হাজীগঞ্জে মৃত বোনের ডিভোর্স জালিয়াতি মামলায় জামিনে মুক্তি

স্টাফ রির্পোটার : হাজীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর মৃত বোনের ডিভোর্স জালিয়াতি মামলায় কারাবাস শেষে আপোষ শর্তে জামিন লাভ করেছে ৩ আসামী।

৫ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর হাজীগঞ্জ আমলী আদালত সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কার্তিক চন্দ্র দাস এ জামিন প্রদান করেন। জামিন প্রাপ্ত আসামীরা হলেন, মামলার আসামী কাজী মোঃ ওমর ফারুক (৪০) মোঃ গিয়াস উদ্দিন (৫৪) ও মোঃ আবুল হোসেন (৬৫)। এর পূর্বে একই মামলার ১ নং আসামী হাবিবুর রহমান জীবন সিআইডি কর্তৃক আটকের পর জামিন লাভ করেন।

জানা যায়, আসামীরা কোটি টাকার সম্পদের লোভে পড়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের মৃত বোন রয়েলী আক্তারের স্বামী গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি ডির্ভোস জালিয়াতি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তারা যথাযথ তথ্য প্রমান উপস্থাপন করতে না পারায় বিজ্ঞ আদালত মামলাটি স্বামী গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে খারিজ করে দেন।

এরপর আসামীরা ভুয়া ডির্ভোসনামা তৈরি করে পুনারায় আরেকটি সাজানো মিথ্যে মামলা করেন। উক্ত মামলাটি হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের তদন্তে দেয়া হলে পুলিশ তদন্তে তা আবারো মিথ্যে প্রমানিত হয়। এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ বাদী হাবিবুর রহমান জীবনকে দোষী সাব্যস্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এদিকে মৃত রয়েলী আক্তারের স্বামী গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে ডিভোর্স জালিয়াতিচক্রের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার ন্যস্ত হয় চাঁদপুর সিআইডি কর্মকর্তা আবু জাহিদ তুহিনের কাছে। এই ককর্মকর্তা প্রকাশ্য ও গোপনীয় তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত করে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে এক নম্বর আসামি হাবিবুর রহমান জীবন এবং তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসীকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয় এবং তাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

তাদের সহযোগী হিসেবে আসামি শাহিনুর রহমান, আবুল হাশেম, গিয়াস উদ্দিন, বিলকিস বেগম, কাজী মোঃ ওমর ফারুককে দোষী সাব্যস্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তে আসামি আল আমিন লিটন ও সালমা সুলতানা কুমকুম এর কোন সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

সিআইডি কর্তৃক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর আসামিগণ জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদালত তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। অবশেষে ৫ জুলাই মঙ্গলবার আপোষ মিমাংসার শর্তে বিজ্ঞ আদালত আসামিগণকে জামিন প্রদান করেন।

 

একই রকম খবর