হাজীগঞ্জে কৃষি জমিতে শতাধিক ড্রেজার : হুমকির মুখে ফসলি জমি

স্টাফ রিপোটার : চাঁদপুরের  হাজীগঞ্জ উপজেলার  বিভিন্ন ফসলি জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের মহোৎসব যেন রীতিমত চলে আসছে। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে উপজেলার বিভিন্ন আবাদি জমি গর্ত করে মাটি উত্তোলন করে আসছে প্রভাবশালী মহল।

এর ফলে কৃষকেরা ইরি-বোরো চাষাবাদ কার্যক্রমে হুমকির মধ্যে পড়তে হবে। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে ফসল উৎপাদন। সেই সঙ্গে এ এলাকায় দেখা দেবে চরম খাদ্য সঙ্কট এবং আশপাশের বসতঘরও হুমকির মুখে পড়েছে।

এদের বার বার মাটি উত্তোলন না করার জন্য প্রশাসন থেকে নিষেধ করা হলেও কর্ণপাত করছেন না। বরং আবাদি জমিতে মাটি উত্তোলন করে বিশাল সুড়ঙ্গ করে ফেলেছেন তারা।

এই মুহূর্তে এদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নিলে এ উপজেলায় এক সময় আবাদি জমি আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি, এমনকি খোদ জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটিতেও আলোচনা হয়েছে। তারপরও ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন বন্ধ হয়নি।

তবে প্রায় প্রশাসনের কাছে ভুক্তভোগী জমির মালিকরা লিখিত অভিযোগ দিয়ে আসলেও তেমন কোন আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করতে দেখা যাচ্ছে না।

গত ২০ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন দিগচাইল গ্রামের মুহাম্মদ ইসমাইল মিয়ার ছেলে মুহাম্মদ আ. আজীজ। তিনি তার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন, ৬নং বড়কূল পূর্ব ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড দিগচাইল দক্ষিন মাঠের মিজি বাড়ীর দক্ষিনে তাহার ফসলি জমির বাসবর্তী জমির মাটি বিক্রি করেন একই গ্রামের শহিদুল্লাহর কাছে।

শহিদুল্লাহর উক্ত মাটি মোল্লাডহর গ্রামের আমিন মিয়ার অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে উত্তলন করছেন । গত ১০/১২ দিন ধরে দিন রাত ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তলনের ফলে আ. আজিজসহ পাসবর্তী মালিকের জমি ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আশংকা রয়েছে।

এর আগে এলাকার সচেতন জনগন তাদেরকে বার বার মৌখিক বাধা দেওয়ার পরও তারা কোন কর্ণপাত করেনি। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ করার পরেও গত ১০/১২ দিন ধরে অবৈধ প্রন্থায় ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তলনের কাজ চলে আসছে।

এ বিষয়ে ড্রেজারের মালিক আমিন মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘মিনি ড্রেজার অবৈধ জানি, কিন্তু কোথায়ও কি কাজ বন্ধ হয়েছে নাকি। আমরা কোন অভিযোগ পাইনি তাই কাজ করে যাচ্ছি। এতে কারও ক্ষতি হবে না।’

লিখিত অভিযোগকারী আ. আজীজ বলেন, আমি গত ২০ সেপ্টেম্বর অনলাইনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। কিন্তু গত ১০/১২ দিন ধরে প্রশাসনের কাজ থেকে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করতে দেখিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা জিয়াউল হক বলেন, লিখিত অভিযাগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

একই রকম খবর

Leave a Comment