মতলব উত্তরে স্কুলছাত্রী নিখোঁজের জিডি তদন্তে তৎপর ছিল না পুলিশ !

বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁদপুরের মতলব উত্তরে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী শারমিন আক্তার কাকুলী নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরী (জিডি) তদন্তে পুলিশ তৎপর ছিল না বলে অভিযোগ তার পরিবারের।

২৮ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন থানায় জিডি করেন কাকুলীর মা রোকেয়া বেগম। ২২ এপ্রিল লাশ উদ্ধার করা পর্যন্ত সময়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তদন্ত করলে আরো আগেই লাশের সন্ধান পাওয়া যেত বলে মনে করছেন নিহতের পরিবার।

তবে জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাহিদ হোসেন বলেন, ২৯ মার্চ জিডি হওয়ার পর ১ এপ্রিল তিনি তদন্তে গিয়েছি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে খোঁজখবর নিয়েছি। এবং যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই জিডি তদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু কাকুলীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি লাশ উদ্ধারের দুইদিন আগে জানিয়েছিলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সব অফিস বন্ধ থাকায় কল লিস্ট উঠানো সম্ভব হয়নি।

২২ এপ্রিল লাশ উদ্ধারের পর হত্যা মামলা দায়ের করেন কাকুলীর মা রোকেয়া বেগম। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই। আমার মেয়ে গেছে আজ এক মাস হলো। ঘটনায় জড়িতের ফাঁসি চাই আমি।

রোকেয়া বেগম অভিযোগ করেন বলেন, কাকুলী নিখোঁজের পর দিন থানায় জিডি করি। আর পুলিশ আসে ১ এপ্রিল। এর পর থেকে আর কোন তদন্ত করেনি। আমরা কল লিস্ট উঠোনো জন্য টাকাও দিয়েছি। পুলিশ চাইলে কল লিস্ট উঠিয়ে দ্রুত আমার মেয়েকে জীবিত বা মৃত উদ্ধার করতে পরতো। ১ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিল লাশ উদ্ধার পর্যন্ত পুলিশ কোন তদন্ত করে নাই, তদন্তে তাদের অনেক অবহেলা ছিল।

এ ব্যাপারে মতলব উত্তর থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন মৃধার কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন সঠিক বক্তব্য দিতে পারেননি। তবে সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) আহসান হাবিব বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জিডি তদন্ত করা হয়েছে। আমরা তদন্তকারী কর্মকর্তার কোন অবহেলা পাইনি। তিনি বলেন, জিডি এট্রির পর পরই কল লিস্ট উটানো হয়েছে। লাশ উদ্ধারে এসেও তো কল লিস্ট উঠিয়েছেন?

এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে আবারও তোলা হয়েছে। আহসান হাবিব আরও বলেন, আসামী ঘটনার পর পর সিম ভেঙ্গে ফেলে দিয়েছে। যার কারণে তাকে সাথে সাথে ট্রেস করা যায়নি। তাছাড়া কাকুলীকে হত্যা করে দুর্গন্ধ যাতে না ছড়ায় সেজন্য তারা লাশের গায়ে কেমিক্যাল দিয়েছিল। এমন কিছু অদৃশ্য কারণে ভাগ্যক্রমে জিডি পরবর্তী সময়ে ঘটনা উদযাটন হয়নি।

এদিকে নিহত স্কুলছাত্রী কাকুলীর মামা হেলাল উদ্দিন বলেন, জিডি হওয়ার পর প্রতিদিন দারোগার (আইও) কাছে কল করে খবর নিয়েছি। যখনই কল দিতাম তখনই তিনি বলেছেন করোনা ভাইরাসের জন্য কিছু করা যাচ্ছে না। আমরা অনেক কড়া ডিউটিতে আছি। আমরা দেখতেছি, আপনারা চারিদিকে খোঁজখবর নেন। হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী বলেন, যার লোক যায়, সেই বুঝে বিষয়টা কত কঠিন। জিডি করার পরও যদি অবহেলা না করে যদি কল লিস্টটা উঠিয়ে একটু গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতো তাহলে আমরা হয়তো তাজা লাশটাই পেতাম।

গত ২৮ মার্চ কাকুলী বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরে তাকে না পেয়ে ২৯ মার্চ জিডি দায়ের করে তার মা। পরবর্তীতে ২২ এপ্রিল উপজেলার সুজাতপুর বাজার সংলগ্ন অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেনের একটি কক্ষ থেকে তার অর্ধগলিত মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন রাতেই আসামী উপজেলা সুজাতপুর গ্রামের রাসেল মিয়ার ছেলে সাইফ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। ২৮ মার্চ দুই বন্ধু মিলে ধর্ষন করে হত্যা করে কাকুলীকে। পরে লাশ যাতে কেউ চিহ্নিত করতে না পারে, সেজন্য মাথা কেটে খালে ফেলে দেয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জবানবন্দি দিয়েছে আসামী। পরের দিন আসামীর জবানবন্দি অনুযায়ী মাথা ও ছুরিটি উদ্ধার করে পুলিশ।

একই রকম খবর