লক্ষ্মীপুর ইউপি’র চেয়ারম্যান সেলিম খানের স্থাবর অস্থাবর সম্পদ জব্দ

চাঁদপুর খবর রির্পোট : চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আলোচিত চেয়ারম্যান সেলিম খানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও জব্দ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. আছাদুজ্জামান এ আদেশ দিয়েছেন।

আদালতের এ আদেশের পর সেলিম খান তার নামীয় এসব সম্পদ বিক্রি, হস্তান্তর, স্থানান্তর-রূপান্তর করতে পারবেন না। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলায় সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় দেওয়া হলে সরকারের অনুকূলে এসব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ১ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান সরকার বাদী হয়ে সেলিম খানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। দুদকের এ কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করছেন। তিনিই আদালতে সেলিম খানের সম্পদ ক্রোক ও জব্দের আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, সেলিম খানের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে ৩৪ কোটি ৫৩ লাখ ৮১ হাজার ১১৯ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব রয়েছে। মামলায় সেলিম খানের বিরুদ্ধে ৬৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৭ টাকার সম্পদ গোপনের অভিযোগ আনা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুদক আইন-২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সেলিম খানের নামে স্থাবর সম্পদগুলো হলো- চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলাধীন লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর মৌজায় ১৯ দশমিক ৮৯ একর জমি, ঢাকার কাকরাইলে আজমিন নামীয় পাঁচতলা বাড়ি, কাকরাইলে ৭১৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভূঁইগড় মৌজায় দশমিক ১ হাজার ২৫০ একর জমিতে ১০তলা বাড়ি। এ স্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ২৬ কোটি ৪২ লাখ ৩২ হাজার ২১ টাকা। এছাড়া তাঁর নামে আরও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

আদালতে পেশ করা অস্থাবর সম্পদের মধ্যে সোনালী ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংকে জমানো অর্থের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ওইসব ব্যাংক হিসাবে জমা ও হাতে নগদসহ মোট ১১ কোটি ১৯ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে, নদী থেকে বালু উত্তোলনের ছয়টি ড্রেজার, ৩টি প্রাইভেটকার/জিপ ১টি পিস্তল, ১টি শটগান, আসবাবপত্র, ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ১টি মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ৯টি সিনেমা নির্মাণ ও আমদানিতে অর্থ বিনিয়োগ, ৫৮টি সিনেমা নির্মাণে অনুমতির নিবন্ধন ফি জমা ইত্যাদি।

 

একই রকম খবর