ফরিদগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের গভীর ষড়যন্ত্র

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকার মৃত আব্দুল আউয়াল (মুন্সি)’র ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তোফাজ্জাল হোসেন চৌধুরীর পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা ও গভীর ষড়যন্ত্রে লীপ্ত রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। বীর মুক্তিযোদ্ধার পক্ষ থেকে পিতার সম্পত্তি রক্ষায় আইনী প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নিলেও প্রতিপক্ষ চক্রটি নানাভাবে প্রভাব খাটিয়ে তাদের পক্ষে নেয়ার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

তারা সম্প্রতি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মামলা খারিজ হওয়ার পর সম্পত্তি দখল করে নেয়ার জন্য নতুন করে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। এসব ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধ নতুন করে ন্যয় বিচার পেতে চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আরেকটি রিভিশন মামলা (মামলা নং-২২২) করেছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানাগেছে, ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়াল (মুন্সি) পিতা আব্দুল মজিদ। অর্থাৎ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর দাদা আব্দুল মজিদ এর পর তার পিতা আব্দুল আউয়াল (মুন্সি)’র ওয়ারিশ হিসেবে মালিক। মুক্তিযোদ্ধার দাদা আব্দুল মজিদ ৩২৬নং সাবেহগঞ্জ মৌজার সিএস ১৭৬নং খতিয়ানে ৮.৮৯ একর ভূমির হার অংশে মূল মালিক ও দখলদার ছিলেন। পর্যায়ক্রমে পৈত্রিক সম্পত্তির মালিক হন বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী গংরা।

কিন্তু ২০২১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর একই এলাকার মৃত মজিবুল হক মজুমদার এর ছেলে রুহুল আমিন মজুমদার, হাবিব উল্ল্যাহর ছেলে আয়াত উল্ল্যাহ মজুমদার, মুজাম্মেল হোসেন, মৃত আনার উল্লাহ’র ছেলে বোরহান ও মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে আনোয়ার হোসেন গংরা বীর মুক্তিযোদ্ধার উল্লেখিত দাগের দখলীয় সম্পত্তির বিভিন্ন গাছের বাগান দখল এবং ফল ফলাদি চুরি করে নেয়া এবং ক্ষয়ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। ঘটনার দিনে অন্যদের সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বেঁচে যান। একই ব্যাক্তিরা আবার পরদিন অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর অনুমান সকাল ৮টার দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভূমি দখলের চেষ্টা ও তাদেরকে প্রাণ নাশের হুমকি ধমকি দেন।

এসব ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জাল হোসেন চৌধুরী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌঃ কার্য বিধি আইনের ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। সে মামলা তদন্ত শেষে খারিজ হয়ে যায়। বিবাদী পক্ষ নালিশী ভূমি দখলে আছেন মর্মে আদালত সংক্ষিপ্ত রায় দেন।

এই বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আমাকে মামলার ঘটনা প্রমাণ করার সুযোগ দেননি। এক লাইনের রায় দিয়েছেন। যার কারণে আমি ন্যয় বিচারের জন্য চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আবার নতুন করে রিভিশন মামলা দিয়েছি। ওই মামলার বিবরণে আমি সকল তথ্য তুলে ধরেছি।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মামলাটি প্রতিপক্ষের লোকজন তদন্ত কাজে প্রভাব বিস্তার করেছেন। যে কারণে সঠিক তদন্ত আসেনি। ওই মামলার রায় পাওয়ার পর তার আবার আমাকে এবং আমার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। তারা যে কোন সময় আমাদের বড় ধরণের ক্ষতি করার আশঙ্কা করছি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রশাসনের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

একই রকম খবর