হাইমচরে চাচা কর্তৃক প্রতিবন্ধি ভাতিজিকে ধর্ষনের অভিযোগ

হাইমচর প্রতিনিধিঃ চাঁদপুর জেলা হাইমচর উপজেলার ৬ নং চরভৈরবী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া বগুলা গ্রামের দেলোয়ার গাজীর বাক ও মানসিক ভারসাম্যহীন প্রতিবন্ধী কিশোরীকে শ্লীলতাহানি অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় শালিরা ৪০ হাজার টাকা দফারফা করলে টাকা পায়নি অভিযোগকারী প্রতিবন্ধী কিশোরীর মা।

জানাযায় চাঁদপুরের হাইমচরে ১৩ বছরের বাক প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চাচা বিল্লাল গাজীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় শালিসের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা রফাদফার চেষ্টা। অমিমাংশিত অবস্থায় ভুক্তভোগীর পরিবার বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

শনিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে জেলার হাইমচার থানার চরভৈরবী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া চর বগুলা গ্রামের ঢাকায় চাকুরিরত আলী আহম্মেদ গাজীর বাক প্রতিবন্ধি শিশু কন্যা তানজিলা আক্তার (১৩) তার নিজ বাড়ির সামনে রাস্তার উপর খেলছিল। এসময় অভিযুক্ত বিল্লাল গাজি (৩৫) বাক প্রতিবন্ধী শিশুটিকে ফুসলিয়ে হাত ধরে টেনে পাশের ধইঞ্চা খেতে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

শিশুটির মা সালেহা বেগম শিশুটিকে দীর্ঘক্ষণ দেখতে না পেয়ে খুঁজতে বের হয়। পরে ধইঞ্চা খেতের পাশে গেলে শিশুটিকে ধইঞ্চা খেতের একটু ভিতরে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পায়। শিশুটির সাথে ঘটিতব্য ঘটনা অঙ্গভঙ্গিতে চাচা বিল্লাল গাজী’র কথা বুঝানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন হাইমচর থানাকে অবগত করলে হাইমচর থানা পুলিশ এসে তদন্ত করে গেছেন বলে জানা যায়।

ভুক্তভোগীর মা সালেহা বেগম আমাদের রির্পোর্টারকে জানায়, থানাকে অবগত করেছি, পুলিশ এসেছিল তদন্ত করে গেছেন। কিন্তু এর রির্পোট আমরা এখনও পাইনি। তিনি আরও জানান, গতকাল ৩০ জুন বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় শালিস ইউপি সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন সরদার, মো. নজরুল ইসলাম ফকির, আলমাস মেম্বার ও শিমুল চোকদারের উপস্থিতিতে সুরাহা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। শালিসের এক পর্যায় ৪০ হাজার টাকা শিশুটির ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রস্তাবনা আসলে আমি অস্বীকৃতি জানাই এবং আইনের মাধ্যমে এর সুষ্ঠ বিচার চান বলে জানান।

অভিযুক্ত বিল্লাল গাজী ঘটনার পর পর বাড়ি থেকে গাঁ থাকা দিয়ে রয়েছে। ঘটনাস্থল অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন গাজীকে বাড়িতে না পেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, সালেহা বেগমের সাথে আমাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ আছে। উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ফাঁসানোর জন্য আমার বিরুদ্ধে এটা একটা ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে এক পর্যায়ে অভিযুক্ত বিল্লাল গাজী’র কাছে জানতে চায়, যখন আপনি নির্দোষ মনে করেন, তখন শালিসের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা কিসের ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছেন? এমন প্রশ্নের মুখে অভিযুক্ত বিল্লাল গাজী বিষয়টি এড়িয়ে যায়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন সরদার জানান, এ রকুম একটা অভিযোগ এসেছে আমার কাছে। আমরা স্থানীয় ভাবে বসে বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করি। কিন্তু ভিকটিমের পরিবার তা মানতে রাজি হন নি।

তাই অভিযোগের বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধান হোক এমনটাই জানান।এ ব্যাপারে হাইমচর থানা অফিসার ইন-চার্জ মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, মৌখিক একটি অভিযোগের ভিত্তিতে আমি ফোর্স পাঠিয়েছি। তবে ধর্ষণের বিষয়টি আমাদের কাছে এখনও নিশ্চিত নয়। আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন সেখানে ধর্ষণের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি, সে রকুম কোনো আলামত প্রাথমিক পর্যায়ে এখনও পায়নি। এমনকি এমন কোনো সাক্ষিও হাজির করতে পারেনি শিশুটির ধর্ষণের পক্ষে। তবে লিখিত অভিযোগ হলে বিষয়টি আরও ভালো ভাবে খতিয়ে দেখবে বলেন জানান

একই রকম খবর