো আরেকটি ভাগ হয়ে যায়। হাকডাক হলে ফেরি করে বিক্রির জন্য এক শ্রেনীর খুচরা ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে কমদামের ইলিশগুলোই ক্রয় করেন। আর এই পচা ইলিশগুলোই শহরের সাধারণ মানুষের চাহিদা মিটে। কিন্তু ভালমানের ইলিশের মূল্যই দিতে তাদেরকে।

চাঁদপুর মৎস্য বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে আলাপ ইলিশ ক্রয় বিক্রয় নিয়ে। তারা জানান, ব্যবসায়ী ও প্রশাসন যৌথভাবে উদ্যোগ নিলে ইলিশের আলাদা মার্কেট হতে পারে। সেখান থেকে ইলিশের মান অনুযায়ী মূল্য সাঁটিয়ে দেয়া থাকলে একজন ক্রেতা তার চাহিদা অনুযায়ী ক্রয় করতে পারেন। এতে প্রতারণার সুযোগ থাকে না। এতে যেমন ব্যবসায়ীদের সুনাম বৃদ্ধি পাবে, তেমনি ইলিশ বাজারও সমৃদ্ধ হবে।

অপরদিকে চাঁদপুরের ইলিশ মাছ স্থানীয়ভাবে বিক্রির পাশাপাশি অনলাইনে দেশ-বিদেশের মানুষ ক্রয় করতে পারে সেজন্য তৈরী করা হয়েছে অনলাইন ইলিশ বাজার। চাঁদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুর সবুর মন্ডল এটির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। কিন্তু এটিও আরো আলোর মুখ দেখেনি। ওই অনলাইন ইলিশ বাজারও এখন বন্ধ রয়েছে।

একই রকম খবর