চাঁদপুরে বিজয় দিবস উদযাপনকল্পে প্রস্তুতি সভা

এমএম কামাল : চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেছেন,জয় বাংলা ধ্বনি নিয়ে কোন বিদ্রুপ কথা বা মন্তব্য সহ্য করা হবে।অাইনি প্রক্রিয়ায় ওই সব স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।কারন তৎকালীন সময়ে বাঙালীদের এই জয় বাংলা ধ্বনি শুনলেই ভয়ে কেঁপে উঠতো ওই পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী।অার বাঙ্গালী বীর সেনারা তখন যুদ্ধে যেই অংশের বিজয় পেতো তখনই জয় বাংলা বলে বিজয় উল্লাস করতো।অার এই জয় বাংলা বাঙ্গালীরা বলতে পেরেছেন স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য।তাই জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলার মাধ্যমে অামরা অামাদের বিজয় দিবসকে মনে ও অাদর্শে লালন করি।

৫ অক্টোবর সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চাঁদপুরে বিজয় দিবস উদযাপনের এক প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অারো বলেন,চাঁদপুরের অঙ্গীকার ভাষ্কর্যটি একটি ঐতিহ্য।তাই এটির যত্নে যা প্রয়োজন তাই করা হবে।এছাড়াও শহরের রাজু ভাষ্কর্যসহ যতগুলো ভাষ্কর্য নির্মাণাধীন অাছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি অারো বলেন,সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ বিজয় ফুল তৈরি।অার এই বিজয় ফুল তৈরি শেষে এগুলো বিক্রি করে ফান্ড গঠনে শিক্ষকদের মনযোগি হতে হবে।কারন বিজয় ফুল বিক্রির পুরো ফান্ডটিই মুক্তিযোদ্ধা এবং দুঃস্থদের জন্য ব্যবহার করা যাবে।এ সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মোহাম্মদ শওকত ওসমানের পরিচালনায় এ সময় যথাক্রমে অারো বক্তব্য রাখেন,পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির।তিনি বলেন, এবারের ডিসেম্বর মাসটি নির্বাচন সময়কালীন মাস হওয়ায় খুব গুরুত্বপূর্ন।তাই এই বিজয়ের মাসে বিজয় দিবসের দিনে স্বাধীনতা বিরোধীরা যে কোন রকমের চক্রান্ত চালাতে তৎপর থাকতে পারে।কারন মহান এই বিজয় দিবসের দিনে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণী পেশার মানুষ বিজয় দিবসের উল্লাসে মেতে থাকবেন।কিন্তু অামরা জেলা পুলিশ ওই স্বাধীনতা বিরোধীদের সব রকমের চক্রান্ত মোকাবেলা করতে প্রস্তুত।তিনি অারো বলেন,বিজয় দিবসে চাঁদপুরে সব কিছুই থাকবে স্বাভাবিক।স্বাধীনতা বিরোধীদের অাতঙ্কে থাকবে শুধু জেলা পুলিশ।পুরো শহরে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে।বিজয় দিবসে নির্বাচনকালীন মাসের কোন প্রভাব পড়তে দেওয়া হবে না।

এ সময় অারো বক্তব্য রাখেন,চাঁদপুর জেলা অাওয়ামীলীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন অাহমেদ।

তিনি বলেন,যারা জয় বাংলা ধ্বনিকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করে ওরা দেশের শত্রু।ওরা হলো জানোয়ার,বেইমান।ওদেরকে অাওয়ামীলীগ ত নয়-ই বিরোধী দলেও ওই সব স্বাধীনতা বিরোধীদের থাকতে দেওয়া হবে না।ওদেরকে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি জনগনকে সাথে নিয়ে এই দেশ থেকে বিতাড়ীত করবে।

তিনি অারো বলেন,বিএনপি জামাত যদি মনে করে ওরা তলে তলে কাজ করছে অামাদের কাছে এর কোন খবর নেই।তা হলে ভুল ভাবছে বিএনপি জামাত।অামরা অাওয়ামীলীগ নির্বাচনের মাঠেই সেই জবাব দিবো।উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে।

এ সময় অারো বক্তব্য রাখেন,চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী।তিনি বলেন,বিজয় ফুল বিক্রির ব্যপারে শিক্ষকদের সাথে অালোচনা ও প্রশিক্ষন করলে ভালো হবে।অার বিজয় দিবসে যদি শিক্ষার্থীদের বানানো বিজয় ফুলগুলো বিক্রির ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেয়া যায় তাহলে খুব ভালো ফান্ড তৈরি করা সম্ভব।

এ সময় তিনি অঙ্গীকারের সুন্দর্য বর্ধনে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

এ সময় অারো বক্তব্য রাখেন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও অাইসিটি) মো. মঈনুল হাসান,জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদ,চাঁদপুর সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ এস এম দেলোয়ার হোসেন,জেলা পরিষদ সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান,স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী,সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা,জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা কাউছার অাহমেদ,সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সভাপতি তপন সরকার প্রমুখ।এ সময় জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ,সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগন উপস্থিত ছিলেন।

একই রকম খবর

Leave a Comment