হাইমচরে রাতের আঁধারে স্কুলের ঘর খুলে নিয়ে গেছে দূর্বৃত্তরা!

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ৫নম্বর ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ এলাকায় একটি মাধ্যমিক স্কুলের ঘর রাতের আধাঁরে খুলে নিয়েগেছে দূর্বৃত্তরা। বর্তমানে খোলা আকাশের নীচে পাঠদান করছেন শিক্ষকরা। এতে করে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ৫শতাধিক শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (৯ আগষ্ট) বিদ্যালয়টির ঘর থাকলেও শুক্রবার (১০ আগষ্ট) রাতের আধাঁরে ওই এলাকার চেয়ারম্যানের অনুসারীরা তার নির্দেশে বিদ্যালয়টি খুলে নিয়েছে বলে পরিচালনা কমিটির সদস্য, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ।

শনিবার থেকে ওই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীরা এখন উত্তপ্ত রোদ ও বৃষ্টির মধ্যে পাঠগ্রহন করছেন। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়টি পুনঃস্থাপনের জন্য বিক্ষোভ করেন। আজ রোববার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যালয়টির কার্যক্রম ওই অবস্থায়ই রয়েছে।

বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, তাদের সাথে কোন ধরনের আলাপ না করেই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সরকারের নির্দেশে তার লোকজন রাতের আঁধারে বিদ্যালয় ঘরটি খুলে নিয়েগেছেন। শিক্ষার্থীদের এই দূর্ভোগের মধ্যে তারা পুনরায় বিদ্যালয়টি স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন।

চাঁদপুর জেলাধীন হাইমচর উপজেলার ৫নম্বর হামইচর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার সাহেবগঞ্জ এমজে এসকে এস এন এস জুনিয়র হাইস্কুলের প্রতিদিন অধ্যায়নরত শ্রেণিকক্ষ স্থানীয় চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সরকারের প্ররোচনায় তার লোকজন জোরপৃর্বক পেশিশক্তি ব্যবহার করে খুলে নেওয়ার প্রতিবাদে এলাকাবাসি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্বে। গতকাল রোববার দুপুরে শ্রেণিকক্ষটি খুলে নেওয়া স্থান এম জে এস কে এস এন এস জুনিয়র হাইস্কুল প্রাঙ্গনে খোলা আকাশের নিচে পাঠদানকৃত শিক্ষার্থীদের ক্লাসের সামনে এ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের পক্ষথেকে প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ারুল আজিম হাইমচর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ করেছেন বলে জানান।

সরোজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, চাঁদপুর জেলাধীন হাইমচর উপজেলার ৫নম্বর হামইচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ শাহাদাত হোসেন সরকার তার এলাকার সাহেবগঞ্জ এম জে এস কে এস এন এস জুনিয়র হাইস্কুলের কমিটির সাথে তার নির্বাচনী প্রতিহিংসা ও দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছিল। ঐ এলাকার মোল্লা বংশধরদের সাথে তার নির্বাচনী প্রতিহিংসা চলছিল। তারই জের ধরে গত এক বছর পূর্বে তিনি গনশিক্ষা কার্যক্রমের এক সময়ের বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ক্লাশরুমটি খুলে নিয়ে যাওয়ার পায়তারা করছিলেন বলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান। এ ছাড়া স্কুলটির শ্রেণিকক্ষ খুলে নেওয়ায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদকারীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার ৯ই আগষ্ট স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষ করে বাড়ী চলে যায়। শুক্রবার রাতের আধারে স্থানীয় চেয়ারম্যান শাহাদাত সরকারের নির্দেশে তার পরিষদের মেম্বার শফিকুর রহমান ও হারুন মাল এলাকার কর্তিপয় সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকদের সাথে নিয়ে এম জে এস কে এস এন এস জুনিয়র হাইস্কুলের ৭ম ও ৮ম শ্রেণির শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হওয়া ক্লশরুমটির টিন দিয়ে তৈরী করা চালা ও চারদিকের বাউন্ডারি খুলে নিয়ে যায়। এতে করে স্কুলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রমের ও পাঠদান করার টুলটেবিল ও চেয়ার পড়ে থাকে খোলা আকাশের নিচে। বিদ্যালয়ের কমিটির সদস্যরা ঘটনা স্থলে এসে জানতে পারে চেয়ারম্যানের লোকেরা বিদ্যালয়ের টিনসেট ঘরটি খুলে তার বাড়ীরকাছে নিয়ে রেখে দিয়েছে। শনিবার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে খোলা আকাশের নিচে টুল টেবিল ও চেয়ার পড়ে থাকতে দেখে বিক্ষোভে পেটে পড়ে এবং এক পর্যায়ে তারা খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে থাকে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে এলাকাবাসি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যাক্তিদের দৃস্টান্তমূলক শাস্তিদাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এ সময় তারা বিভিন্ন ¯েøাগান দিতে থাকে এবং স্কুলের ক্লাশরুমটি পূনরায় স্থাপনের দাবি জানান। তানাহলে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাদ্য হবে বলে জানান।
এ ব্যাপারে এমজে এসকে এস এনএম জুনিয়ার হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: আনোয়ারুল আজিম বলেন,এ বিদ্যালয়টি ২০০৮ সালে স্থাপিত হয়। গনশিক্ষার পক্ষ থেকে এ বিদ্যালয়টি নির্মান কাজ করা হয়। ২০১৬ সাল থেকে বিদ্যালয়টিতে ক্লাশ চলছে। পূর্বের চেয়ারম্যান ইসহাক খোকন এ বিদ্যালয়টির জন্য এ ভবনটি লিখিত ভাবে দিয়ে যায়। এখানে শিক্ষার মান অত্যান্ত ভাল। ১৮ সালে ২৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। তার মধ্যে ২৫ জন পাস করেন। এ মধ্যে ৪ জন এ প্লাস অর্জন করেছে। জে এসসিতে শত ভাগ পাস। এ ব্যাপারে সাবেক মেম্বার মো: আব্দুল হক জানান,সাবেক চেয়ারম্যান ইসহাক খোকন ২০১৬ সালে বিদ্যালয়টির এ কক্ষটি লিখিত ভাবে দিয়েছে। এলাকার শিক্ষার্থীদের ক্লাশ করার প্রয়োজনে। এ কক্ষটি এক সময় গনশিক্ষার কার্য্যক্রম করার জন্য সরকারী অর্থায়নে নির্মান করা হয়েছিল।

এলাকার অভিভাবক, সাজেদা বেগম,বৃদ্ব মো: হযরত আলী,শিল্পী বেগম এ প্রতিনিধিকে বলেন, বিদ্যালয়ের কক্ষ যারা খুলে নিয়েছে,তাদের শাস্তি দাবী করছি এবং যেখানে শ্রেনী কক্ষ ছিল সেখানে পূর্নরায় স্থাপন চাই।

বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী খাদিজা আক্তার,১০ম শ্রেনীর ছাত্রী শাহিনা আক্তার,৮ম শ্রেনীর ছাত্রী সুমি আক্তার,৭ম শ্রেনীর ছাত্রী আফরোজা আক্তার,৭ম শ্রেনীর ছাত্রী তামান্না আক্তার,৭ম শ্রেণীর ছাত্র তাকবির গাজী জানান,শুক্রবার রাতের আধারে এক দল দুরবৃর্ত্ত বিদ্যালয়ের শ্রেনী কক্ষটি খুলে নিয়ে যায়। এতে করে আমরা রোদ,বৃস্টিতে অমানবিক ভাবে ক্লাশ করতে হচেছ। এর মধ্যে ধুলাবালিতে ও আমাদের অনেক সমস্যা হচেছ। রোদের সময় মাথায় বই দিয়ে থাকতে হয়। বৃস্টির সময় ভিজে ভিজে ক্লাশ করতে চচেছ। ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী আফরোজা আক্তার বলেন,বৃস্টি হলে বই পুস্তক ভিজে যায়। আর রোদ হলে রোদে পুড়তে হচেছ।অনেক সময় ছাত্র ছাত্রীরা অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। এতে করে আমাদের লেখা পড়ার ক্ষতি হচেছ মারাত্বক ভাবে। আমরা আমাদের বিদ্যালয়ের শ্রেনী কক্ষটি পূনরায় ফিরিয়ে এনে স্থাপন চাই।

ব্যাপারে হাইমচর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একে এম মির হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ক্লাশরুম হিসাবে ব্যবহৃত রুমটি দীর্ঘদিন যাবত ক্লাশরুম হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে । সে ক্লাশরুমটি স্থানীয় চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সরকার শুক্রবার খুলে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের হেড মাস্টার আমাকে মুঠোফোনে জানিয়েছে। আমি বিদ্যালয়ের ক্লাশরুমটি খুলে নেওয়ার বিষয়ে অবগত হয়েছি। বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ও ঘটনা স্থলে গিয়ে এ বিষয়ে জেনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এ ব্যাপারে ৫নম্বর হাইমচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ শাহাদাত হোসেন সরকার জানান, ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার হারুন মাল আমাকে না জানিয়ে কাজটি করেছে। আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা। শুক্রবার স্কুলে ম্যানেজিং কমিটিকে বলেছি বিদ্যালয়ের ঘরটি স্থানীয় মেম্বাররা বিদ্যালয়ে দিয়ে আসার জন্য। আমি গত তিনদিন যাবত ঢাকায় আছি আগামীকাল পরিষদের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের ক্লাশরুমটি যে জায়গায় ছিল, সেখানে পূনরায় স্থাপন করার জন্য মেম্বার শফিকুর রহমনকে দায়িত্ব দিয়েছি।

একই রকম খবর

Leave a Comment