নৌযান ধর্মঘট অব্যাহত : চাঁদপুর থেকে ৯টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে

বিশেষ প্রতিনিধি : ১১ দফা দাবিতে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা ধর্মঘটে চাঁদপুর নৌবন্দর থেকে শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোন লঞ্চ ছেড়ে যায়নি।

দুপুর ১২টার পর থেকে ৯টি লঞ্চ ঢাকা,নারায়নগঞ্জ,শৈলা,উপাদি ও মুলাদিসহ বিভিন্ন স্থানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিকেল ৫টায় এমভি বোগদাদিয়া-৭ নামে আরো একটি লঞ্চ ছেড়ে যায় বলে চাঁদপুর নৌ-থানার অফিসার ইনচার্জ আরু তাহের খান জানান। তিনি আরো বলেন,নৌ-টার্মিনালে নৌ-পুলিশ ছাড়া ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন,নৌ-যান শ্রমিকদের কর্মবিরতীর প্রথম দিনে তারা ব্যার্থ হয়েছে।

ঢাকা থেকে লঞ্চ ছেড়ে আসে এবং চাঁদপুর থেকে লঞ্চ ছেড়ে গেছে। এতে নৌ-যান শ্রমিকরা চাঁদপুর ঘাটে কোন অবস্থান নিতে পারেনি। নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় নেতা,চাঁদপুর-ঢাকা রোড কমিটির সভাপতি ও রফরফ লঞ্চের মাস্টার মো: হারুন-অর-রশিদ জানান,শ্রমিকদের কর্মবিরতী অব্যাহত রয়েছে। মালিক পক্ষ তাদের কেবিন ব্যায় দিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে লঞ্চ চালাছে। এতে তাদের অভিজ্ঞতা না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটছে।

ধর্মঘটের আওতায় থাকা শ্রমিকরা তাদের কর্মবীরতী চালিয়ে যাচেছ। দুপুরে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখাগেছে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এমভি সোনারতরী-২ ও এমভি বোগদাদিয়া-৭। তবে যাত্রীর সংখ্যা অন্য দিনে তুলনায় অনেকটা কম। লঞ্চঘাটে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা রয়েছে। কোন শ্রমিককে ঘাটে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

চাঁদপুর বন্দরের দায়িত্বরত পরিদর্শক শাহ আলম জানান, সিডিউলের টাইম ছাড়াই সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ রুটের ৯টি লঞ্চ চাঁদপুর ঘাটে এসেছে। এর মধ্যে দুপুর ১২টায় এমভি-লামিয়া জালালপুরের উর্দ্দেশে ছেড়ে যায়, দুপুর ১২টা ২০মিনিটে চাঁদপুর ঘাট থেকে এমভি শরীয়তপুর-১ মুলাদির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। দুপুর ১টায় মিরাজ-২ এবং বিকাল ৩.৪০ মিনিটে এমভি সোনারতরী-২ চাঁদপুর ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।

বন্দরের আরেক পরিদর্শক মাহতাব উদ্দিন বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ৯টি লঞ্চই আবার চাঁদপুর ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে ছেড়েগেছে। অন্য কোন লঞ্চ না থাকায় সিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। পুলিশ থাকলেও আমাদের নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, সর্বশেষ বিকাল ৫টায় চাঁদপুর ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে এমভি বোগদাদিয়া-৭। চাঁদপুর থেকে প্রতিদিন নিয়মিত ছেড়ে যায় ২৩টি লঞ্চ।

এসব লঞ্চ ডাকাতিয়া নদীর পুরনো লঞ্চঘাট এলাকায় নঙ্গর করে রাখা হয়েছে। এছাড়াও নারায়নগঞ্জ রুটের এমএল নিলু,এমভি-ময়নামতি ও হেদায়াত নামে তিন’টি লঞ্চ চাঁদপুরে এসেছে। এ তিনটি লঞ্চও সন্ধ্যার আগে নারায়নগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর নৌ-থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবু তাহের খান জানান, চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালি থেকে বিকেলের মধ্যে মোট ৯টি লঞ্চ ঢাকা,মুলাদী,উপাদী,শৈলা, নারায়নগঞ্জের উর্দ্দেশে ছেড়ে গেছে। নৌ-টার্মিনালে যাত্রীদের সেবায় পুরোপুরি নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। নৌ-টার্মিনালে নৌ-পুলিশ ছাড়া ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এখানকার আইন শৃংখলা অনেক ভাল অবস্থায় রয়েছে। এ ব্যাপারে লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি আলী আজগর সরকার জানান,দুপুরের পর থেকে ঢাকার উর্দ্দেশে অনেক লঞ্চ ছেড়ে গেছে। বিকেল ৫টায় এমভি বোগদাদিয়া-৭ ঢাকার উর্দ্দেশে ছেড়ে গেছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় নেতা, চাঁদপুর-ঢাকা রোড কমিটির সভাপতি ও রফরফ লঞ্চের মাস্টার মো: হারুন-অর-রশিদ মুঠো ফোনে জানান,আমাদের কর্মবিরতী অব্যাহত আছে। চাঁদপুর থেকে শনিবার দুপুরের পর ২টি লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে গেছে।

এ সব লঞ্চ মালিক পক্ষের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে চালানো হচেছ। লঞ্চে কোন মাস্টার,ড্রাইভার,কোয়াটার মাস্টার,গ্রিজার ছাড়াই লঞ্চ মালিকরা মেকানিকেল কর্মচারী ও কেবিন ব্যায় দিয়ে লঞ্চ চালাচেছ। এতে দুর্ঘটনা ও ঘটছে। শনিবার দুপুরে একটি লঞ্চঘাটে ভিড়ানোর সময় অদক্ষতার কারনে চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালের পল্টুন ভেঙ্গে ফেলেছে।

আমাদের দাবী আদায়ে সরকার চাইলেও মালিকরা সরকারকে মানছেনা। দাবী নামানা পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতী চলবে। আমরা যাত্রী হয়রানি চাইনা। আমাকে গতকাল নৌ-পুলিশ চাপ প্রয়োগ করেছে লঞ্চ চালানোর জন্য। এ ছাড়া মালিকের সন্ত্রাসী বাহিনী ও গ্রু প আমাকে চাপ দিচেছ লঞ্চ চালানোর জন্য। বর্তমানে মাস্টার,ড্রাইভার ছাড়া লঞ্চ চালানো হচেছ। এতে যাত্রীদের যে কোন মুহুতে দুর্ঘনায় পড়ার ঝুকি রযেছে।

চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, সকাল থেকেই লঞ্চঘাটের নিরাপত্তার জন্য স্পেশাল পুলিশ ও নৌ-পুলিশ ঘাটে দায়িত্ব পালন করেছে। আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তা ও নিরাপদে যাতায়াতের ব্যবস্থা রেখেছি। যে ক’টি লঞ্চ এসেছে এবং ছেড়েগেছে কোন ধরণের সমস্যা হয়নি। লঞ্চ চলাচল করায়, নৌ-যান শ্রমিকরা প্রথম দিনে ব্যার্থ হয়েছে। চাঁদপুর থেকে ঢাকার উর্দ্দেশে ৩টি ও নারায়নগঞ্জের ৪টি লঞ্চ ছেড়ে যায়। আরো ২টি লঞ্চ রাতে ঢাকার উর্দ্দেশে ছেড়ে যাবে।

তবে ঘাটে যাত্রীর চাপ তেমন নেই। চাঁদপুর থেকে সকালে কোন লঞ্চ ছেড়ে যায় নাই। কোন দুর্ঘটনা ও সমস্যা হয়নি। চাঁদপুরের স্থানয়ি প্রশাসন ও নৌ-পুলিশের সহায়তায় রয়েছে। তাদের সহায়তায় আজ রোববার আরো লঞ্চ চালানো হবে। তবে প্রশাসনের সহায়তা থাকলে নৌ-যান কর্মবিরতীর মধ্যেও তাদের লোকেরা কাজ করছে,আরো কাজে যোগ দিবে।

একই রকম খবর