ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ৫ একর ৩৩ শতক সম্পত্তি বেদখলে

এস,এম ইকবাল ফরিদগঞ্জ: ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ১০ একর সম্পত্তির মধ্যে ৫ একর ৩৩ শতক সম্পত্তি বেদখল থাকার অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্য সূত্রে জানাযায়, পুর্ব পাকিস্তান আমলে চাঁদপুর মহকুমার ফরিদগঞ্জ টিটিএন্ড ডিসি এর নামে ১০ একর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা হয়।

সেই অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের এলএ কেস নং- ১৯২/৬৩-৬৪ সালে কাছিয়াড়া গ্রামের ২৯১ নং মৌজায় ৪৫ জন ব্যক্তির নিকট থেকে ৩৪ হাজার টাকা মূল্যে সম্পত্তি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া ১৯৫৭ সালে সাবকবলা দলিল মুলে সিও ডেভেলপমেন্টের নামে আরো ৬৭ শতক ভুমি ক্রয় করা হয়।

উপজেলা পরিষদ তাদের অধিগ্রহণকৃত ১০ একর সম্পত্তির মধ্যে ৫ একর সম্পত্তির খাজনা দিয়ে আসলেও বতর্মানে মাত্র পরিষদের দখলে রয়েছে ৪ একর ৬৭ শতক ভূমি।

সম্প্রতি মডেল মসজিদের ভূমি অধিগ্রহণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদের সম্পত্তির হদিসের বিষয়টি আলোচনায় আসে। উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলা প্রকৌশলী ড. জিয়াউল ইসলাম মজুমদার উপজেলা পরিষদের সম্পত্তির হদিস নেই বলে তথ্য দেওয়ার প্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদের ভাইসচেয়ারম্যান জি এস তছলিম আহমদকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা পরিষদের সম্পত্তি যাচাই বাছাই ও রক্ষা উপ-কমিটি গঠন করা হয়।

একাধিক সূত্র জানায়, প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা মডেল মসজিদের জন্য যেই সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তা পূবেই উপজেলা পরিষদের অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি ছিল। ফলে কার্যত: সরকারের একই সম্পত্তি দু‘বার অধিগ্রহণ হলো কি ? প্রশ্ন জনমনে । বিগত ৬ দশক উপজেলা পরিষদের সম্পত্তির খোঁজ- খবর সঠিকভাবে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ না রাখায় অধিকাংশ সম্পত্তি ব্যাক্তি মালিকানায় চলে যাওয়ার আশংকা করছে অনেকে।

উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মানের জন্য যে, ৬ কোটি টাকার সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাতে বিশ^স্ত সূত্রে জানাযায়, সম্পত্তির মালিকানা দাবীতে হেরফের থাকার কারণে পূর্ণ টাকায় সহি স্বাক্ষর করে দিলেও ৫০/৬০ শতাংশ টাকা পেয়েছেন সম্পত্তির দাবী করা মালিকরা। বাকি টাকা মধ্যসত্বা অর্থাৎ অধিগ্রহণের সাথে জড়ি থাকা কর্মকর্তাদের পকেটে।

সম্পত্তি যাচাই-বাচাই ও রক্ষা উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও ভাইসচেয়ারম্যান জি এস তছলিম জানান, সরকার উপজেলা পরিষদের নামে ১০ একর সম্পত্তি অধিগ্রহণ করলেও বতর্মানে তার অর্ধেকের বেশি বেদখল হওয়া উদ্বেগ জনক। আমরা সুক্ষ্মভাবে কাজ করবো। বেহাত হওয়া সম্পত্তি কোথায় কিভাবে রয়েছে তা বের করার চেষ্টা করবো।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান বলেন, উপজেলা পরিষদের সম্পত্তির বিষয়টি পরিষদের মাসিক সভায় উপস্থাপনের পর এই বিষয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্পত্তি কোথয়া রয়েছে এর হদিস বের করার পর করণিয় বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি জানান, সম্পত্তির বিষয়ে একটি যাচাই-বাচাই ও রক্ষা উপ-কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সার্টিফাইকপির জন্য আবেদন করা হয়েছে, আমরা সার্টিফাই কপি পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো। মডেল মসজিদের ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়ম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে সুর্নিষ্টি লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান জানান, উপজেলা পরিষদের সম্পত্তি কোনভাবেই বেহাত হতে দেওয়া যাবে না। আমি নির্দেশ দিয়েছি অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক সম্পত্তি উদ্ধার করার জন্য । এ বিষয়ে কোন আপোষ নেই। তাছাড়া তিনি আরোও জানান , সার্টিফাই কপি দ্রুত এনে সম্পত্তি উদ্ধারের মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছি ইউএনওকে।

একই রকম খবর