বাবুরহাট রমেশ দের বাড়িতে বিয়ের দিন তারিখের পর কনে উধাও!

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর পৌরসভার বাবুরহাট এলাকার রমেশ দে’র বাড়ির শ্রী নয়ন চন্দ্র দে’র মেয়ে স্বর্ণালী দে’র সাথে ক্ষ্মীপুর রামগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা দুলাল সরকারে পুত্র লিটন সরকারের সাথে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক হওয়ার পরে কনে স্বর্ণালী প্রেমের টানে বাড়ি চলে প্রেমিকের হাত ধরে চলে যায়।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, ক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সরকারি চাকুরীজিবী লিটন সরকারের সাথে শহরের বাবুরহাট এলাকার রমেশ দে’র বাড়ির শ্রী নয়ন চন্দ্র দে’র মেয়ে স্বর্ণালী দে’র বিয়ের জন্য লিটনের এক আত্মীয়র গত এক বছর পূর্বে দেখা স্বাক্ষাত পর্ব শেষ হয়।

উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে গত ৩ মাস পূর্বে ছেলে মেয়র পরিবার বর্গ আশির্বাদের পর্বও শেষ করে বিয়ের দিন তারিখ দেওয়া হয়। আগামী ১৯ নভেম্বর সোমবার বিয়ের দিন তারিখ ধার্য করা হয়। এতে উভয় পক্ষই বিয়ের পূর্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে।

ছেলে মেয়ে উভয় পক্ষই বিয়ের কার্ড ছাপিয়ে আত্মীয় স্বজনদের মাঝেও বিতরণ করে। ছেলে পক্ষরা তাদের বাড়িতে বিয়ের প্যান্ডেল ও গেইট সম্পন্ন করে এবং বিয়ের সকল প্রকার কেনা কাটাও করে ফেলে।

এরই মধ্যে স্বর্ণালীর পুর্ব প্রেমিক নারায়নগঞ্জের চাসারা এলাকার বাবুল রায়ের পুত্র পিয়াস রায় (স্বর্ণালী সম্পর্কে বেয়াই) লিটন সরকারের মোবাইলে ফোন করে তাকে এ বিয়ে থেকে সরে যেতে বলে। লিটন সরকার কারন জানতে চাইলে পিয়াস জানায়, স্বর্ণালীর সাথে তার দির্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ক গভীরে গিয়ে পৌচেছে এবং আমরা একে অপরকে ভিষন পচন্দ করি। তাই আপনি সেচ্ছায় এ বিয়ে ভেঙ্গে দিন।

আর জোড় করলে আপনাকে প্রস্তাতে হবে। এর পরেই লিটন স্বর্ণালীর বাবাকে বিষয়টি অবহিত করে। এরই মধ্যে গত সোমবার দুপুরে স্বর্ণালী কলেজের নাম দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পিয়াসের হাত ধরে লঞ্চযোগে নারায়নগঞ্জ চলে যায়। সেখানে গিয়ে স্বর্ণালী লিটনকে ফোন করে জানিয়ে দেয় আমি পিয়াসের নারায়ানগঞ্জ চলে এসেছি।

এ বলেই ফোন কেটে দেয়। লিটন তাৎক্ষনিক স্বর্ণালীর বাবাকে বিষয়টি অবহিত করলে স্বর্ণালীর বাবা রমেশ দে তার নিকট আত্মীয়দের সাথে নিয়ে নারায়নগঞ্জ চলে যায় এবং সেখানে গিয়ে মেয়েকে দেখতে পেয়ে পিয়াসের পরিবারের লোকজনদের সাথে শালিশি বৈঠকের মাধ্যমে সেখান থেকে স্বর্ণালীকে উদ্ধার করে চাঁদপুরে নিয়ে আসে। এতেও স্বর্ণালীর প্রেমিক পিয়াস হাল না ছেড়ে লিটন সরকারের মোবাইলে পিয়াস ও স্বর্ণালীর বেশ কিছু অশ্লিল ছবি ও ভিডিও পাঠায়। এ দেখে লিটন সরকার তাদের প্রেমের সম্পর্কের সত্যতা প্রমান পায়।

এ বিষয়ে লিটন সরকারের সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, স্বর্ণালী তার পূর্ব প্রেমিক থাকা সত্বেও এবং তার সাথে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার পরেও কেন আমার সাথে এ ধরনের প্রতারণা করলো। সেতো তার পরিবারকে ও আমাকে জানাতে পারতো, আমি এ বিয়েতে রাজি নই। তাহলে আমি ও আমার পরিবার কোন মতেই এ বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করতাম না এবং বিয়ের কেনাকাটা ও আনুসাঙ্গিক কাজ করতামনা। সে একজন প্রতারকের ভুমিকা পালন করেছে। আমাকে মানষিক ও আর্থিক ভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। আমি স্বর্ণালির এহেন প্রতারণা মূলক কর্মকান্ডের দৃষ্টান্ত মূলক সাস্তি চাই।

এ বিষয়ে স্বর্ণালীর বাবা শ্রী নয়ন চন্দ্র দে’র সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমার মেয়ে আমার ও লিটন সরকারের মাথা কেটে দিয়েছে। আমি এ বিষয়ে পিয়াসকে পূর্বেই সতর্ক করে দেই এবং সে তার আত্মীয় স্বজনের সম্মুখে লিখিত ভাবে স্বিকারোক্তি দেয় যে, আমার মেয়ের সাথে কোর প্রকারের সম্পর্কে জড়াবেনা। তার পরেও ভিতরে ভিতরে তাদের সম্পর্ক যে ঠিক ছিল তা আমার জানা ছিলো না।

পিয়াস একজন প্রতারক দুষ্ট প্রকৃতির ছেলে। সে আমার ও আমার মেয়ের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নষ্ট করে দিয়েছে। সে কেন আমার এতো বড় ক্ষতি করলো। আমিওতো বিয়ের পূর্ব প্রস্তুতি কেনা কাটা ও কার্ড ছাপানে সহ আনুসাঙ্গিক সকল কাজ সম্পন্ন করেছি। আমি পিয়াসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।

একই রকম খবর

Leave a Comment