হাজীগঞ্জে স্বামীর অধিকারের দাবিতে চার দিন প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান

হাবিবুর রহমান, হাজিগঞ্জ : হাজীগঞ্জে প্রেম করে বিয়ের ৯দিন পর স্বামীর অধিকারের দাবিতে টানা চার দিন ধরে অবস্থন করেছে এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী। নববধুর উপস্থিতি টের পেয়ে উধাও হয়ে যায় স্বামী।

২২ জুলাই শুক্রবার উপজেলার ১০নং গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের তাহের মাস্টার বাড়িতে স্বামীর অধিকারের দাবিতে অনশন কর্মসূচিতে অবস্থান নেয় ফাতেমা আক্তার নামে এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, হাজীগঞ্জ উপজেলার ১০নং গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হোটনী বুলুয়া বাড়ির মৃত আব্দুল ছাত্তারের মেয়ে ফাতেমা আক্তার (১৮) একই ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের তাহের মাস্টারের ছেলে রাকিবের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। প্রেমিক রাকিবের বাবা আবু তাহের চৌধুরী স্থানীয় দেশগাঁও জয়নাল আবেদীন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

ফাতেমা আক্তার দেশগাঁও ডিগ্রি কলেজে ইন্টার ১ম বর্ষে পড়াশোনা চলাকালীন সময়ে রাকিবের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাকিব একই কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।

রাকিব মেয়েটিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গত ১৪ জুলাই চাঁদপুর নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করে।
বিয়ের পর ওইদিন রাকিব মেয়েটিকে নিয়ে হাজীগঞ্জ বাজারে তার বোনের বাসায় অবস্থান নেয়। রাত্রি যাপনের পরদিন রাকিব তার বাবা-মায়ের পরামর্শে মেয়েটিকে তার বাবার বাসায় পাঠিয়ে দেয়।

বিয়ের পর সপ্তাহখানেক পর রাকিব স্ত্রীকে বাড়িতে না নিয়ে উল্টো তালাক নামা পাঠায়। এ ঘটনায় মেয়েটির পরিবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়ে কোন সমাধান পায়নি।

স্বামীর অধিকারের দাবী নিয়ে শুকবার সকাল ১০টায় কাশিমপুর গ্রামের রাকিবের বাড়িতে অবস্থান নেয়। ফাতেমা আক্তার যখন তার স্বামী রাকিবের বাসায় প্রবেশ করতে গেলে তার বোনদের হাতে মারধরের শিকার হয়। সেখানে মেয়েটি অনশনে অবস্থান নেয়। এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন বাচ্চুর উপস্থিতিতে মেয়েটি ঘরে প্রবেশ করে সেখানে অনশনে অনড় থাকে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় হাজীগঞ্জ থানার এসআই আব্দুল আজিজ। দুপুর দুইটায় ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাচ্চু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই পরিবারকে বসে দ্রুত সঠিক বিচারের আশা দিয়ে মেয়েটিকে পানি ও কেক খাইয়ে অনশন ভাঙ্গায়।
এদিকে রাকিবের মা দাবি করে বলেন আমার ছেলেকে আমি খুঁজে পাচ্ছিনা আমার ছেলের এখনো ১৮ বছর হয়নি সরকারি আইন অনুযায়ী ছেলেদের বিয়ে করতে হলে ২১ বছরের প্রয়োজন হয়।

কিন্তু ফাতেমা আক্তার তাদের কোন কথা মানতে রাজি নন। ফাতেমার কথা হচ্ছে এটি স্বামীর বাড়ি এখানেই তার জীবন মরণ। শুক্রবার থেকেই স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছে।

অবস্থানের দিন থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাচ্চু তার নিরাপত্তার জন্য স্বামীর বাড়িতেই তিনজন গ্রাম পুলিশ নিয়োজিত রেখেছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

একই রকম খবর