ফরিদগঞ্জে আটক ৭ জঙ্গীর রিমান্ড শেষে জেল হাজতে প্রেরণ

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থেকে আটককৃত আনসার উল্যা বাংলা টিমের সদস্যের ৫দিনের রিমান্ড সম্পন্ন হয়েছে। বৃহষ্পতিবার রিমান্ড শেষে চাঁদপুর বিচারিক আদালন হাকিম সফিউল আজমের আদালতে তোলা হয়।

এসময় ৭ জঙ্গীর মধ্যে তিনজন স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। পরে সকলকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়া জঙ্গীরা হলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলার গাজীপুর এলাকার কাউছার হামিদ(১৯),কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার মো: মাহমুদুর রহমান(২৪), নারায়নগঞ্জ জেলা সদরের রাশেদুল ইসলাম (২৫)।

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরী জানান, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও প্রশিক্ষনের জন্যই এরা ফরিদগঞ্জে আসে। তারা কাউছার হামিদের ভগ্নীপতি সৌদি প্রবাসী আবু রায়হানের পৌর এলাকার উত্তর কেরোয়া গ্রামের নির্জন বাড়িটি তাদের আশ্রয় স্থল হিসেবে বেছে নেয়। কিন্তু গ্রামের সচেতন মানুষের কারণে এবং পুলিশের তীক্ষè দৃষ্টির কারণে তারা ফরিদগঞ্জের আসার এক দিনের মধ্যেই ধরা পড়ে।

তিনি জানান, আটককৃত জঙ্গীদের সবচেয়ে দূধর্ষ রাশেদুল । তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। অন্য দুই মামমুদুর রহমান ও কাউছার হামিদও পূর্বে থেকেই আনসার উল্যা বাংলা টিমের সদস্য । অন্যদের মধ্যে তিন জন তিনমাস পূর্বে এই দলে যোগ দেন।

জানা গেছে, আটককৃতদের বেশ কয়েকজন নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতার আড়ালে জঙ্গি তৎপরতা চালাতো।

পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির সাংবাদিকদের জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের গ্রেপ্তার হওয়া এই ৭ জঙ্গি পুলিশ ও কাউন্টার টেরিজম ইউনিটের কাছে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে । তিনি জানান, দেশে এযাবত কালে একসঙ্গে ৭ জন জঙ্গি ধরার ঘটনা এই প্রথম। তারা ম‚লত দাওয়াতের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ করে দীক্ষা প্রদান এবং প্রশিক্ষণ দলের সক্রিয় সদস্য। রিমান্ড শেষ হলেও তাদের কার্যক্রমের ওপর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ অক্টোবর শনিবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের কেরোয়া গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো: বাবু ওরফে আবু রায়হানের বিল্ডিংয়ে অভিযান চালায় এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলার গাজীপুর গ্রামের কাউছার হামিদসহ ৭জনকে আটক করতে সমর্থ হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ২টি ল্যাপটপ, ২টি প্যান ড্রাইভ, ৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। যাতে জঙ্গি তৎপরতার বেশকিছু গুরুত্বপ‚র্ণ তথ্য এসবের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়।
পুলিশ জানায়, এসময় তারা গোপন বৈঠক করছিল। এই ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা করে । পরে রোববার তাদের আদালতে নেয়ার পরে মামলার তদন্তাকারী কর্মকর্তা এসআই নাজমুল আদালতের কাছে জঙ্গীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০দিনের রিমাÐ আবেদন করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করে। বৃহষ্পতিবার তাদের রিমাÐ শেষ হয়।

একই রকম খবর

Leave a Comment