মার্কিন নির্বাচনে নজর দিন

: অধ্যাপক মোঃ হাছান আলী সিকদার :

“যুক্তরাষ্ট্র শুধু ট্রাম্প-বাইডেনের মধ্য থেকে একজনকে বাছাই করবে না, একই সঙ্গে নবনির্বাচিতকে এই বার্তাও দেবে কোথায় তাঁর সীমা। জনগণের সরকারকে অবশ্যই জনগণের মতামতে চলা শিখতে হবে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামী ৩রা নভেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার। বিশ্বের পরাক্রমশালী রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে কোটি কোটি মানুষ। তবে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান কোন পক্ষই নিশ্চিত হতে পারছে না। রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে জয় নিয়ে সংশয় রয়েছে প্রচারণার শুরু থেকেই। ডেমোক্রেটিক পার্টির জো বাইডেন যে নিশ্চিতভাবে জিতবেন, তাও জোর করে বলতে পারছেন না তার সমর্থকরা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ আসনে রাষ্ট্রপতির অধিস্থান। বৃটেনের মত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোন নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রধানের অস্তিত্ব নেই। আবার সোভিয়েত ইউনিয়নের মত সেখানে কোন রাষ্ট্রপতি মণ্ডলীর অবস্থিতিও প্রত্যক্ষ করা যায় না। রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র তত্ত্বগতভাবে নয়, বাস্তবেও প্রধান শাসক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থার গতি-প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা ১৭৮৭ সালে অনুষ্ঠিত ফিলাডেলফিয়া সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে যেরূপ বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি করেছিলেন, সম্ভবতঃ অন্যকোন প্রশ্নকে কেন্দ্র করে সেরূপ মতবিরোধ দেখা দেয়নি। প্রতিনিধিদের অনেকে জনসাধারণ কর্তৃক রাষ্ট্রপতির প্রত্যক্ষ নির্বাচনের সপক্ষে নানা প্রকার যুক্তির অবতারণ করেন। অনেকে আবার কংগ্রেস কর্তৃক রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া বাঞ্চনীয় বলে অভিমত পোষণ করেন। কিন্তু শাসনতন্ত্র প্রণেতাগণ উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথম পদ্ধতিটি অনুসৃত হলে সদাসর্বদাই জনসাধারণের সন্তুষ্টি বিধানের জন্য রাষ্ট্রপতিকে ব্যস্ত থাকতে হবে। তাছাড়া, জনসাধারন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় প্রার্থীর দক্ষতা, যোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদিকে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ না করে বাক্সর্বস্ব নেতার বাক-চাতুর্যে অভিভূত হয়ে অনেক সময় তাঁর সপক্ষেই ভোটদান করবে। আবার, দ্বিতীয় পদ্ধতিটি অনুসৃত হলে রাষ্ট্রপতি কংগ্রেসের হাতের পুতুলে পরিণত হবেন। ফলে ক্ষমতা-স্বতন্ত্রীকরণ নীতিটি বাস্তবে মূল্যহীন হয়ে পড়বে। তাই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, একটি নির্বাচক সংস্থা (ঊষবপঃড়ৎধষ ঈড়ষষবমব) কর্তৃক বিশেষ পদ্ধতি অনুসারে পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। মার্কিন শাসনতন্ত্রের ২নং ধারায় রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি একটি নির্বাচক সংস্থা (ঊষবপঃড়ৎধষ ঈড়ষষবমব) কর্তৃক নির্বাচিত হবেন।

কিন্তু কথা হলো, দলীয় ব্যবস্থার ফলে রাষ্ট্রপতির পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি কার্যক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে। নির্বাচক সংস্থার সদস্যগণ বর্তমানে দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচিত হন বলে তাঁরা নিজ নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীর অনুকূলেই ভোটদান করেন। তাই নির্বাচক সংস্থার প্রতিনিধিদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় পরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাবী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন তা নির্ধারিত হয়ে যায়। উল্লেখ করার মত যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং রিপাবলিকান পার্টি বুর্জোয়া শ্রেণীস্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে বলে তারা সংশ্লিষ্ট শ্রেণীস্বার্থ রক্ষায় বিশেষ পারদর্শী ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতির পদে মনোনীত করে।

বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের উচিৎ মার্কিন নির্বাচনের প্রতি নজর দেয়া। সেটা অবশ্যই এ কারণে নয় যে, আগামী ৩রা নভেম্বর মঙ্গলবারের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রকে একজন প্রেসিডেন্ট উপহার দেবে, বরং সেটা এ কারণে যে, এ নির্বাচন কার্যকরভাবে জনমত যাচাই করবে এমন সব বিষয়ের, যা আসলে সরাসরি শাসন সংক্রান্ত।

একটি নির্বাচন একটি সংসদই তৈরি করে না; একজন নতুন নেতা বা কাউকে পুনঃনির্বাচতই করেনা; একই সঙ্গে সেই নেতার নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রের প্রত্যেন্ত অঞ্চল কীভাবে কী নীতির ভিত্তিতে শাসিত হবে, জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কীভাবে কী ভূমিকা থাকবে, তারও একটা ফয়সালা হয়। তারও একটা ম্যান্ডেট নেওয়া হয়।

আসছে নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের তেমনই একটা দিন। আর এ সুযোগ সৃষ্টি করে নিয়েছেন মার্কিন রাজনীতিকেরাই। কেউ চাপিয়ে দেয়নি। আমাদের দেশের সভা-সেমিনারে, সংসদের বিতর্কে, চায়ের দোকানে বসে চায়ের পেয়ালায় একটা উক্তি বেশ উচ্চারিত। সেটা আব্রাহাম লিঙ্কনের উক্তি, “ডেমোক্রেসি ইজ দ্যা গভর্নমেন্ট অব দ্যা পিপল, বাই দ্যা পিপল, ফর দ্যা পিপল”। আমাদের কতিপয় রাজনীতিবিদের ধারণায় এটা হলো প্রধানতঃ সেই ব্যবস্থা, যা তাঁরা পাঁচ বছর অন্তর বাংলাদেশে করে থাকেন। নির্বাচিত হয়ে তাঁরা জাতিকে ধন্য করেন এবং নিজে গর্বিত হন। দানবাক্সের মতো একটা বাক্স পাতার ব্যবস্থা করেন। আর সেটা যদি গণনা করে একটা ঘোষণার ব্যবস্থা করতে পারেন, তা হলেই হলো। আর সংসদে বিল পাসের সময় নামকাওয়াস্তে জনমত যাচাইয়ের নোটিশ পড়ে। মাননীয় স্পিকাররা গাম্ভীর্য সহকারে প্রস্তাবদাতাদের নাম বলেন এবং তিনি প্রায়ই একবাক্যে তা পাস করে নেন বা দেন। এভাবেই চলে আসছে।

জনগণ কী বোঝে, সব বোঝেন একজন। জাতির প্রতিটি সমস্যার সমাধানের চাবি কেবল তাঁর কাছেই। কিন্তু সে চাবি ডোনাল্ড ট্রাম্প-জো বাইডেনদের হাতে নেই। তাঁরা তা দাবিও করেন না। তাঁদের বুকের পাটা আমাদের নেতা-নেত্রীদের মতো নয়। আবার আমরা ধারণা পাচ্ছি, তত্ত্বাবধায়ক কিংবা দলীয় সরকার নামের একটি পদ্ধতির আওতায় ঐ এক দিনের একটি ভোট দানবাক্স পাতার আয়োজন করার নামই হলো গণতন্ত্র। ঐ ব্যালটে কতকগুলো মার্কার ছবি ছাড়া আর কিছু থাকতে পারবে না। ‘না’ ভোটের বিধান গণভোটের ধারণার সমর্থক। এটা তারা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করেছে।

গণভোটের ধারণা গণতন্ত্রসম্মত। কিন্তু গণভোট সহ্য করতে পারেননি মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট ও ক্ষমতাসীনরা। তাই গণভোট সংবিধান থেকে মুছে ফেলা হয়েছৈ। বিএনপিও হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে যার ফলে তারা কোন প্রতিবাদ করেন নাই। সুযোগ পেলে তারা সবাই সংবিধান কাটা-ছেঁড়া করে এর বদলা নেবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি একটি নির্বাচনে একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করার ধকল সইতে না পারে, তা হলে বাংলাদেশ পারছে কীভাবে? শয়ে শয়ে কোটি কোটি টাকা ও মণ মণ তেল পুড়ে যে জাতীয় নির্বাচন, সেখানে জাতীয় বা আঞ্চলিক কোন ইস্যুর সুরাহা নেই। এমনকি এ নিয়ে কোন আলাপ-আলোচনা করারও দরকার মনে করি না আমরা এবং বছর নয়, যুগের পর যুগ একজন নেতা পুনঃনির্বাচিত করার মতো বিলাসিতায় গা ভাসাচ্ছি।
আমাদের অনেক রাজনীতিকরা বলে থাকেন, ট্রাম্পের অধীনে ট্রাম্প নির্বাচন করে। আমরা তাদের বলি না তাদের ব্যালটে আরও অনেক কিছু থাকে। নৌকা ও ধানের শীষের মতো শুধু গাধা (ডেমোক্র্যাট দল) ও হাতি (রিপাবলিকান দল) থাকে না।

যেসব নেতা-নেত্রী ইদানীং বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় সেভাবে নির্বাচন করাকে গণতন্ত্র বলে জ্ঞান দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে বলতে হয়, আপনারা ৩ রা নভেম্বর মঙ্গলবারের মার্কিন নির্বাচনের গোটা প্রক্রিয়ার দিকে নজর দিন। শুধু ট্রাম্প বা বাইডেন এর দিকে তাকাবেন না। ৩রা নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে একটি গণভোটের উৎসব হবে। যদিও সবার নজর কাড়বেন বাইডেন কিন্তু বহুরাজ্য মোটামুটি একটা নির্দলীয় জায়গা থেকে ফয়সালা করে নেবে বহু বিতর্কিত ইস্যুর।

আর একটি কথা, যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী ছিল ১৭৮০ জন। এবার ২০২০ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থীতা করছেন ১২১৬ জন। বিশ্বের যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ যেখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একসঙ্গে এতজন প্রার্থিতা করেন। আর আলোচনায় আসেন মাত্র দু’জন। বড় দুই দল রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিকদের দুই প্রার্থী নিয়েই মেতে উঠেন মার্কিনিরা। আর বাকীরা ঝিমিয়ে পড়েন শোরগোলের বাইরে। আর আমাদের বাংলাদেশে ছোট দলগুলোকে ব্যঙ্গ করে বলে, ব্যাঙ্গের ছাতার মত দল গজায়েছে। বস্তুতঃ বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বহু দল থাকাই স্বাভাবিক।

দেখার বিষয় হলো, মার্কিন নির্বাচনকে ইস্যু করে প্রতিটি অঙ্গরাজ্য তো বটেই, কাউন্টি পর্যায়ের (উপজেলা), অর্থাৎ ছোট মাপের স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোও জাতীয় ব্যালটে ঠাঁই করে নিচ্ছে। অনেক ইস্যুতেই তারা ভোটাভোটি মোকাবেলা করার সুযোগ লুফে নেয়। এর ফলটা দাঁড়ায়, জনগণের সরকার যে বাস্তবে জনগণের কথায় চলে, তার ছাপ পড়ে। তাই কোন এক ধরনের নির্দিষ্ট চেহারার ব্যালট পেপারে ভোট হয় না যুক্তরাষ্ট্রে। ফেডারেল সরকারের নির্বাচিতরাও ভাবেন যে, রাষ্ট্র চালাতে মানুষের মত নিলেই অনেক সুবিধা। সরাসরি সবকিছুর জন্য দায় নিতেও হয় না। দায় ও ব্যর্থতা ভাগাভাগি করে নিতে পারাটাও গণতন্ত্র। কুইক রেন্টাল বা ঢাকা ভাগের মতো বহু বিষয়ে গণভোট হতে পারতো। কিন্তু তা হয় নাই।
আমাদের বীর ব্যালট-যোদ্ধাদের মাথায় ব্যালট-যুদ্ধ মানে সিল মারা ও সরকার গড়তে পারা। এর বাইরে আর কিছু নেই। সে কারণে আমাদের দেশের জনপ্রিয় স্লোগান হয় আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। এর মানে দাঁড়ায় নীতির প্রশ্নে তাদের কারও ভোট লাগবে না। যাকে-তাকে ভোট দেওয়াই তার অধিকার।

মার্কিনিরা একে বলে প্রপোজিশন (প্রস্তাব)। গণভোট কথাটি তারা সাধারণত ব্যবহার করে না। মার্কিন সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই। কিন্তু বাস্তব জীবনে তারা ঠিকই এর অনুশীলন করে চলছে। স্থানীয় সরকারগুলো ও বিরোধী পক্ষ তক্কে তক্কে থাকে, কী করে তারা তাদের একমত হতে না পারা বিষয়গুলোকে ভোটে দিবে। উদ্দেশ্য একমত হতে জানা ও পারা। সেজন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়টা মোক্ষম। এ সময় সর্বাধিক মানুষ ভোটকেন্দ্রে আসবেন, তখন তাঁরা তাঁদের বিষয়গুলোর উপর মতামত নিয়ে নেবেন।

না বললে নয়, ত্রয়োদশ সংশোধনীর প্রশ্নে আমাদের জাতীয় কাণ্ডকীর্তি স্মরণযোগ্য। সংসদে পাস করা আইনকে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করতে পারে। ১৮০৩ সালে মারব্যারি বনাম ম্যাডিসন মামলায় এটা প্রথম স্বীকৃত হয়েছিল মার্কিন দেশেই। আর কেউ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ চায়নি, মহামান্য আদালতই রায় দিয়েছেন। এ যুক্তি মেনে বাংলাদেশের অবস্থা দাঁড়িয়েছে; জর্জিয়ায় ২০১১ সাল পর্যন্ত ওই বিশেষ কমিশন টিকে ছিল। এরপর রাজ্য সুপ্রিম কোর্ট ওই কমিশনকে অসাংবিধানিক আখ্যা দেন। কিন্তু জর্জিয়ার ওটা দরকার। সে কারণে গণভোট হয়েছে।

তাই বলতে হয়, আসছে ৩রা নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র শুধু ট্রাম্প-বাইডেনের মধ্য থেকে একজনকে বাছাই করবে না, একই সঙ্গে নবনির্বাচিতকে এই বার্তাও দেবে কোথায় তাঁর সীমা। সবকিছুতেই প্রধান নির্বাহীর মাতব্বরি তারা মানে না। তথা এর দরকারও নেই। জনগণের সরকারকে অবশ্যই জনগণের মতামতে চলা শিখতে হবে।

লেখক পরিচিতি ঃ
অধ্যাপক মোঃ হাছান আলী সিকদার
সভাপতি, চাঁদপুর জেলা জাসদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা
বাকশিস নেতা, চাঁদপুর জেলা।

 

একই রকম খবর