রাজরাজেশ্বরে ইউপি সদস্যর বাড়ি থেকে ৭৫০ মণ ইলিশ জব্দ

ইব্রাহীম খান : চাঁদপুরে এক মেম্বারের বাড়ি থেকে প্রায় ৭৫০ মণ ইলিশ জব্দ করেছে টাস্কফোর্স। শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর মেম্বারের বাড়ি থেকে মাছগুলো জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশের ওপর হামলা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও ৪০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সূত্রের মাধ্যমে খবর পাওয়া যায় রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দুকশীকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর মেম্বারের বাড়িতে ইলিশ সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত চাঁদপুর জেলা টাস্কফোর্স সদস্যরা দুপুর ২টার দিকে সেখানে অভিযান চালান। এ সময় ইলিশ সংরক্ষণকারীরা টাস্কফোর্স সদস্যদের ওপর হামলা চালালে পুলিশ প্রায় ৪০ রাউন্ড গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে জাহাঙ্গীর মেম্বারের বাড়ির দুটি গোয়ালঘরে রক্ষিত প্রায় ৭৫০ মণ ইলিশ জব্দ করা হয়।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বলেন, ‘আমরা গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেখানে গোয়ালঘর থেকে মাছগুলো জব্দ করেছি। জব্দ মাছের মধ্য থেকে প্রায় ২৫০ মণ ইলিশ চাঁদপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে আরও ৫০০ মণেরও বেশি মাছ রয়েছে। ওই মাছগুলো রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হযরত আলীসহ স্থানীয় ৫ জনের জিম্মায় রাখা হয়েছে। শনিবার মাছগুলো চাঁদপুরে নিয়ে আসা হবে।
জব্দ ইলিশ

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ‘অভিযান চালাতে গেলে সেখানের অসাধু লোকজন আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ প্রায় ৪০ রাউন্ড শটগানের গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জব্দ ইলিশের মধ্য থেকে কিছু ইলিশ চাঁদপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। বাকি ইলিশগুলো সেখানে সিলগালা করে রাখা হয়েছে।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুন নাহার শম্পা ও কোস্টগার্ড কমান্ডার এনায়েতুল্লাহ বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত নদীতে মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা নদীতে মা ইলিশ শিকার করে সংরক্ষণ করছে। মা ইলিশ রক্ষায় আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় এ অভিযান। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।’

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান বলেন, ‘মাছ ধরার ওপর আর মাত্র দুদিন নিষেধাজ্ঞা আছে। এ অবস্থায় জেলেরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কিন্তু আমাদের প্রশাসনের সকল সদস্য মা ইলিশ রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মা ইলিশ রক্ষায় আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। মেম্বারের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রচলিত আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

একই রকম খবর

Leave a Comment