স্বয়ং আল্লাহ কোরআনে রমজানের বৈশিষ্ট্য ঘোষণা করেছেন

আহম্মদ উল্যাহ ॥ বছরের অন্যান্য মাসের মধ্যে রমজানের অবস্থান আলাদা। এ মাসের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্যান্য মাসের নেই। ওইসব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যতই চিন্তা করা যায় ততই এ মাসের মহিমা ও গুরুত্ব প্রকাশিত হয়।

প্রথম, স্বয়ং আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজীদে এ মাসের বৈশিষ্ট্য ঘোষণা করেছেন। এটা ঠিক যে, কোরআন মাজীদে আশহুরে হুরুম (আল্লাহ তাআলার ঘোষিত সন্মানিত চারটি মাস) এর কথা উল্লেখ আছে।

ইরশাদ হয়েছে (তরজমা), নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাস বারোটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। (সুরা তাওবা ৯:৩৬)

এ চার মাস হলো রজব, জিলকদ, জিলহজ্ব ও মুহাররম। আর হাদিসের বর্ণনা অনুসারেও এখানে এ চার মাসকেই বোঝানো হয়েছে, তবে এ মাসগুলোর নাম কোরআন মাজীদে উল্লেখ হয়নি। এদিক থেকে মাহে রমজান বৈশিষ্ট্যতার অধিকারী। মাহে রমজানের নাম উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা এর ফজিলত ঘোষণা করেছেন।

ইরশাদ হয়েছে, রমজান মাস হলো সেই মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে পবিত্র কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোজা রাখবে। (সুরা বাক্বারা ২:১৮৫)

মাহে রমজানের যেসব ফজিলত কোরআন মাজীদ ও হাদিস শরীফে উল্লেখ রয়েছে তাতে যেমন তাকভীনী বিষয় আছে, তেমনি আছে তাশরীয়ী বিষয়। তাকভীনী বিষয়ের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে আল্লাহ তাআলা এই মাসকে নির্ধারিত করেছেন তার মহিমান্বিত কালাম নাযিলের জন্য, যা জগদ্বাসীর জন্য হেদায়েত এবং হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্যকারী।

আর এ মোবারক মাসে একটি রজনীকে এমন মর্যাদা ও মহিমা দান করেছেন যে, তা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এ দুই বৈশিষ্ট্য কোরআন মাজীদে পরিষ্কারভাবে উল্লেখিত হয়েছে।

আর হাদীস শরীফে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যখন মাহে রমজানের আগমন হয়, তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয়। আর শয়তানের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।

এ মাসের তাশরীয়ী বৈশিষ্ট্যের মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। যা হলো, সওম ও তারাবি এ মাসে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। সুরা বাক্বারার যে আয়াতে মাহে রমজানের ফজিলত ঘোষিত হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, হে ঈমানদারগণ তোমাদের ওপর ফরজ করা হয়েছে রোজা, যেমন ফরজ করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যেন তোমরা আত্মরক্ষা করতে পার (গুনাহ এবং জাহান্নামের অগ্নি থেকে)। (সুরা বাক্বারা: ১৮৪ আয়াত)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তারাবির নামাজকে আমাদের জন্য অপরিহার্য করেননি, তবে তিনি উৎসাহিত করেছেন এবং বলেছেন যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে রমজানের রাতে নামাজে দাঁড়ায় তার পূর্বকৃত গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (সহীহ বুখারী হাদীস ২০০৯)

সাহল ইবনে সাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম (স.) বলেছেন বেহেশতের একটি দুয়ার আছে উহাকে রাইয়্যান বলা হয়, এই দ্বার দিয়ে কিয়ামতের দিন একমাত্র রোজাদার লোকেরাই বেহেশতে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ এই পথ থেকে প্রবেশ করবে না। সেদিন এই বলে ডাক দেওয়া হবে, রোজাদাররা কোথায়? তারা যেন এই পথে প্রবেশ করে, এভাবে সব রোজাদারদের ভেতরে প্রবেশ করার পর দ্বারটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

একই রকম খবর