যে কারণে নৌকায় ভোট দিবেন

আজ আমাদের নতুন ভোটারদের উদ্দেশ্যে আমি কিছু বলতে চাই। প্রিয় ভোটার ভাই ও বোনেরা আপনাদের জীবনের প্রথম ভোট, নৌকায় হোক। কারণ যোগ্য প্রার্থীকে দিলে ভোট/ সুখে থাকবে দেশের লোক।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনারা নৌকা মার্কার প্রার্থীকে জয়যুক্ত করুন। যেন আবারও আগামী ৫ বছরের জন্য দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার।

এবার আপনাদের সামনে তুলে ধরছি কেন নৌকায় ভোট দেবেন। দেশ ও দশের উন্নতি নির্ভর করে সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনা ও দক্ষতার উপর। এই কারণে নির্বাচনে উপযুক্ত প্রার্থীকে ভোট দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

যোগ্য প্রার্থী দেশের উন্নয়ন সাধন করে। তেমনি অযোগ্য ব্যক্তি দেশের ক্ষতি সাধন করে। রাষ্ট্র পরিচালনা করার ক্ষমতা আমরা যার-তার হাতে দিতে পারি না। তাহলে আসছে নির্বাচনে আমরা কাকে ভোট দিবো তা নিয়ে অনেক বিবেচনা করতে হবে। প্রথমে দেখতে হবে আপনি স্বাধীনতার পক্ষে কিনা এবং কার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালিত হচ্ছে। কারণ প্রসঙ্গ বাংলাদেশ।

অপনি যদি স্বাধীনতার স্বপক্ষের হোন তবে নৌকায় ভোট দিন। কারন স্বাধীনতার চেতনা ধারণকারী ও মুক্তিযুদ্ধে নের্তত্ব দানকারী দল হলো আওয়ামী লীগ।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মার্কা নৌকা। মুক্তিযুদ্ধের স¦পক্ষের শক্তির মার্কা নৌকা।

অন্যদিকে জাতির জনক কে সপরিবারে হত্যা করে পেছনের দরজাদিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া দল বিএনপি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এ দলটি বিশ্বাসী নয়। কারন তারা জামায়াত ইসলামের মত যুদ্ধঅপরাধী ও স্বাধীনতা বিরোধী দলের সাথে জোটবদ্ধ। রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের বারবার সংসদে স্থান দিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে তুলে দিয়েছে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পবিত্র পতাকা। নিজামীর মত ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধী বিএনপির শাসনামলে মন্ত্রী ছিল। আব্দুর রহমান বিশ্বাসের মত রাজাকার প্রেসিডেন্ট ছিল।

হরতালের নামে অগ্নি, সন্ত্রাস করে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। বাংলাদেশকে বারবার রক্তাক্ত করেছে। তারা গণতন্ত্রে ও মানুষের অধিকারে বিশ্বাসী নয়। এখনও তাদের উপর পাকিস্থানের প্রেতাতœা ভর করে আছে তাই দেশ কে তারা পাকিস্তান বানাতে চায়। তাহলে ভোট কাকে দেবেন? মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির দল আওয়ামী লীগকে নাকি ? স্বাধীনতা বিরোধী চক্র বিএনপি জামাত গোষ্ঠীকে। সে বিচারের ভার আমি আপনাদের উপরই ছেড়ে দিলাম।

আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন ও অগ্রসরতা, এই সত্য দেশবাসী গত দশ বছরে প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করেছে। দেশের প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়ন হয়েছে। এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। কৃষিক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরকার যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধন করেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের চেষ্টায় দেশে কৃষি বিপ্লব হয়েছে। সরকার কৃষকদের আর্থিক সহযোগিতা করার পাশাপাশি কৃষি গবেষণা পরিচালিত করেছে। ব্যাপক গবেষণার ফলে সরকারের গত দুই মেয়াদে ৫শ’ ৮৪টি উচ্চফলন শীলজাত উদ্ভাবন হয়েছে। শুধু ফসলের জাতনয়, কৃষি যন্ত্রপাতির উন্নয়ন করেছে সরকার। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশে ৪শ ৪২টি উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। পাটের জীবন রহস্য আবিষ্কিত হয়েছে। ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার ১০টি ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা গবেষণাগার চালু করেছে।

চলতি বছর গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দিনদিন ফসলি জমির পরিমান কমলেও বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি হয়নি। উল্টো কৃষকদের পৃষ্ঠপোষকতা ও কৃষিজাত প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ফলে ফসল উৎপাদন বেড়েছে। বাংলাদেশ যার কারণে এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং কিছু কিছু খাদ্যশস্য বাংলাদেশ এখন বিশে^র বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও করছে।

‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বর্তমানে দেশে ২০ হাজার ৪শ ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। দেশের গত ১০ বছরের ৯৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে আরো ৩৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এখন বাংলাদেশের ৯২.৫০% মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে।

ছিটমহলের প্রায় ১২ হাজার মানুষও বিদ্যুৎ পেয়েছে। যেসব দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানো যাচ্ছে না সে সব এলাকায় সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৫৩ লক্ষ মানুষ সৌর বিদ্যুতের আওতায় রয়েছে। শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে দেশের শতভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেছেন। ইতিমধ্যে সন্দীপ এ বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে।

২০২১ সালে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমান দাঁড়াবে ২৪ হাজার মেগাওয়াট। বাংলাদেশের বিদ্যুৎসহ সব ধরনের উন্নয়নই অব্যাহত থাকবে, যদি জননেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় আসেন।

তাই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ এর বিকল্প নাই। আর বিএনপিকে ভোট দিলে কী ধরনের উন্নয়ন হবে তা একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।

২০০০ সালে আওয়ামী লীগ আমলে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ছিল ৪ হাজার ১শ মেগাওয়াট। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় এল। ২০০৫ সালে বিএনপির ক্ষমতা কালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমান দাড়ায় ২ হাজার ১শ মেগাওয়াট! ৪১০০ মেগাওয়াট থেকে নামিয়ে ২১০০ মেগাওয়াটে নামিয়ে বিদ্যুতের উন্নয়ন করেছিল বিএনপি সরকার! উৎপাদন হ্রাসের কারণে দেশে লোড শেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিদ্যুৎ ছাড়া আধুনিক পৃথিবীর উন্নয়ন সম্ভব নয়। ফলে বিএনপি আমলে উন্নয়ন বঞ্চিত হয় দেশের জনগণ।

আওয়ামী লীগ সরকার যদি টানা সরকার গঠন করতে পারতো তাহলে দেশ আরো একশ বছর এগিয়ে যেত। বাংলার মানুষ দেখেছে আওয়ামী লীগ এলেই উন্নয়ন হয়, কারন এই দেশতো বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন হয়েছে, অন্যদল ক্ষমতায় এলে দেশের মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ বছরে মানুষের ভাগ্যেও উন্নয়নে নিরলস কাজ করে গেছে। মানুষের গড় আয় বেড়েছে। রেমিটেন্স বেড়েছে, কর্মসংস্থান বেড়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে।

গত ১০ বছরে জিডিপি বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে পরিচিত হয়েছে। প্রতি বছরই দেশের মানুষ আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছে, দারিদ্রতার হার কমেছে। আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি তার বড় প্রমাণ। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ। মেট্টো রেলের মত মেগা প্রকল্পের কাজ এখন চলমান আছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও দূরদর্শী পরিকল্পনায় আমরা মহাকাশ জয় করেছি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা বিশ্ব জুড়ে ধ্বনিত হয়েছে। শেখ হাসিনার সর্ববৃহৎ সাফল্য হল উন্নয়ন কর্মকা- দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া। দেশের কোন নির্দিষ্ট স্থানে বা অঞ্চলে উন্নয়ন হয়নি, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সর্বত্র উন্নয়ন করেছে। উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে গ্রাম ও শহর। গ্রামের মানুষজন এখন সহজেই চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে। উচ্চ শিক্ষার জন্যে তাদেরকে এখন দূর দূরান্তে যেতে হচ্ছে না। প্রযুক্তি সব শ্রেণির মানুষের হাতের কাছে গিয়ে পৌঁছেছে।

বিএনপি সরকার এদেশকে দুর্নীতির আখড়া বানিয়েছিল। দুর্নীতিতে হ্যাট্টিক হয়েছিল বাংলাদেশ। আজ শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সম্মান পুনরুদ্ধার করেছেন। এবার আপনারই বিবেচনা কররুন আসছে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে উন্নয়নের পক্ষে কাকে ভোট দেয়া উচিত।

জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। কারণ পৃথিবীর ৫ জন সৎ সরকার প্রধানের মধ্যে তিনি অন্যতম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর শেখ হাসিনা হলেন বাংলাদেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন রাজনীতিবিদ ও সফল রাষ্ট্রনায়ক। বিশ্বের বড়বড় রাজনীতিবিদরাও তাঁকে সমীহ করেন এবং সম্মানের চোখে দেখেন। বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপার্সন দুর্নীতি মামলা সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে আছেন। অন্যদিকে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন পুরস্কার দিচ্ছে। এবার আপনারাই মুল্যায়ন করুন আমাদের কি দুর্নীতির বিপক্ষে শেখ হাসিনাকে ভোট দেয়া উচিত নয়?

‘যে কারণে নৌকায় ভোট দিবেন’ কলামটি আমি ধারাবাহিক ভাবে লিখবো। লেখাটির প্রথম পর্ব আজ পাঠকদের সামনে উপস্থাপিত হলো। খুব শীঘ্রই দ্বিতীয়পর্ব নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হবো ইনশাল্লাহ।

তবে শেষ করার আগে একটি কথা বলি একসময় ভোটের শ্লোগান ছিল, আমার ভোট আমি দিবো/যাকে খুশি তাকে দিবো। এখন দিন বদলেছে। এখন যাকে-তাকে ভোট দেয়া যাবে না। তাই আমার ভোট আমি দিবো/দেখে শুনে বুঝে দেব। যোগ্য, দেশপ্রেমী ও স্বাধীনতার স্বপক্ষ প্রার্থীকে নির্বাচিত করব।

জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। জয় হোক বাংলার মেহনতী মানুষের।

লেখক: অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ হাসান খান, সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চাঁদপুর জেলা।

একই রকম খবর

Leave a Comment