৫২ হাজার পরিবারকে ত্রাণ দিলেন দানবীর হাজী মোহাম্মদ কাউছ মিয়া

চাঁদপুরের কৃতী সন্তান বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ করদাতা, সিআইপি প্রখ্যাত ব্যবসায়ী ও দানবীর হাজী মোহাম্মদ কাউছ মিয়া । দেশের যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে গরীব-অসহায় মানুষের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।

যার ফলে চাঁদপুর তথা সারা দেশে তিনি দল-মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছেই শ্রদ্ধার এবং ভালোবাসার মানুষ। সেই ধারাবাহিকতায় চলমান মহামারি করোনাভাইরাসে কর্মহীন ও গরবী-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আবারো মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

করোনার মতো মহা দুর্যোগকালীন সময়ে দানবীর হাজী মোহাম্মদ কাউছ মিয়ার এই মানবিক সাহায্য যা কিনা দেশব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে । করোনা মহামারিতে রোজার শুরু থেকে টানা বিশ দিনে হাজী মোহাম্মদ কাউছ মিয়া তাঁর নিজস্ব তহবিল এবং যাকাত ফান্ড থেকে চাঁদপুরের ২২ হাজার পরিবারের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি, ২৫ কেজি, ৩০ কেজি ও ৫০ কেজির বস্তায় মোট ২শ’৮০ মেট্রিক টন চাল খাদ্য সহায়তা হিসেবে বিতরণ করেছেন।

দুর্যোগকালীন সময়ে দানবীর হাজী মোহাম্মদ কাউছ মিয়ার এই খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রয়েছে । অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চাঁদপুর পৌর এলাকাসহ রাজরাজেশ্বর, তরপুরচন্ডী, কল্যাণপুর, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন রামদাসদী শাহমাহমুদপুর ও হাইমচর ও চর এলাকা খাদ্য সহায়তার এই চাল বিতরণ করা হয়। খাদ্য সহায়তার চাল বিতরণকালে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং প্রতিটি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহযোগিতা করেন।

১৯৫৪ সাল থেকে এ যাবৎকালে করোনা মহামারিসহ ১৯ বার দেশে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়। দেশের যে প্রান্তেই বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙ্গন, পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে সেখানেই হাজী মোহাম্মদ কাউছ মিয়ার সহায়তা পৌঁছেছে। ১৯৮৮’র ভয়াবহ বন্যার সময় শরীয়তপুরের তারাবুনিয়াস্থ আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টারে করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

১৯৮৮ সালে টানা এক মাস ও ৯৮’র বন্যার সময় প্রায় দুই মাস চাঁদপুরসহ আশপাশের এলাকার পানিবন্দী মানুষের দোরগোড়ায় রান্না করা খাবার পৌঁছে দিয়ে কাউছ মিয়া দেশ এবং বিদেশে বেশ সুনাম অর্জন করেন। হাজী মোহাম্মদ কাউছ মিয়া ২০০১ সালে চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে শুকনা খাবার, পানি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

এছাড়াও হাজী মোহাম্মদ কাউছ মিয়ার পক্ষ থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় করোনা মহামারিতে কর্মহীন হওয়া প্রায় ৩০ হাজার পরিবারকে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তাঁর ছেলেরা। এভাবেই তিনি ৬৫ বছর যাবত মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। দেশবরেণ্য ব্যবসায়ী, হাজী মোহাম্মদ কাউছ মিয়ার এই মানবিক সহায়তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চাঁদপুরের সর্বমহল।

তার এই মানবিক সহায়তায় অসহায় গরীব মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। তারা এ সাহায্য পেয়ে ৮৯ বছর বয়সী দেশের প্রবীণ মানুষটির জন্য আল্লাহর কাছে মন খুলে দোয়া করেছেন। চাঁদপুর জেলাবাসী হাজী মোহাম্মদ কাউছ মিয়া চলমান করোনা পরিস্থিতিতে চাল বিতরণের যে ব্যাপক মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সেজন্যে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

একই রকম খবর