মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বাধে ২শ’ মিটার জুড়ে হঠাৎ ভাঙন

চাঁদপুর : মতলবের মেঘনা-ধনাগোদা বেরিবাঁধের কাচারীকান্দি এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে এবং বাঁধ রক্ষার কয়েক শতাধিক যুবক প্রানপন কাজ করে যাচ্ছে।অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও নির্ঘুম রাত কেটেছে বাঁধবাসীর।

শুক্রবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে মতলব উত্তর উপজেলা ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের জনতা বাজার সংলগ্ন কাচারীকান্দি এলাকা দিয়ে মেঘনা নদী লাগোয়া মূল বাঅধে ভাঙ্গন দেখা দেয়। অল্প সময়ের মধ্যে নদীর তীরবর্তী অংশের ২০০ মিটার অঞ্চল ভেঙে নদীতে বিলীন হতে থাকে।

পানি বৃদ্ধির কারণে ভাঙ্গন ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁধের ব্যাপক অংশ ভেঙে যায়। চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়লে অল্প সময়ের মধ্যে সহস্রাধিক লোকজনের সমাগম ঘটে। কয়েক শতাধিক যুবক নিজ উদ্যোগে ৭/৮ ট্রলি গাড়িতে করে জনতা বাজার, চরমাছুয়া এলাকায় বাঁধ রক্ষার কাজে প্রস্তুত করা কয়েক সহস্রাধিক জিউটেকের বালির বস্তা এনে বাঁধ রক্ষার কাজে নেমে পড়েন। স্থানীয় আমিরাবাদ বাজারে বাসের বাজার থাকায় সেখানে থেকে বাশ এনে এরইমধ্যে পাইলিং এর ব্যবস্থা করতে থাকে। রাত বারোটার দিকে সর্বশেষ অবস্থা ছিল শতাধিক যুবক বাঁধ মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রানপন।

জানা গেছে, চাঁদপুর মতলব উত্তরের দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ রামপুর সংলগ্ন কাচারি এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০০ গজ পযন্ত ব্লক দেবে গেছে। এতে ২০ ফুট পানির নিচে ব্লক ধেবে গেছে।মতলব উত্তরের বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার যুবক বৃদ্ধ দেখতে এসেছে। শত শত লোক স্বেচ্ছায় মাটি ভর্তি জিও টেক্স ফেলে বেরিবাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নেহাশিস দাস ও মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন মৃধা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সহযোগিতা করছে।

গভীর গর্তের কারণে বেরিবাঁধের পাকা সড়কে হানা দিতে ৪/৫ ফুট বাকি। তবে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রক্ষা না করলে কোনো উপায় নেই বলে জানান এলাকাবাসী।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল এমপি বলেন, পার্লামেন্টে বক্তব্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি- গতবছর পানি সম্পদ উপমন্ত্রীকে গত বছর পরির্দশনে নিয়ে এসেছি। এখানে পাঁচশত কোটি টাকার একটা ডিপিবি হবার কথা। এই ডিপিবি আজ থেকে পাঁচবার ছয়বার বেটিং করে ঘষামাঝা করে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। অতি দ্রুত এই বেড়িবাঁধ সুরক্ষার জন্য ডিপিবির অন্তর্ভুক্ত পাঁচশত কোটি টাকার বরাদ্দ, তা যেন অতি দ্রুত গতিতে বাস্তাবায়নের জন্য এর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কাজটি দ্রুত গতিতে না করলে যেকোনও সময় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যেতে পারে। এর আগে দুই বার ভাঙছে। এবার ভাঙলে তৃতীয় বার হবে। আর সব মিলিয়ে প্রায় পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে। তাই স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রীসহ তাঁর মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা স্নেহাশীষ দাস, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) আহসান হাবীব, মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন মৃধা, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং এর সাধারন সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প পানি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সরকার আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

একই রকম খবর