শাহমাহমুদপুরে ভুট্টো হত্যা মামলায় আটক ৩ আসামীর ৭দিনের রিমান্ড আবেদন

চাঁদপুর খবর রিপোট : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আলোচিত কুমারডুগী নিবাসী আজিজুর রহমান খান ভুট্টো হত্যা মামলায় এজহার নামীয় ৩জন আসামীর ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে আদালতে । মামলার তদন্তকারী কমকতা এস আই রাশেদুজ্জামান গতকাল ‍বৃস্পতিবার আদালতে এই আবেদন করেন ।

তিনি জানান,আসামীদের ব্যাপক জিজ্বাসাবাদ করা প্রয়োজন । হত্যাকান্ডে গুরুত্বপুণ তথ্য পাওয়া যাবে ।তাই রিমান্ড প্রয়োজন ।বিষয়টি তদন্তকারী কমকতা এস আই রাশেদুজ্জামান গতকাল বৃস্পতিবার দৈনিক চাঁদপুর খবরকে নিশ্চিত করেন । যদিও এ মামলার প্রধান আসামী সোহাগ খানকে পুলিশ এখনোও গ্রেফতার করতে করতে পারিনি । তবে তাকে গ্রেফতার করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ ।

জানা গেছে, গত ২০ মে আজিজুর রহমান খান ভুট্টো হত্যা মামলায় এজহার নামীয় ওই ৩জন আসামীকে কুমারডুগী এলাকা থেকে আটক করেছে মডেল থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ । আটককৃত আসামীরা হলেন মনসুর খান (৩৮) পিতামৃত আ:লতিফ খান,মোস্তফা খান কালু (৪৮) পিতামৃত : শামছুল হক খান , সুমন খান (৩৪) পিতা হান্নান খান সব সাং কুমারডুগী ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন চাঁদপুর সদর । ওইদিন ভোরে মামলার তদন্তকারী কমকতা এসআই রাশেদের নেতৃত্বে মডেল থানার একদল পুলিশ ও ডিবির একদল পুলিশ যৌভাবে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করতে সক্ষম হয় ।

মামলায় প্রধান আসামী সোহাগ খান পিতা: সিরাজ খানসহ ৫জনকে এজহারভুক্ত করা হয়েছে ।অজ্বাত আরো আসামী রয়েছে । মামলার বাদী হলেন নিহত আজিজুর রহমান খান ভুট্টোর স্ত্রী নিলীমা আক্তার রীনা । মামলা নং ১৬ তাং ১৯.৫.২০২০ ধারা ৩০২.৩৪ দ:বি: ।
জানা গেছে,পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান এর নিদেশে মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে পুলিশ । সেই সাথে চাঁদপুর মডেল থানার ওসি নাসিম উদ্দিন মামলাটি মনিটরিং করছেন সাবক্ষনিকভাবে ।

জানা গেছে,গত সোমবার (১৮ মে ) রাত পৌনে ১১টায় বাড়ীতে যাওয়ার পথে ১০-১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান খান ভুট্টোর উপর হামলা চালিয়ে গলায় ও শরীরের বিভিন্নস্থানে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভুট্টোকে মৃত ঘোষনা করেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) পৌনে ৪টায় ভুট্টোর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে ভুট্টোর প্রথম ও দ্বিতীয় জানাযা সম্পন্ন করে মরহুমের নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে কারা তার উপর হামলা করলো এবং কি কারণে করলো তা উৎঘাটনে চাঁদপুর জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা সংস্থা কাজ শুরু করেছে।

এ বিষয়টি নিয়ে তার বন্ধু ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামছুজ্জামান পাটওয়ারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক চাঁদপুর খবরকে জানান, সোমবার বিকেলে তার কুমারডুগীস্থ এলাকায় সারের দোকান থেকে আমিসহ বাকিলা বাজারে যাই। সেখান থেকে তার বাচ্চাদের জন্য কিছু কেনাকাটা করে মোটরসাইকেল যোগে আসার সময় আমাকে মহামায়া হানাফিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নামিয়ে দিয়ে সে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। আমি বাড়িতে গিয়ে পৌছার কিছুক্ষণ পর ভুট্টোর বাড়ির লিটন নামের এক ব্যক্তি ফোন করেন আমাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত লিটনের কলটি ধরতে পারিনি। এরপরই শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক মোঃ ফারুক বেপারী আমাকে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানালে আমি সাথে সাথেই ছুটে আসি।

স্থানীয়রা জানায়, আজিজুর রহমান খান ভুট্টো রাত পৌনে ১১টার সময় বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির কাছেই ওঁত পেতে থাকা কয়েকজন যুবক ভুট্টোর উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তার ডাক চিৎকারে স্থানীয় আজমির, অপি, ঝিকু ও মাইনুদ্দিন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে দেখেন ভুট্টোর চাচা সিরাজ খানের পুত্র সোহাগ খান ভুট্টোর গলায় ছুরি চালাচ্ছে। তাদের দেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়েন সোহাগসহ ওই সংঘবদ্ধ দলের সদস্যরা। কিন্তু খুনিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও তাদের রেখে যাওয়া ৪টি মোবাইল ফোন, রড, ছুরি ও ৫ জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়।

সামছুজ্জামান পাটওয়ারী আরো জানান, ভুট্টো পারিবারিকভাবে ৩ সন্তানের জনক। তার বড় ছেলে চাঁদপুর হাসান আলী হাই স্কুলে দশম শ্রেণীতে পড়ে, দ্বিতীয় ছেলে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র এবং মেয়েটির বয়স মাত্র ৩ বছর। তিনি আরো জানান, সম্পত্তিগতভাবে সোহাগসহ অন্যন্যদের সাথে ৪টি মামলা ছিলো।

৩টি মামলা ভুট্টোর পক্ষে রায় হয়ে আরেকটি মামলা চলমান আছে। ধারনা করা হচ্ছে সম্পত্তিগত বিরোধের জেড় ধরেই এ ঘটনা ঘটাতে পারে। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান খান ভুট্টো কুমারডুগীস্থ এলাকায় সারের ব্যবসা করতো। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক কাজে জড়িত ছিলেন।

একই রকম খবর