মতলবে চীনাচাঁই ও নিষিদ্ধ জালে চলছে মাছ শিকার

সমির ভট্টাচার্য্য : চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার প্রায় সবকটি খালে, বিলে ও ধনাগোদা নদীতে গত দুমাস ধরে নিষিদ্ধ কারেন্ট ও ভেল (ভেসাল) জাল এবং চীনাচাঁই পেতে জেলেরা ব্যাপক হারে দেশি জাতের মাছসহ নানা জলজ প্র্রাণী নিধন করার অভিযোগ উঠেছে।

এতে হুমকিতে রয়েছে এসব মাছ ও বিপন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণী। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে এসব চাঁই ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বেড়েছে।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ১৯৫০ সালের মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে কারেন্ট ও ভেল জাল এবং চীনা চাঁইয়ের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এ আইন অমান্যকারীর এক থেকে দুবছরের কারাদন্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকার জরিমানা হতে পারে।

সরজমিনে উপজেলার ধনাগোদা নদীর বাইশপুর, গাজীপুর, কাজিরবাজার ও মাছুয়াখাল, নারায়নপুর এলাকায় এবং মতলব-বাবুরহাট ও বাইশপুরসহ আরও কয়েকটি খালে দেখা যায়, সেখানে বেশ কিছু ভেল ও কারেন্ট জাল এবং চীনা চাঁই পাতা রয়েছে। সেগুলোয় প্রচুর পরিমাণে নিধন হচ্ছে টেংরা, বজুরি, পুঁটি, পাবদা, শিং, কই ও আইরসহ বিভিন্ন জাতের ছোট-বড় দেশি মাছ। ব্যাঙ, কুছিয়া ও সাপসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীও নির্বিচারে নিধন হচ্ছে।

উপজেলার বরদিয়া এলাকার এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বাড়ির পাশেই মতলব-বাবুরহাট খাল। খালটির ৩০-৩৫টি অংশে ভেল জাল পাতা। কিছু অংশে চীনা চাঁইও পাতা হয়েছে। এসব জালে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন দেশি প্রজাতির মাছ নিধন হচ্ছে। সাপ ও ব্যাঙসহ অন্যান্য প্রাণীও ধরা পড়ছে। এভাবে চললে এসব মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য অস্তিত্ব হারাবে। এসব জালের মজুত, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যথাযথ নজরদারি না থাকায় এমনটি হচ্ছে বলে জানান তিনি ।

উপজেলা সদর মাছ বাজারের মাছ বিক্রেতা স্যামল দাস বলেন, কয়েকদিন ধরে তাঁর মাছবাজারে প্রতিদিন গড়ে তিন-চার মণ করে ছোট-বড় দেশিজাতের মাছ বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে কিনছেন এগুলো। উপজেলার মতলব সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক তাসলিমা আক্তারের ভাষ্য, তাঁর উপজেলায় যে পরিমাণে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার হচ্ছে তা উদ্বেগজনক। এটি অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশি জাতের মাছ ও জলজ প্রাণিরা অস্তিত্বহীন হবে। নষ্ট হবে পরিবেশের ভারসাম্য।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে গত এক মাসে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে চারটি অভিযান চালানো হয়েছে। এতে ২০ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ৫৬০টি চীনা চাঁই জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারদন্ড দেওয়া হয়েছে দুজনকে। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না তবু।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা হক বলেন, নিষিদ্ধ জালের মজুত, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে তাঁর প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের নজরদারি না থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

একই রকম খবর