মতলব উত্তরে চাঁদাবাজি ও ড্রেজার পোড়ানোর মামলার ৪ আসামী কারাগারে

মতলব উত্তর সংবাদদাতা : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দশানী গ্রামে চাঁদাবাজি ও ড্রেজার পোড়ানোর মামলায় চার জন আসামীকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গত ৩১ মে দশানী গ্রামের ইছহাক মাস্টারের ছেলে মোঃ আক্তার হোসেন (৪১) বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় কলাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামী করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামীরা জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ মতলব বিচারিক আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ কামাল হোসাইন তা নামঞ্জুর করে আসামী বাদল সরকার, সোহরাব সরকার, রাসেল সরকার ও সেন্টু বেপারীকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, বাদী সরকারি নিয়মনীতি মেনে ড্রেজারের কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। আসামীরা তার ব্যবসার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রায় সময় বাদীর ও তার কর্মচারীর নিকট ড্রেজার ব্যবসা চালাতে হলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে দাবী করে। চাঁদা না দিলে ড্রেজারের ব্যবসা পরিচালনা করতে দিবে না।

আসামীরা বাদীর নিকট থেকে চাঁদা না পেয়ে বাদীকে ও ড্রেজারের ক্ষতিসাধন করার জন্য পায়তারা করে অপরাধজনক পরিকল্পনা করে সুযোগ খুঁজতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ মে দুপুরে উত্তর দশানী বাদীর বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার পশ্চিমে মেঘনা নদীতে এসে সকল আসামীরা সমস্বরে বাদীর নিকট ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে বলে যে, তুই ড্রেজারের ব্যবসা করতে হলে আমাদেরকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। না হলে বাদীকে ব্যবসা পরিচালনা করতে দিবে না। বাদী আসামীদেরকে তাদের দাবীকৃত ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসামীরা বাদীকে এলোপাথাড়ী মারধর শুরু করে।

বাদীকে রক্ষা করার ড্রেজার শ্রমিক আমিন হোসেন ও আমিনুল ইসলাম এগিয়ে আসলে তাদেরকেও এলোপাথাড়ী মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে এবং বাদীকে ও ড্রেজার শ্রমিকদেরকে ড্রেজার থেকে নামিয়ে দেয়। পরে সকল আসামীরা বাদীর ড্রেজারে থাকা ৫ ড্রাম ডিজেল সমস্ত ড্রেজারে ছিটাইয়া মামলার প্রধান আসামীর হাতে থাকা দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে এমভি বিসমিল্লাহ ড্রেজার-২ নামে ড্রেজারটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়।

যার ফলে বাদীর ড্রেজারটি পুড়ে প্রায় ২৭ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন হয়। বাদী ও স্বাক্ষীর আর্তচিকৎকারে আশপাশের লোকজন সহ অন্যান্য সাক্ষীগণ ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসলে আসামীরা সবাইকে জীবনে হত্যা করে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বাদী ও সাক্ষীগণ নদী থেকে পানি দিয়ে ড্রেজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

মামলার আসামীরা হলেন, কলাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান সোবহান সরকার সুভা, উত্তর দশনীর মোঃ বাদল সরকার, মোঃ সোহরাব সরকার, মোঃ রাসেল সরকার, মোঃ রাজিব সরকার, সেন্টু বেপারী, বাহাদুরপুরের ছিডু শিকদার, উত্তর দশানীর মোঃ তাজল সরকার, মিন্টু বেপারী, কাউছার, বাহাদুরপুরের কাউছার, বজলু, উত্তর দশানীর সদু বেপারী ও আলম বেপারী সহ আরো অজ্ঞাতনামা ১৫-১৬ জন।

একই রকম খবর