মতলবে অর্ধশতাধিক ব্যক্তির ভাতার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

সমির ভট্টাচার্য্য : চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন অর্ধশতাধিক ব্যক্তির বয়স্ক ভাতার দুই লক্ষাধিক টাকা গত দু-তিন দিন ধরে অভিনব কৌশলে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গত রোববার বিকেলে একাধিক ব্যক্তি স্থানীয় সমাজসেবা অধিদপ্তরে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেন। রোববার রাতে ভুক্তভোগী তিনজন মতলব দক্ষিণ থানায় পৃথক পৃথক সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন।

অভিযোগকারী ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার উত্তর নলুয়া গ্রামের বেগমজান (৬৬), উত্তর দিঘলদী গ্রামের আ. বারেক (৭০) ও পূর্ব দিঘলদী গ্রামের মো. তাজুল ইসলাম (৬৮)। তাঁরা উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে দীর্ঘদিন ধরে মুঠোফোন ব্যাংকিং ‘নগদ’র হিসাব নম্বরের মাধ্যমে বয়স্কা ভাতার টাকা পাচ্ছেন।

উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ওই উপজেলায় বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ১০০। প্রতি মাসে তাঁরা ৫০০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন। প্রতি তিন মাস, ছয় মাস এবং ক্ষেত্রবিশেষে এক বছর পর পর মুঠোফোন ব্যাংকিং ‘নগদ’র হিসাব নম্বরে তাঁদের এককালীন ওই টাকা জমা হওয়ার পর তাঁরা সে টাকা উত্তোলন করে থাকেন। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে পুরোনো তালিকাভুক্ত ভাতাভোগীদের গত এপ্রিল, মে ও জুন মাসের ভাতার টাকা কয়েক দিন আগে তাঁদের ‘নগদ’র হিসাব নম্বরে জমা হয়। এ ছাড়া নতুন তালিকাভুক্তদের এক বছরের বয়স্ক ভাতার টাকাও জমা হয় তাঁদের হিসাব নম্বরে।

উপজেলার উত্তর দিঘলদী গ্রামের বৃদ্ধ আ. বারেক অভিযোগ করেন, গত শনিবার তাঁর নগদ’র হিসাব নম্বরে বয়স্ক ভাতার এক বছরের এককালীন ৬ হাজার টাকা জমা হয়। এর কিছুক্ষণ পর অজ্ঞাত একটি মুঠোফোনের নম্বর থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের লোক পরিচয় দিয়ে তাঁর হিসাব নম্বরের পিনকোড জানতে চাইলে সরল মনে তিনি তা জানিয়ে দেন। এরপর হিসাব নম্বরের ব্যালেন্স যাচাই করে দেখেন, সেখানে কোনো টাকা নেই। তাঁর সমুদয় টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন ওই প্রতারক। গতকাল রোববার বিষয়টি লিখিতভাবে সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানান। থানায় এ মর্মে জিডিও করেন।

উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ওই প্রতারক চক্র একই কায়দায় উপজেলা উত্তর নলুয়া গ্রামের বেগমজান, আল্লাদী পোদ্দার, লজ্জতুননেছা ও পূর্ব দিঘলদী গ্রামের ছাফিয়া বেগমসহ অর্ধশতাধিক ভাতাভোগী ব্যক্তির হিসাব নম্বরে জমা হওয়া দুই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন। লিখিত অভিযোগ ছাড়াও অনেকে ওই অধিদপ্তরে মৌখিক অভিযোগও করেন এ ব্যাপারে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, এ-সংক্রান্ত একাধিক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ওই প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছেন। প্রতারকচক্রের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরগুলোও পুলিশের কাছে দিয়েছেন। এ ছাড়া হিসাব নম্বরের পিনকোড কোনো মতেই কাউকে না দেওয়ার জন্যও সংশ্লিষ্ট ভাতাভোগীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, তিন বয়স্ক ভাতাভোগী এ ব্যাপারে গতকাল রোববার তাঁর থানায় জিডি করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

 

একই রকম খবর