হাইমচরে কলেজ শিক্ষককে পিটিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি

বিশেষ প্রতিনিধি ; চাঁদপুরের হাইমচরে গ্যাসের চুলা ব্যবহার নিয়ে কলেজ শিক্ষকের উপর হামলা করে তাকে পিটিয়ে রক্তান্ত জখম করার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে আইনি সহযোগিতা চেয়ে আহত শিক্ষক সোমবার হাইমচর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে। এদিকে, শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় হাইমচর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতিসহ অন্যান্য শিক্ষকরা হামলকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

হামলার শিকার শিক্ষক হাইমচর সরকারি মহা বিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক কামরুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে হাইমচর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (১৪ আগষ্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের নুরু মুন্সির বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানাজায়, হাইমচর কলেজে চাকুরির সুবাধে কামরুল ইসলাম (৫৫) নীলকমল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে নুরু মুন্সির বাড়ির নীচ তলায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। তারই পাশের রুমে সুজন নামের আরেক ব্যক্তি ভাড়া থাকেন।
পাশের ভাড়াটিয়া সুজন শিক্ষক কামরুল ইসলামের গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডার ব্যবহার করার জন্য চাইলে তিনি তাকে সিলিন্ডার ও চুলা দিয়ে সহযোগিতা করেন। কিন্তু দুই দিনের কথা বলে সুজন সিলিন্ডার ও চুলা অনেকদিন যাবত ব্যবহার করেন। অনেকবার চুলা ও সিলিন্ডার ফেরত চাওয়ার পরে সুজন তা দিতে অস্বীকৃিত জানায়।

এক পর্যায়ে রোববার রাত ৯টায় অধ্যাপক কামরুল ইসলাম সুজনের বাসা থেকে চুলাও সিলিন্ডার নিয়ে আসেন। সুজন রাত সাড়ে ৯ টার সময় স্থানীয় এরশাদ মৃধার ছেলে আনোয়ার হোসেনকে সাথে নিয়ে কলেজ শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করেন এবং দরজা বন্ধ করে এলোপাথাড়ি মারধর করে আহত করেন।

স্থানীয় লোকজন তার চিৎকারে এগিয়ে আসলে তারা দুজন চলে যায়। স্থানীয় লোকজন কলেজ শিক্ষককে আহত অবস্থায় হাইমচর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান।

আহত কলেজ শিক্ষক কামরুল ইসলাম জানান, আমার পাশের রুমে সুজন বাসা ভাড়া নেয়। সে আসার পর তার রান্না করার জন্য আমার সিলিন্ডার ও চুলা দুই দিনের জন্য চাহিলে আমি তাকে সহযোগীতা করি। আমার সিলিন্ডার ও চুলা দেই দিচ্ছি করে অনেকদিন যাবত সে তা ব্যবহার করছে।

আজ আমি চুলা ও সিলিন্ডার চাইতে গেলে সে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আমি তার রুম থেকে আমার সিলিন্ডার ও চুলা নিয়ে আসি। কিছুক্ষন পর সে স্থানীয় আনোয়ার হোসেনকে সাথে নিয়ে এসে আমার উপর হামলা কওে আমাকে বেদম ভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। আমি এখন মারাত্বক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।

আমি আইনি সহযোগিতা চেয়ে হাইমচর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি। আমি আশা করি হাইমচর থানা পুলিশ এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিবে।

এদিকে, শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় হাইমচর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতিসহ অন্যান্য শিক্ষকরা হামলকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

একই রকম খবর