হাজীগঞ্জের সম্পত্তি ক্রয় করে দখলে যেতে পারছে না প্রবাসী পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার: হাজীগঞ্জের সম্পত্তি ক্রয় করে দখলে যেতে পারছে না প্রবাসী পরিবার। পৌর ৬নং ওয়ার্ডে ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে দেয়াল নির্মাণে বাঁধা দেওয়া অভিযোগ উঠেছে। ২০ আগস্ট শুক্রবার দেয়াল নির্মাণ করতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখিন হতে হয় প্রবাসী ফয়সাল আরাফাতের পরিবার।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড সর্দার বাড়ির মৃত আব্দুল হাকিমের বড় ছেলে ওমর ফারুক গংদের কাছ থেকে ৩ শতক ৪০ পয়েন্ট ভূমি ক্রয় করেন একই এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা পাটওয়ারী ও পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেরদৌসী আক্তারের ছেলে নেদারল্যান্ড প্রবাসী ফয়সাল আরাফাত।

গত বছরের ৩ নভেম্বর স্থানীয় জাকির হোসেন মোহন ওমর ফারুকের কাছ থেকে ৩ শতক ৪০ পয়েন্ট পৈত্রিক সম্পত্তি বায়না করে। জাকির হোসেন মোহন বায়নাকৃত ওমর ফারুককের পৈত্রিক সম্পত্তির অংশ ২৮লক্ষ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে বিক্রয় করতে নেদারল্যান্ড প্রবাসী ফয়সাল আরাফাতের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। এতে ফয়সাল আরাফাতের অবর্তমানে যাবতীয় কাযক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় তার বন্ধু একই গ্রামের সাইফুল ইসলাম রাজুকে। রাজুর মাধ্যমে ফয়সালের ক্রয়কৃত ভূমি গত ১৪/১২/২০২০ ইং তারিখে রেজিস্ট্রি করা হয়।

এরপর বাকী টাকা কয়েক ধাপে চেকের মাধ্যমে হস্তান্তর করে ফয়সালের বন্ধু রাজু। গত ১২ আগস্ট ওমর ফারুকের মা জৈতন বেগম, বোন আঁখি আক্তার এবং ভগ্নিপতি মো. ফিরোজ চেক ফেরত দিয়ে বকেয়া থাকা ৫লক্ষ টাকা স্থানীয় কাউন্সিলর শাহ আলম এবং মাঈনুদ্দিন রনকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নগদ অর্থ বুঝে নেয়। জায়গা বিক্রয়ের টাকা হাতিয়ে নিয়ে বাঁধ সাধে ওমর ফারুকের পরিবার।

২০ আগস্ট শুক্রবার ফয়সালের বন্ধু রাজু এবং পলাশের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করে ওমর ফারুকের মা জৈতন বেগম। পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে যায়। পুলিশের উপস্থিতিতে ওমর ফারুকের মা জৈতন বেগম, বোন আখি বেগম, ভগ্নিপতি ফিরোজসহ দলবল নিয়ে প্রবাসী ফয়সালের ক্রয়কৃত ভূমিতে দেয়ালের কলাম ভাংছুৃর করে। এসময় ফয়সাল এবং তার বন্ধু রাজুকে হুমকি ধমকি দেয়।

এদিকে চাঁদা দাবী করে আসছেন ওমর ফারুকের ভগ্নিপতি ফিরোজ। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় থানায় অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করা হয় বলে জানান প্রবাসী ফয়সাল ও তার রাজু।

এ ঘটনায় বিষয়ে জানতে বাদী জৈতন বেগমের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রবাসী ফয়সাল আরাফাত মুঠোফোনে বলেন, আমি গত এক বছর পূর্বে আমার বন্ধু রাজুর মাধ্যমে ওমর ফারুকের কাছ থেকে ভূমি ক্রয় করি। আমি বিদেশে থাকার কারণে বন্ধু রাজুকে জায়গা জমি দেখার দায়িত্ব দিয়ে আসি। সে আমার পক্ষে সকল লেনদেন এবং দেখাশুনা করে। আমাকে সহায়তা করার কারণে রাজু এবং পলাশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করে আসছে। আমি এ ঘটনায় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

সাইফুল ইসলাম রাজু বলেন, আমার বন্ধু ফয়সালকে ওমর ফারুকের কাছ থেকে ভূমি ক্রয় করতে সহযোগিতা করে আসছি। গত ১২ আগস্ট সর্বশেষ জায়গা ক্রয়ের বাবদ বকেয়া থাকা ৫ লক্ষ টাকার চেক ফেরৎ দিয়ে কাউন্সিলর শাহ আলম এবং মাঈনুদ্দিন খান রনকের উপস্থিতিতে নগদ টাকা বুঝে নেয়। যখনি আমরা জায়গার সীমানা নির্ধারণ করে দেয়াল নির্মাণ করতে যাই তখনি ওমর ফারুকের মা থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে দলবল নিয়ে দেয়ালের কলাম ভেঙ্গে ছুরমার করে দেয়।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হারুনুর রশিদ বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পৈত্রিক সম্পত্তির অন্য অংশিদার ওমর ফারুকের মা এবং ভাই বোন বিষয়টি নিয়ে আপত্তি করেছে। উভয় পক্ষের কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসার জন্য বরা হয়েছে।

একই রকম খবর