মতলব পেন্নাই সড়কে কালভার্ট নির্মাণে দুর্নীতি, ঢালাই কাজ রাতের আঁধারে !

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের মতলব পেন্নাই সড়কে ৪ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুটি কালভার্ট নির্মাণের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সড়ক ও জনপদের ইঞ্জিনিয়ার অনুপস্থিত থেকে সামান্য ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্টকে সামনে রেখে কোটি টাকা ব্যয়ে কালভার্ট নির্মাণের ঢালাই কাজ রাতের আধারে তড়িঘড়ি করে চালিয়ে যাচ্ছে।

কালভার্ট নির্মাণের কাজে যেন দুর্নীতি ও অনিয়মের সীমা নেই, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ভুতু ভাঙ্গা গুড়া পাথর, ঢালাই কাজে সিমেন্ট কম দেওয়া, রড কম লাগানো সহ অনেক অনিয়ম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সড়ক ও জনপদের এই দুইটি কালভার্ট নির্মাণে একটি প্যাকেজে কুমিল্লার আমিনুল হক ও হাসান টেকনো বিল্ডার্স নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছেন।

এর মধ্যে পেন্নাই সড়কের কালী ভাংতি এলাকায় স্টিল ব্রিজটি ভেঙ্গে সেখানে কালভার্ট নির্মাণের কাজটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিজে করলেও আরং বাজার এলাকায় কালভার্টটি স্থানীয় কয়েকজনের কাছে বিক্রি করে দেয়।

ওই এলাকার অদক্ষ কয়েকজন ঠিকাদার কালভার্ট নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই অনেক অনিয়ম করেছে।

সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে এ দুটি কালভার্ট নির্মাণ কাজ করার সময় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দিনে কাজ না করলেও রাতের আধারে কালভার্টের পিলার সহ উপরের ঢালাই করেছেন।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোন অবস্থাতেই বন্ধের দিন শুক্রবার ও শনিবার এবং রাতের আঁধারে কালভার্টের ঢালাই কাজ করা নিয়ম নেই।
কিন্তু সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন সড়ক ও জনপদের দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ার এবং এসডিই মোশারফ হোসেনকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে ঢালাই কাজ করা ও নিম্নমানের ভুতু ভাঙ্গা মিক্স পাথর দিয়ে ঢালাই কাজ সম্পন্ন করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

এ সময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চার ওরা পাথর ৩ ওরা সিলেকশন এর সাথে একটি সিমেন্ট দেওয়ার কথা থাকলেও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তারা ৬ থেকে ৭ ওরা পাথরের সাথে একটি করে সিমেন্ট ব্যবহার করেছেন।

এ সময় স্থানীয়রা বেশ কয়েকবার বাধা দিলে তারা তাদের সাথে বাকবিতন্ডা লিপ্ত হয়েছেন এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

শুক্রবার অফিস বন্ধের দিন রাতের আঁধারে পেন্নাই সড়ক আরং বাজার এলাকায় কালভার্টের ঢালাই দেওয়ার সময় দেখা যায় নিম্নমানের গুড়া ভুতু ভাঙ্গা পাথর দিয়ে ঢালাই কাজ করা হচ্ছে।

এ সময় সিমেন্টের পরিমাণ কম দিয়ে ও সর্ব নিম্ন মানের সিলেকশন এবং ভুতু ভাঙ্গা গুড়া পাথর ব্যবহার করে ঢালাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা কোন ইঞ্জিনিয়ারকে পাওয়া না গেলেও সড়ক ও জনপদের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিরোজ সাহেবকে সেখানে দেখা যায়।

এই বিষয়ে সড়ক ও জনপদের এসডিই মোশারফ হোসেনকে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার ও রাতের আধারে ঢালাই কাজ করার বিষয়টি অবগত করলেও তিনি জানান,অনেক সময় ইমারজেন্সি পিউড থাকলে রাতে কাজ করার নিয়ম রয়েছে।
তবে রাতের আঁধারে আড়ং বাজার এলাকার কালভার্টের ঢালাই কাজ করার বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি বলেন তাহলে কাজ বন্ধ করে দিব।
নিম্নমানের পাথরের বিষয়টি ল্যাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যাবে ভালো না খারাপ।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির কাজের সময় সেখানে না থাকায় তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাদের না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে সড়ক ও জনপদের এ দুটি কালভার্ট নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কালভার্ট নির্মাণ করলেও ভবিষ্যতে এই কালভার্টটি ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এবং সড়ক ও জনপদের গুটি কয়েকজন লোক লাভবান হলেও সরকারের কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে কালভার্ট নির্মান বিফলে যাচ্ছে।

সড়ক ও জনপদের এই কালভার্ট দুটি নির্মাণকাজে যে নির্মাণ কাজে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

একই রকম খবর