ফরিদগঞ্জে ইউপি প্রার্থী তালিকা নিয়ে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা !

শওকত আলী /মামুন হোসাইন : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এনিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে তৃনমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে। ইতিমধ্যেই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী তার স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃদকে জানানোর সাথে সাথে তাদের নিদের্শের পর আজ রোববার (৫ ডিসেম্বর) লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনানিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে তৃনমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে এবং এলাকা ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করতে দেখা যাচ্ছে।

জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ৫ম ধাপের তফসিল অনুযায়ী আগামী ৫ জানুয়ারী চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই অনুযায়ী ইতিপুর্বে প্রতিটি ইউনিয়নে সম্পন্ন হওয়া তৃনমূলের বর্ধিত সভা থেকে প্রেরিত তালিকা থেকে তৃণমূল জরিপ অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের জন্য উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী এবং সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকার গত ২৯ নভেম্বর যৌথ স্বাক্ষর দিয়ে ১৩টি ইউনিয়নের প্রার্থী তালিকা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতির তালিকা পাঠিয়ে দেয়।

কিন্তু তাদের উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরকৃত তালিকা পরিবর্তন করে প্রার্থী তালিকা পরিবর্তন করে ভিন্ন একটি তালিকা কেন্দ্রে জমা দেয়ার অভিযোগ উঠে। উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের এরকম দুটি তালিকা হাতে পাওয়া গেছে।

তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে দুটি তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় তালিকা পরিবর্তন করা হয়েছে। তালিকা দুটিতে সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকারের স্বাক্ষর অবিকল থাকলেও সন্দেহের উদ্রেক হয় সভাপতি আবুল খায়ের পাটওয়ারীর দুই রকম স্বাক্ষর নিয়ে।

বিষয়টির নিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী জানান, যেই চিঠিতে তৃনমূলের জরিপ অনুসারে চেয়ারম্যান আ: কাদের খোকনকে যেই তালিকা প্রদান করা হয়েছে সেটাতে তিনি নিজে স্বাক্ষর দিয়েছেন। যার প্রমাণপত্র তার কাছে রয়েছে। কিন্তু ওই ইউনিয়নের প্রার্থী তালিকা পরিবর্তন করে আরেকটি তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয় বলে তিনি জেনেছেন।

পরে তিনি ওই কপি সংগ্রহ করে দেখেছেন সেটিতে তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।এছাড়া আরো কয়েকটি ইউনিয়নে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

তাই তাৎক্ষনিক তিনি দলের যুগ্মসম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনসহ উধ্বর্তন নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেছেন। সর্বশেষ শনিবার(৪ ডিসেম্বর) শেষবিকালে আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবগত করার চেষ্টা করেছেন। সেই অনুযায়ী আজ রোববার (৫ ডিসেম্বর) সকালে তিনি স্বাক্ষর জালিয়াতি করে প্রার্থী তালিকা পরিবর্তন করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর লিখিত আবেদন করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকার জানান, কে বা কারা এটা করেছে, তিনি তা জানেন না। তার কাছ থেকে অনেকেই এই তালিকা নিয়েছেন।

এদিকে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তৃণমূলের প্রার্থী জালিয়াতির বিষয়ে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোয়ন প্রত্যাশী আ: কাদের খোকন ও বর্তমান চেয়ারম্যান ইসকান্দার আলী জানান, এই ধরনের জালিয়াতী আমরা আশা করি না। এভাবে তৃনমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দলের নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমে যাবে। যারা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন এবং তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা একান্ত প্রয়োজন বলে দলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে তাদের মতামত প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারী জানান, স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি আমি জেনেছি। তবে প্রার্থী তালিকা পরিবর্তন ও জালিয়াতির বিষয়টির দায় দায়িত্ব উপজেলা আওয়ামীলীগের। তবে ক্রমিক পরিবর্তন নিয়ে এইটুকু বলতে পারি। তালিকার প্রথমে বা শেষে থাকা নিয়ে কোন বিশেষত্ব নেই। যে কেউ মনোনয় পেতে পারে।

একই রকম খবর