র্চাজসীটভুক্ত শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে চাকুরি থেকে বরখাস্তের দাবী

চাঁদপুর খবর রির্পোট: চাঁদপুর জেলার ২৩ নং পাইকাস্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক বহুবিবাহে আসক্ত র্চাজসীটভুক্ত আসামী শহিদুল ইসলামের চাকুরি থেকে বরখাস্তের জন্য প্রথম স্ত্রী রেহানা ইয়াছমিন জেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকারে নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন তিনি ।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারী (বুধবার) তার স্বামী ২৩ নং পাইকাস্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক পদ থেকে বরখাস্ত চেয়ে চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে এ আবেদন করেন ভুক্তভোগী প্রথম স্ত্রী রেহানা ইয়াছমিন।

সুখে থাকা হলো না স্বেচ্ছায় অবসর প্রাপ্ত শিক্ষিকা অসহায় রেহানা ইয়াসমিনের। ঘর করা হলো না পারিবারিক পছন্দে বিবাহ করা স্বামী শহিদুল ইসলামের সাথে।

দীর্ঘ ২০ বছরের সংসার জীবনে নেমে আসে স্বামীর নির্যাতন, নিপীড়নসহ নানা মামলা-মোকদ্দমা। মামলা, মোকাদ্দমা আর মানসিক, শারীরিক নির্যাতনে নিষ্পেষিত রেহানা ইয়াসমিন ন্যায় বিচারের আশায় শরণাপন্ন হয়েছে চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে।

এরই প্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে ফৌজদারি অপরাধে গ্রেপ্তারকৃত ২৩ নং পাইকাস্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শহীদুল ইসলামকে আইন অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করার আবেদন করেন ভুক্তভোগী স্ত্রী রেহানা ইয়াছমিন।

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আমি আপনার অধীনস্থ চাঁদপুর জেলার অন্তর্গত চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন ৫৫নং হামানকর্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। ২৩নং পাইকাস্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম আমার স্বামী হয়। আমি তার প্রথম স্ত্রী। ১৯৬১সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ৬(৫) ধারায় ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে বিগত ১০/০২/২০২২ইং তারিখে মোঃ শহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তার হন।

তাই চাকরির বিধানাবলী অনুযায়ী ও সাময়িক বরখাস্তের বিধানবলী-বি এস আর পাট-১ এর ৭৩নং বিধির নোট-(২), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস মেমোরেন্ডাম নং-ED (Reg-VI) S123/78/115(500), তারিখ: ২১নভেম্বর-১৯৭৮ এবং স্মারক নং-F.32/48-Ests (SE), তারিখ: ২১ জুলাই, ১৯৪৯, অনুযায়ী তাকে চাকুরী হইতে সাময়িক বরখাস্ত করার অনুরোধ জানাচ্ছি। নতুবা আমার অপূরণীয় ক্ষতির কারণ বটে।

আবেদনে আরো উল্লেখ করেন, শহিদুল ইসলামের প্রথম যোগদান ১০/০৮/১৯৯৯ইং, জন্ম তারিখ: ০১/০১/১৯৭৫ইং, জাতীয় পরিচয় পত্র নং-১৯৭৫১৩১২২১৮২২২৬৬৬০, মোবাইল নাম্বার: ০১৮৩৪-১০২৩৯৪, স্কুল কোড: ৯১৪০৭০১০৩০৫, জিপিএফ নাম্বার: ১০০০৩০২৩৪৬, পুরাতন নাম্বার: ৮০৫।

তাই চাকরির বিধানাবলী ও সাময়িক বরখাস্ত বিধানবলী বি এস আর পাট-১ এর ৭৩ নং বিধির নোট-(২), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অফিস মেমোরেন্ডাম নং-ED (REG-VI) S-123/78/115(500), তারিখ: ২১নভেম্বর, ১৯৭৮ এবং স্মারক নং -F.32/48-Ests (SE), তারিখ: ২১জুলাই, ১৯৪৯, অনুযায়ী বহুবিবাহে আসক্ত মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামকে চাকরি হইতে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দানে করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।

জানা যায় গত ৮/১০/২০০২ খ্রিস্টাব্দ ফরিদগঞ্জ উপজেলার কা সারা গ্রামে তফাদার বাড়ির মৃত ডাক্তার ছাত্তারের মেয়ে রেহানা ইয়াসমিন শাহিনার সাথে ২৩নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সাথে পারিবারিক দেখাশোনার মাধ্যমে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। সুখেই চলছিল তাদের সাংসারিক জীবন। কিন্তু সেই মুখ আর বেশীদিন টিকেনি রেহানা ইয়াসমিনের, সেই সুখে বাধা হয়ে দাঁড়ায় স্বামীর পরকিয়া প্রেম আর নির্যাতন-নিপীড়ন। ভাঙ্গন ধরে সংসারে। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিত তার অজান্তেই গত ১৫/১০/২০২১ খ্রিস্টাব্দ বিয়ে করেন শিক্ষক নামে বহুবিবাহে আসক্ত শহিদুল ইসলাম। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অসহায় প্রথম স্ত্রী রেহানা ইয়াসমিন।

তিনি দৈনিক চাঁদপুর খবরকে জানান, আমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলাম কিন্তু স্বামীর কথায় আশ্বস্ত হয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ছেড়ে দেই। স্বামীকে বিশ্বাস করে তার কথা অনুযায়ী স্কুল থেকে প্রাপ্য সকল অর্থ স্বামীর হাতে তুলে দেই। আমার বিশ্বাস ছিল স্বামী ও আমার দুই সন্তানকে নিয়ে সুখে কেটে যাবে আমাদের সংসার। কিন্তু আমার আর সে সুখ কপালে সইল না। আমি স্বামীর কথায় স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়ে আমার প্রাপ্য সমুদ্র তল থাকে দেওয়ার পর থেকে বেরিয়ে আসে স্বামীর আসল রূপ।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাহাবউদ্দিন জানান , অভিযুক্ত ২৩ নং পাইকাস্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

 

একই রকম খবর