হাজীগঞ্জ বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নে ভাতার কার্ড নিয়ে রমরমা বাণিজ্য!

হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি : হাজীগঞ্জের বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির বিশেষ বরাদ্ধের আওতায় বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ডের রমরমা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

৪-৫ হাজার টাকার বিনিময়েও মিলছেনা বয়স্ক-বিধবা ভাতার কার্ড। কার্ডের জন্য অগ্রিম টাকা জমা দিয়ে প্রহর গুণতে হয় অসহায় দরিদ্র বয়স্ক এবং বিধবা নারীদের। উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন মিয়াজীর ঘনিষ্ঠজনদের কাছে গেলে অর্থের বিনিময়ে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড দেয়ার আশ^াস প্রদান করে মোটা অংকের ঘুষ নেয়া হয়।

তার পরেও কার্ড দিতে গড়িমসি করে। আবার অনেকে টাকা দিয়েও কার্ড না পাওয়ার কথা জানান। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য। বয়স্ক-বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড প্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। অফিস খরচের নামে ভ‚ক্তভোগী মানুষের কাছ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন মিয়াজী’র নির্দেশে একটি চক্র অর্থের বিনিময়ে ভাতার কার্ড বিতরণে টাকা সংগ্রহ করে থাকে।

নাম প্রকাশে একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রত্যেক কার্ডের জন্য চেয়ারম্যান নিজে ১৫শ টাকা করে নেন। তারপর যারা এ নিয়ে কাজ করে তারা বাকিটা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়।

ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দুটি গ্রাম পূর্ব বড়কুল এবং এন্নাতলী গ্রাম। ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন মিয়াজী। একটি ওয়ার্ডে দুটি গ্রাম হওয়ায় পূর্ব বড়কুলের দায়িত্বে রয়েছেন ইউপি সদস্য মো. জামাল উদ্দিন এবং এন্নাতলী গ্রামের দায়িত্বে রয়েছে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাগিনা হিসেবে পরিচিত কাউছার হামিদ মিয়াজী।

কাউছার তার জেঠাতো বোন লাকী আক্তারের মাধ্যমে গ্রামের অসহায় বয়স্ক নারী পুরুষ ও বিধবা নারীদের কাছ থেকে ভাতার কার্ড পাইয়ের দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪-৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। ভাতার কার্ডের জন্য এক বছর আগে ৪ হাজার টাকা দিয়েও কার্ড পায় অনেক অসহায় নারী পুরুষ। এর সাথে জড়িত রয়েছে মহিলা ইউপি সদস্য হোসনেআরা।

হোসনেআরা কাউছারের যোগসাজশে এ বাণিজ্য করে আসছে।
এ ছাড়াও কাউছারের অপকর্মের শেষ নাই। ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন মিয়াজীর সহযোগিতায় পরিচিত বিদ্যুতের মিটার বাণিজ্য, চল্লিশ দিনের কর্মসূচি টাকা আত্মসাৎসহ নানান অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এন্নাতলী পাটওয়ারী বাড়ির সামনে থেকে হাজী বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় চল্লিশ দিনের কর্মসূচির আওতায় রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজে বালির উপর নামমাত্র মাটি ফেলেছে। যা কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করার দাবী জানান এলাকাবাসী।

এ দিকে কাউছার হামিদ মিয়াজীর দাপট আর দম্ভে কেউ ভয়ে কথা বলতে রাজি নয়। কেউ তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে, তাকে মিথ্যা হয়রানি এবং রাজনৈতিক মামলা-হামলার শিকার হতে হয়।

আমাদের প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন কয়েকজন ভ‚ক্তভোগী নারী ও পুরুষ। এন্নাতলী গ্রামের বেপারি বাড়ির ছায়েদ আলী বেপারীর ছেলে মো. শহীদুল্লাহ (৬৫) বলেন, ভাতার কার্ডের জন্য আমার কাছ থেকে কাউছার ৪ হাজার টাকা চায়। আমি না দেওয়ায় আমাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়নি। ভিজিএফ এর চালের টাকা চাইলেও কাউছার টাকা চায়। মেম্বারের কাছে গেলে ওনি বলেন এন্নাতলীর সকল কাজ কাউছার করে। তার কাছে গেলেই হবে।
একই গ্রামের ভ‚ক্তভোগী মো. শাহজাহান (৭০)। তার স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, আমার স্বামীকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়ার জন্য এক বছর পূর্বে হাজার টাকা নেয় কাউছার। সে তার জেঠাতো বোন লাকীর মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা নেয়। কার্ড পাওয়ার পর আবারো ৪ হাজার টাকা দাবী করে । এতে আমার স্বামী দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

হাজী বাড়ির মৃত আব্দুল হাই এর স্ত্রী শিরীণ আক্তার (৪০) বলেন, আমার কাছ থেকে প্রায় ১বছর আগে কাউছার ও লাকী ৪ হাজার টাকা নিয়েছে। এখনো আমি বিধবা ভাতার কার্ড পাইনি। কার্ডের কথা বললেই লাকী ও কাউছার বলে পাবেন। দোয়া করেন আপনার কার্ড আসবে। আমি আর কত অপেক্ষা করলে কার্ড পাবো।

ফাতেমা আক্তার (৬৫) বলেন, কাউছারের জেঠাতো বোন লাকী আমার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়েছে। লাকী একদিন এসে আমাকে বলে একটা কার্ড আছে আন্নের নামে করে দিমু। ৫ হাজার টাকা লাগবো। এরপর আমি ছেলে মেয়েদের কাছ থেকে নিয়ে ৪ হাজার ৫শ টাকা দিয়ে আসি লাকী ও কাউছারের কাছে। পরে মহিলা মেম্বার আমার ছেলের সাথে আলীগঞ্জে দৌঁড়া-দৌঁড়ি করে। তারে হোটেলে খাওয়াইতে হইছে। কার্ডের টাকা উত্তোলনের পর মহিলা মেম্বার ২ হাজার টাকা দাবী করে। এরপর আবারো কাউছার ও লাকী টাকা দাবী করে।

অভিযুক্ত লাকী আক্তারের ঘরে গেলে সে পালিয়ে যায় এবং মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ইউনিয়ন পরিষদের কোন প্রতিনিধি ? না কোন সংস্থায় কাজ করি। আমার ছেলে রাজনীতি করার কারণে এসব অপ-প্রচার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. কাউসার আহমেদের সাথে মুঠোফোনে যোগা-যোগ করলে আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, আমি কার্ডের টাকা পয়সার সাথে জড়িত নেই। আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।

এ বিষয় ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেনকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

একই রকম খবর

Leave a Comment